বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

জন্মদিনের আয়োজন কী? আজও কাজ করতে হবে?

খুব আয়োজন করে কখনোই জন্মদিন উদ্‌যাপন করা হয় না। যতটুকু পারিবারিকভাবে করা হয়, ততটুকুই। বেশির ভাগ সময় দেখা যায়, জন্মদিনেই শুটিং থাকে। সেই দিক থেকে আমি খুবই সৌভাগ্যবতী। শুটিং ইউনিট আমার আরেকটা পরিবার। তাঁদের সঙ্গে জন্মদিন সেলিব্রেট করতে পারছি, এটাও একটা বড় ব্যাপার। এরই মধ্যে কেক, চকলেট, ফুল আসতে শুরু করেছে। রাতে হয়তো বিশেষ মেনু থাকবে। জন্মদিন উপলক্ষে অন্যরা হয়তো শুটিংয়ে ছাড় দিতে চাইবে। আমি অবশ্য শুটিং করতে চাই। শুটিং অফ রেখে আমার জন্য সবাইকে সাফার করাতে চাই না।

কে প্রথম শুভেচ্ছা জানালেন?

শুটিং ইউনিটের বাইরে ফোনে প্রথম শুভেচ্ছা প্রথম আলোর পক্ষ থেকে আপনিই জানালেন (হা হা হা)। এ ছাড়া আমাকে যাঁরা ভালোবাসেন, তাঁদের অনেকেই শুভেচ্ছা জানাবেন।

জন্মদিন মানে জীবনের নতুন বছরে পদার্পণ। প্রত্যাশা কী?

সুস্থ থাকা। আমরা জীবন নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করি। ভাবি অনেক কিছু করে ফেলব। কিন্তু সুস্থ না থাকলে কিছুই হবে না। অসুস্থ হলেই বোঝা যায় যে সুস্থ থাকা ব্যাপারটা আসলে কী। এত কাজ, দৌড়ঝাঁপ, স্বপ্ন—কোথায় যাবে যদি অসুস্থ হয়ে যাই। আমি ও আমার পরিবারের সবাই যেন সুস্থ থাকে, সেই চেষ্টা করব। এসবের বাইরে কিছু প্ল্যান তো থাকেই। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন সবাই ভালো থাকি, পজিটিভ থাকি। সবার সঙ্গে সবার সম্পর্ক যেন ভালো থাকে। খুব বেশি পরিকল্পনা করে আসলে কিছু হয় না। করোনা মহামারি যে আসবে, আমাদের শেষ করে দেবে, এটা কিন্তু আমরা জানতাম না। অর্থাৎ যেকোনো সময় যেকোনো কিছু হতে পারে। এরপর সময়ের সঙ্গেই এগিয়ে যাব আশা করি।

default-image

ওটিটিতে কাজ শুরু করছেন না কেন?

এটা তো সময়ের দাবি, কাজ করতেই হবে। আমার জন্য এ ক্ষেত্রে জরুরি হচ্ছে প্ল্যাটফর্ম, গল্প ও পরিচালক। একটা ভালো প্ল্যাটফর্মের ফিডব্যাক ভালো হবে। গল্প ভালো হবে, ডিরেক্টর ভালো হবে। চরকির কথাই যদি বলি, মাত্র কিছুদিন আগে এল। ভালো ভালো কনটেন্ট দিয়েছে। এখন স্টারডমের চেয়ে বড় জিনিস কনটেন্ট। কনটেন্টই এখন সুপারস্টার। ভালো কনটেন্টে অনেক কাজ করার থাকে। আমি অপেক্ষায় আছি। তবে আমি ফিল্ম নিয়ে আগ্রহী, সিরিজে নয়।

বিয়ের মৌসুম শীত এসে গেছে। হলিউড–বলিউডের সবাই বিয়ে করছে, সন্তান নিচ্ছে, এসব সেলিব্রেট করছে। আপনি কবে করবেন?

একটা মেয়ের জন্য বিয়ে–মাতৃত্ব এসব আশীর্বাদ। দিন শেষে আমরা সবাই কিন্তু পারিবারিক জীবনটাই চাই। মা–বাবা–ভাই–বোনের পরিবারের বাইরে শিল্পী হিসেবে আমার পরিবার আরও বিস্তৃত। শুটিং ইউনিটও আমার একটা পরিবার। তো সবকিছু মিলিয়ে সময়–সুযোগ ও বাস্তবতা মিলে গেলে আমিও উদ্‌যাপন করব। আমিও মেয়েমানুষ, আমারও এ স্বপ্নগুলো আছে।

মাঝে দীর্ঘ সময় লাপাত্তা ছিলেন। ওই সময়ে নানা রকম খবর, গুজব ছড়িয়েছিল। দেখেছেন সেসব?

দেখেছি। যদিও আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব একটা সরব না। আমার ফেসবুক আইডি বেশ কয়েকবার হ্যাক হওয়ার পর এটা থেকে একটু দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। শুটিংয়ের বাইরে আমি একটু ঘরকুনো হয়ে থাকি। আর কাজের ক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে মানুষের আগ্রহ থাকেই। তাদের পয়েন্ট অব ভিউ থেকে তাদের নানা রকম ইমাজিনেশন থাকে, তারা আসলে জানতে চায়। তাদের কিউরিসিটির জায়গাটা ঠিকই আছে। কিছুদিন না দেখলে, কাজে না থাকলে তাঁরা অনেক কিছু ভাবেন। এটা কিন্তু পজিটিভ। আমি চাই আমাকে যারা ভালোবাসে, তারা আমাকে কাজ দিয়েই জানুক। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে যদি খুব বেশি জানতে চায়, একদিন সব বলে দেব।

default-image

শাকিব খানের সঙ্গে ক্যারিয়ার শুরু করে এখন শাকিবহীন পথচলা শুরু হলো। এবার কি স্বতন্ত্র বুবলীকে পাবে দর্শক?

আমার সংগ্রামটা কিন্তু অনেক জটিল। সবাই হয়তো ভাবে, বুবলীর যাত্রা শুরু হয়েছিল একজন সুপারস্টারের হাত ধরে। খুব মসৃণভাবে সে এগিয়ে এসেছে। আসলে কিন্তু তা না। ২০১৬ সালে দেশের সেরা নায়কের সঙ্গে পর্দায় আমার অভিষেক। সবার চোখ তখন ছিল আমার দিকে। দুজন নতুন ছেলেমেয়ে পর্দায় এলে দুজনের দিকে সমান দৃষ্টি থাকে। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত নায়কের সঙ্গে এসেছিলাম বলে আমার দিকে মানুষের দৃষ্টি ছিল বেশি। প্রতিষ্ঠিত নায়কের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পারব কি না, এ নিয়ে আমার একটা চাপ ছিল! আমার জায়গা থেকে আমি সব সময় শতভাগ চেষ্টা করেছি। আমি ভীষণ পরিশ্রমী। শাকিব খানের সঙ্গে পরপর বেশ কয়েকটি কাজ করেছি। একজন শিল্পী হিসেবে সবার সঙ্গে কাজ করা উচিত। আমি আগেও বলেছিলাম, ভালো গল্প পেলে আমি অন্যদের সঙ্গেও কাজ করব। সময় নিয়েছি এবং আমি সেটা করেছি।

শাকিব খানের সঙ্গে বেশি কাজ করার কারণেই কি আপনাদের নিয়ে গুজব রটেছিল বলে মনে করেন?

একসঙ্গে বেশি সিনেমায় কাজ করলে এ রকম হয়। হলিউড–বলিউডেও এ রকম গসিপ শোনা গেছে। ওনার বাইরে নিরব ভাইয়ের সঙ্গে ‘ক্যাসিনো’, রোশানের সঙ্গে ‘চোখ’, আদর আজাদের সঙ্গে ‘তালাশ’, আবার শাকিব খানের সঙ্গে ‘লিডার’ করেছি। নায়ক–নায়িকার কেমিস্ট্রি দেখে মানুষ একভাবে কল্পনা করে। অন্য হিরোদের সঙ্গে নিয়মিত কাজ করলে অন্যভাবে কল্পনা করবে। এই জিনিসগুলোতে ফোকাস না দিয়ে আমি বরং চরিত্রগুলোতে কীভাবে ঢুকব, সেই দিকে মনোযোগ দিই।

সিলেট থেকে ফিরবেন কবে?

শিগগিরই ফিরব। ফিরেই ‘রিভেঞ্জ’ ছবির শুটিংয়ে যোগ দেব। এখানে আমার বিপরীতে আছে রোশান।

ভক্তদের সঙ্গে জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে পারলে কীভাবে করতেন?

সবার সঙ্গে উদ্‌যাপনের সুযোগ পেলে আমার মনে হয় শোলাকিয়ার মতো বড় একটা খোলা মাঠে চলে যেতাম। রেস্টুরেন্ট বা কোনো বদ্ধ জায়গার বদলে সবাইকে সেখানেই আসতে বলতাম। যারা আমাকে ভালোবাসে, কম ভালোবাসে, সবার হাতে আমি নিজ হাতে ফুল তুলে দিতাম। যখন শুটিংয়ে যাই, দূরদূরান্ত থেকে কত মানুষ দেখতে আসেন। তাঁরা কাছে আসতে চান, ছবি তুলতে চান। শুটিংয়ে সেটা সম্ভব হয় না বলে মন খারাপ হয়।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন