লকডাউনের আগে অভিনেত্রী তারিন জাহান শেষ করেছেন ঈদ ধারাবাহিক রূপকথার কাজ। জাহিদ হাসানের সঙ্গে সম্প্রতি বিটিভির নাটকে অভিনয় করেছেন তিনি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি সিনেমায় কাজ করে এসেছেন। কাজ ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তাঁর সঙ্গে।
default-image

সর্বশেষ শুটিং করলেন ‘রূপকথা’ নাটকে, এটিতে কি ধরনের চরিত্রে আপনাকে দেখা যাবে?

রূপকথা নামের একটি মেয়েকে কেন্দ্র করেই নাটকের গল্প। আমার সিক্স সেন্স প্রবল। অনেক বছর আগে আমার প্রিয়জন হারিয়ে যায়। এখনো আমি চারপাশে আমার সেই প্রিয় মানুষের শরীরের গন্ধ পাই। কিছু রহস্যজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে গল্প এগিয়ে যায়।

এখন কি শুটিং করছেন?

এই মুহূর্তে করছি না। এখন বাসায় আছি। কিছুটা অসুস্থ।

কি হয়েছে?

টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছি। সেটার কিছুটা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়তো। হালকা জ্বর বোধ করছিলাম, এখন অনেকটাই ভালোর দিকে।

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবচেয়ে বেশি ভাবায় কী?

আমরা অনেক গুণী মানুষকে হারিয়েছি। একটা মানুষের জন্মানো সহজ, কিন্তু গুণী মানুষ হয়ে বেড়ে ওঠা কঠিন। বটবৃক্ষতুল্য সেই মানুষগুলো যখন কিছু মানুষের অসচেতনায় করোনায় চলে যায়, তখন খুবই খারাপ লাগে। অপ্রত্যাশিত এই মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না। সবাইকে বলব, আপনারা একটু সচেতন হোন। বিবেকবোধকে জাগ্রত করুন।

বিজ্ঞাপন
default-image

শুনেছি জাহিদ হাসানের সঙ্গে বিটিভির ধারাবাহিকে কাজ করলেন।

আমরা একসঙ্গে অনেক প্যাকেজ নাটকে অভিনয় করেছি। আমরা তো বিটিভিরই শিল্পী। কিন্তু বিটিভির কোনো ধারাবাহিকে একসঙ্গে অভিনয় করা হয়নি। জাহিদ হাসানের ডিরেকশনে অনেক অভিজ্ঞ শিল্পী একত্রে কাজ করছি। নতুন নতুন অভিজ্ঞতা হচ্ছে। কাজটি করেও আমিও হ্যাপি। আপাতত শুটিং বন্ধ আছে।

আপনাদের তখনকার দিনের নাটক আর এখনকার নাটকের পার্থক্য করতে পারেন?

কিছু পার্থক্য তো আছেই। আগে আমরা একটি নাটকের শুটিংয়ের আগে তিন-চার দিন রিহার্সেল করতাম। নির্মাতাসহ সবাই থাকতেন। অ্যাকটিংয়ের লেভেল বোঝা যেত। তখন কার কী কস্টিউম হবে, কে কী চরিত্রে অভিনয় করছেন, সেসব আগে থেকে জানা যেত। এতে একটা সুবিধা হতো। প্রত্যেকেই আগে থেকে চরিত্রের মধ্যে থাকতেন। অভিনয় তখন ছিল একটা প্যাশনের জায়গা। এখন সবাই অনেক প্রফেশনাল হয়ে গেছে। নাটকের প্রতি ভালোবাসার কোথায় যেন একটা ঘাটতি দেখা যায়। দায়সারা কাজই বেশি হয়। এখন কাজে প্রচুর তাড়াহুড়া থাকে, সংলাপ বলতে পারলেই হলো। আগে-পরে ইমোশন আছে কি না, সেদিকে কোনো গুরুত্ব নেই।

default-image

অতীতের নাটকগুলো দর্শক অনেক পছন্দ করতেন, কেন?

গল্প! অভিনয় ভালো ছিল। রিহার্সেলে সব চরিত্র সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকত। সবার অ্যাকটিং লেভেল বোঝা যেত। লাইটম্যান, ক্যামেরাম্যান থেকে শুরু করে প্রত্যেকে যদি সিনসিয়ারলি নিজের কাজটা করতেন। এ জন্য অনেক সাধারণ কাজও দর্শকের মনে গেঁথে আছে। সবার ইনভলভমেন্টে একটি ভালো কাজ হয়। যে কারণে নাটকগুলো দর্শক পছন্দ করতেন। এ জন্য আগে কাজ করতে অনেক ভালো লাগত। টিমগুলো ছিল একটি পরিবারের মতো। এখন সবাই ইনভলভ না থাকায় ভালো গল্পগুলোও মাঝেমধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। কার আগে কে শেষ করতে পারে, সেটা নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়। সবকিছু না মিললে আমি কাজ করতে পারি না।

আপনি কি চিত্রনাট্য ছাড়া অভিনয় করেন?

চিত্রনাট্য ছাড়া আমি শুটিং সেটে যেতে পারি না। আমাকে জানত হবে আমি কোন ভূমিকায় অভিনয় করছি। সেটার জন্য আমার মানসিক একটা প্রস্তুতির দরকার আছে। আমি যা নই, ক্যামেরার সামনে সেই চরিত্রে অভিনয় করতে হয়। চরিত্রটি কোনো না কোনো দর্শকের সঙ্গে মিলে যাবে। দর্শক আমার মধ্য দিয়ে সেই চরিত্রের সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন। এটা সহজ কাজ নয়। এখন দেখা যায় অনেকে চিত্রনাট্য ছাড়াই শুটিংয়ে যান। আমি হয়তো তাঁদের মতো ট্যালেন্টেড নই।

বিজ্ঞাপন
default-image

শুটিংয়ের সময়ও শুনেছি বাবা খবর নিতেন? তিনি তো চলে গেলেন!

আমার বাবা যত দিন সুস্থ ছিলেন, তত দিন কোথায় শুটিং করছি, তিনি জানতেন। বাবা চিন্তা করতেন। সে জন্য শুটিংয়ে যাওয়ার আগে বলে যেতাম। রাত ১০টা বাজলেই বাবা ফোন দিয়ে বলতেন, মা, তুমি কখন আসবে, দেরি হবে? বাবা যখন অসুস্থ হন, তখন বাবার ফোন খুব মিস করতে শুরু করি। আমি বাসায় না আসা পর্যন্ত বাবা ঘুমাতেন না। এখন বাবার জন্য মনটা অস্থির লাগে। সবাইকে অনুরোধ করব, মা-বাবা, পরিবারকে সময় দিন।

কলকাতার সিনেমাটি কী অবস্থায় আছে?

শুটিং গত বছর শেষ হয়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলেই ডাবিং করতে যাব।

default-image
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন