বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ছবিটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?

একটি গল্প বলি। ছবিটি ‘টফি’ নামে একটি অ্যাপ কিনেছে। এর কনটেন্ট হেড ছবিটি দেখার পরে আমাকে ফোনে বলেন, ‘তারিক ভাই, ছবিটি দেখে আমি কেঁদেছি। এই ছবিটি আমি কিনছি।’ প্রথম থেকেই ছবিটির প্রতি মানুষের ইমোশন কাজ করেছে। বড় কথা, এই ছবিতে গল্পটা বোঝা যায়, গল্পে বাবা-ছেলের কষ্টটা বোঝা যায়। আমার ধারণা, সাধারণ দর্শক যাঁরা সিনেমা হলে গিয়ে ছবিটি দেখবেন, তাঁদের ভালো লাগবে। ছবিটি দেখে বঞ্চিত হবেন না। কারণ, এখানে কমেডি আছে, ফ্যামিলি মোমেন্টস আছে, কান্না আছে, হাসি আছে, মেসেজ আছে। ছবিটি একটা ফুল এন্টারটেইনমেন্ট প্যাকেজ।

ছবির গল্পের মতো নিজের ছেলের সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটেছে?

আমার ছেলের সঙ্গে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে। ছবিতে যেমন সিয়াম তার ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবে। আমার ছেলেও এমন। আবার হঠাৎ হঠাৎ তার স্ত্রীকে নিয়ে ছেলে রাতে বাইরে ঘুরতে যাচ্ছে। বাবা হিসেবে আমি টেনশন করছি, তাকে নিয়ে ভাবছি। আবার গাড়ি নিয়ে যখন বের হচ্ছে, আমি হয়তো তাকে বলছি সাবধানে যেতে।

প্রিমিয়ার শোর পরে আপনাকে কাঁদতে দেখা গেছে...

শুটিং শেষে ছবির ডাবিং হয়। আমি ছবিটি দেখে, ওই ফিল নিয়ে ডাবিং শুরু করেছিলাম। শেষ দৃশ্য বটেই, ডাবিং করতে বসে আরও তিন–চার জায়গায় আমার নিজের চোখ ভিজে গেছে। প্রিমিয়ারে দেখার সময় এবং দেখার পরে একই অবস্থা হয়েছে আমার। আমি ছবিটিতে কাজ করেছি বলে নয়, ছবিটির অনেক মোমেন্টে কোনো কোনো দর্শক তাঁদের জীবন মিলিয়ে নিতে পারবেন।

default-image

ছবির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?

ছবির পরতে পরতে অভিজ্ঞতা হয়েছে। আদালতের একটি দৃশ্য ধারণ করার পরে আমি, সিয়াম ও নোভা—সবাই কেঁদেছি। এমনকি ক্যামেরার ক্রুদেরও চোখে পানি দেখেছি। এক অদ্ভুত দৃশ্য তৈরি হয়েছিল সেদিন।

চিত্রনাট্যটি হাতে পাওয়ার পরে এই চরিত্রটির জন্য বাস্তবের কোনো চরিত্রের সন্ধান করেছেন কি?

ঠিক ওই চরিত্রটির মতো নয়। আমি জীবন–বিচ্ছিন্ন মানুষ নই। আর চরিত্র জীবন থেকে আসে, পর্যবেক্ষণ থেকে নেওয়া হয়। সুতরাং চরিত্রের সন্ধান থাকতেই পারে। বাস্তবে মানুষের কপি করার বেশ প্রবণতা আছে আমাদের পরিবারে। ছবিতে এই চরিত্রের মধ্যে আমার বাবার কিছু প্রভাব আছে। আমি ছবিতে পেছনে হাত রেখে হাঁটাহাঁটি করি। আমার বাবাকে অনেক সময় এভাবেই হাঁটতে দেখেছি। আর বাকিটুকু কাল্পনিক।

থিয়েটারেও আপনাকে ইদানীং দেখা যাচ্ছে না...

আমি সর্বশেষ নাট্যকেন্দ্র থেকে ‘গাধার হাঁট’ ও ‘বন্দুকযুদ্ধ’ নামে দুটি নাটকের নির্দেশনা দিয়েছি। তা–ও বছর তিনেক আগে হবে। এরপর আর কাজ করিনি। আমাদের গ্রুপ থিয়েটারের বয়স পঞ্চাশের কাছাকাছি। একসময় যে আবেগ নিয়ে থিয়েটার করতাম, সময়ের পরিবর্তনে তা পাল্টে গেছে। এখন থিয়েটার নিয়ে একটু অন্য রকমের ভাবনা ভাবতে হবে। মঞ্চের আবেগ অন্য জায়গায়, যতই ক্ষোভের কথা বলি, ছেড়ে যাওয়া যাবে না। ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাসহ(এনএসডি) দীর্ঘ থিয়েটার–জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে একটা একাডেমি করতে চাই। থিয়েটারের জন্য একটা ভিন্ন জায়গা তৈরি করতে চাই। যেখানে উৎসাহী তরুণদের নিয়ে নিয়মিত কাজ করা যাবে।

ওটিটির নানা কনটেন্টে কাজ করেন আপনি। এর ভবিষ্যৎ কেমন?

আমি আশাবাদী। কিন্তু ওটিটির কাজ দেখে কেউ কেউ সমালোচনা করেন। এত কথা বলার দরকার নেই। কেবল শুরু হয়েছে। তাই শুরুতে এখানকার কাজকে ইতিবাচকভাবেই দেখা উচিত। ওটিটির কাজে বাজেট, গল্প ভালো থাকে। মোটকথা, এখানে উপযুক্ত পরিকল্পনা করে কাজ হয়। তা ছাড়া ওটিটির মাধ্যমে আমাদের কাজ পৃথিবীব্যাপী ছড়িয়ে যাচ্ছে। এটি বড় ব্যাপার। অনেকে আছেন সিনেমা হলে যান না। বাসায় বসে ওটিটিতে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। ওটিটির কল্যাণে আমাদের কাজের দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।

default-image

আপনার অভিনয়ের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। কিন্তু সিনেমা বা নাটক নির্মাণ করেন না কেন?

প্রথমত, আমি অভিনয়কে ভীষণভাবে উপভোগ করি। তবে নির্মাণ না করলেও শুটিং সেটে আমার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাই। আমার সঙ্গে সংলাপ না থাকলেও অনেক সময় সহশিল্পীকে সহযোগিতা করি। আমার দীর্ঘদিনের এই অভিজ্ঞতা শেয়ার করার কারণে ইন্ডাস্ট্রির লাভই হয়। আমাদের এখানে পরিচালকের পরিশ্রমটা অনেক বেশি। সেই তুলনায় ইন্ডাস্ট্রি মূল্যায়ন করে না, ফিডব্যাক কম দেয়। এখন অনেক ভালো ভালো পরিচালকই এই শহরে টিকে থাকার জন্য ইউটিউব চ্যানেল খুলে সেখান থেকে আয়ের কথা ভাবছেন, অনেকে শুরুও করেছেন। এতে ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি হয়েছে। তবে আমি অবশ্যই নিজের সিনেমা নির্মাণ করতে চাই—সেই স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা আমার আছে।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন