পুলক অধিকারী
পুলক অধিকারীছবি:সংগৃহীত
ভালোবাসা দিবসে ‘রব জানে’ শিরোনামে নতুন একটি গান প্রকাশ করেছেন এ প্রজন্মের সংগীতশিল্পী পুলক অধিকারী। গানটি প্রকাশের পর হুমকি পেয়েছেন তিনি। এরপরও থেমে থাকেনি তাঁর গান প্রকাশ। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসেও একাধিক গান প্রকাশিত হয়েছে। কাজ চলছে স্বাধীনতা দিবসের কয়েকটি গানের। এরই মধ্যে অনন্য প্রতিভা শিরোনামের রিয়েলিটি শোতে প্রাথমিক বাছাইয়ে বিচারকের কাজটিও করে যাচ্ছেন। এসব নিয়ে সম্প্রতি কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

‘রব জানে’ গানটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ার কারণ কী বলে মনে করছেন?

এই গানে দুই ধর্মের দুজন তরুণ–তরুণীর প্রেমকাহিনি দেখানো হয়েছে। এটার কারণে একটা গ্রুপ চরম আপত্তি জানিয়েছে। আমাকে ফেসবুকে হুমকি দিয়েছে। আমার স্ত্রীর ছবি জুড়ে দিয়ে নানা ধরনের আপত্তিকর কথাবার্তাও বলে যাচ্ছে। আমি তাঁদের কট্টর মানুষ হিসেবে দেখছি। অথচ এই গানের ভিডিওতে সম্প্রীতির সুন্দর একটা গল্প দেখিয়েছি। শুরুতে দুই ধর্মের দুজন তরুণের বন্ধুত্ব দেখানো হয়। এক বন্ধুর ধর্মচর্চার স্থানে গিয়ে একদিন একজন মেয়েকে ভালো লাগে। একদিন দুর্ঘটনায় মেয়েটি তাঁর বাড়িতে মারা যান। মেয়েটার যেদিন সৎকার হচ্ছিল, তখন ছেলেটা দূরে দাঁড়িয়ে নিজের ধর্ম অনুযায়ী প্রার্থনা করে। সেই ছেলের চরিত্রে আমি অভিনয় করেছি। এখানে কিন্তু আমি সম্প্রীতি ছাড়া আর কিছুই দেখছি না।

বিজ্ঞাপন

কট্টর মানুষ বলতে আপনি কী বুঝাচ্ছেন?

মানুষের সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গি থাকা চাই। দৃষ্টিভঙ্গি যাদের একপক্ষীয়, তারাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় কট্টরপন্থী। কোনো কিছু না বুঝে তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চায়। কট্টর মানুষগুলো যে ধর্মেরই হোক, তারা সমাজ ও দেশের জন্য ক্ষতিকর। প্রগতিশীল চিন্তার ক্ষেত্রে তারা সবচেয়ে বড় অন্তরায়। ইউটিউব বা ফেসবুকে যারা আমাকে অকারণ গালাগালি করছে, তারাও কট্টরপন্থী। ফোন দিয়ে একজন আইনজীবীও আমাকে বলেছেন, এই গানটা না সরালে আইনি ব্যবস্থা নেবেন। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সবাইকে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখাতে দেখেছি। আমি সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বলেছি, আপনারা পুরো গানের ভিডিওটা দেখুন, এরপর যদি কোনো অসংগতি পান, তাহলে আমার বিরুদ্ধে যে ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিতে চান, নিতে পারেন। আমিও আমার অবস্থান থেকে আইনিভাবে সুরক্ষা নেব। এভাবে অকারণ আমাকে ফেসবুকে বা ইউটিউবে এভাবে গালাগালি বা হুমকি দেওয়া, পরিবারকে জড়িয়ে বিব্রত করার কোনো অধিকার কারও নেই। আমাকে যদি বাংলাদেশের প্রশাসন থেকে বলা হয়, এই গানে ধর্মে ধর্মে ভেদাভেদ তৈরি করেছি, গানটা সরিয়ে ফেলতে হবে, তাহলে অবশ্যই আমি নামিয়ে ফেলব।

default-image

এমন ঘটনায় কি আপনি ভীত?

আমার তো মনে হয়, আমি আরও সাহস সঞ্চয় করেছি। সত্য এবং সততার শক্তি নিয়েই আমি আছি। একজন শিল্পী সবার, তিনি কোনো ধর্মের, গোত্রের, বর্ণের না। আমি একজন শিল্পী। গানে গানে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি, ভালোবাসা এবং অন্যায়–অনিয়মের কথাই বলে যাব। আমি সব মানুষের জন্য গান গাইতে চাই।

ভাষা দিবসকে ঘিরে প্রথমবার কোনো গান গাইলেন। কোন ভাবনা থেকে এমন গান তৈরি করলেন?

বাংলাদেশের ওই সময়টা দেখিনি। কিন্তু পড়াশোনা করতে গিয়ে এই সময়টাকে বুকে ধারণ করেছি। মুক্তিযুদ্ধের গল্প পড়েছি, কাহিনি শুনেছি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মজীবনী পড়েছি। এসব পড়তে কিংবা জানতে গিয়ে চেতনা অন্তরে ধারণ করেছি। আমার মনে হয়, যাঁদের জন্য আমরা বাংলা ভাষা পেয়েছি, দেশ পেয়েছি, তাঁদের জন্য শিল্পী হিসেবে গানে গানে সেই সব গল্প বলে যাওয়াটা দরকার আছে। ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই গানটা করেছিলাম। ২৬ মার্চ উপলক্ষে একটা গান তৈরি করেছি, ভিডিওর কাজ শেষ। এটা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। ১০ বছর আগেই গানটা তৈরি করেছিলাম। নানা কারণে তা প্রকাশ করতে পারিনি। এই গানে আমরা ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি’—ওই কথার উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমাদের প্রজন্মের প্রতিনিধি হিসেবে বলেছি, ‘আবার এসেছে অমর একুশে রক্তে রাঙানো দিন। চেতনার আঁধারে আলো জ্বেলে আছে—ভাষা শহীদের ঋণ। ভুলিনি আমরা, ভুলব না। ভুলব না কোনো দিন। জীবন দিয়ে করেছে যাঁরা মায়ের ভাষা স্বাধীন।’ এই গানের সুরটাও আমারই করা।

default-image
বিজ্ঞাপন

বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি, আপনি সুর করছেন? দেশের গানের সুর করার সময় কী অনুভূতি হয়?

দেশের গানে সুর করার সময় গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। মনের ভেতর থেকে আলাদা একটা শক্তি আসে। ২৬ মার্চের জন্য যে গানটা করছি, তা তুমি কে আমি কে, বাঙালি বাঙালি—এই স্লোগান দিয়েই গানটার শুরু হয়েছে। আলাদা অনুভূতি অনুভব করি—যেটা বুঝিয়ে বলা মুশকিল। সিনেমার গানের সুর যখন করি, সেটার অনুভূতি আবার অন্য রকম।

default-image

গাইবার পাশাপাশি সংগীত পরিচালনার কাজটিও করছেন।

পেশাদারভাবে সুর করা শুরু করেছি, বছর দুয়েক ধরে। যখন আমি অনার্স পড়ি, তখনই গান লিখি ও সুর করি। ছোটবেলায় ক্লাস নাইনে থাকতেই আমার ইচ্ছা ছিল গীতিকার ও সংগীত পরিচালক হব। তখন টেলিভিশনে গানের সময় দেখতাম, লেখা থাকত লিটন অধিকারী রিন্টু। ওটা দেখে আমি আমার নাম পুলক অধিকারীর পেছনে নিজেই যোগ করেছিলাম, পুলক অধিকারী পিন্টু। তখন থেকেই লেখা বা সুর করার ইচ্ছাটা। আমার গাইতে যতখানি ভালো লাগে, লিখতে এবং সুর করতে আরও ভালো লাগে।

সুর করার বিষয়টা নিজের মধ্যে এল কীভাবে?

যেহেতু আমার বাবা গৌরাঙ্গ লাল অধিকারী একজন সংগীতের ওস্তাদ, সেই হিসেবে সুর করার ব্যাপারটা জন্মগতভাবেও আছে বলতে পারেন। বাবার কাছেই গানের হাতেখড়ি। আমার ইচ্ছাই ছিল একজন সংগীত পরিচালক হব। ঘটনাক্রমে গায়ক বনে গেলাম। এখন থেকে গাইবার পাশাপাশি আমি পুরোদমে লিখব ও সুর করব।

সংগীতাঙ্গনে একটা কথা প্রায়ই শোনা যায়। একজন গায়ক যখন একই সঙ্গে সংগীত পরিচালক হন কিংবা একজন সংগীত পরিচালক যখন গায়কও হন, তখন ভালো কোনো সুর কিংবা কথা হলে সেই গান নিজেই গেয়ে ফেলতে চান বা গেয়ে থাকেন।

এটা সত্য। আমি অস্বীকার করব না, এই ধরনের প্রবণতা অনেক বেশি থাকে। একজন সংগীত পরিচালক ও শিল্পী অন্য কোনো শিল্পীর কথা ভেবে গান তৈরি করলে, শেষে গানটি যদি ভালো হয়ে যায়, তখন নিজেই গেয়ে ফেলে থাকেন, যা আসলে ঠিক নয়। আমার ক্ষেত্রে এটা হবে না। আমার ইচ্ছা, গানটি তৈরির পর যাঁর কণ্ঠে মানাবে, তাঁকে দিয়েই গাওয়ানোর। এতে করে গানের প্রতি সুবিচার করা হবে। আমার প্রায় আড়াই শ গান লেখা ও সুর করে তৈরি করা আছে। এগুলো ধীরে ধীরে প্রকাশ করব, আমার ইউটিউবে।

default-image

আপনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, নিজের তৈরি গান নিজের ইউটিউবে প্রকাশ করবেন। গান পৃষ্ঠপোষক অনেক প্রতিষ্ঠান তো আছে। সেখানে নয় কেন?

আমার তৈরি কোনো গান দেব না। পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান যদি আমার কাছ থেকে চেয়ে নেয়, তাহলে সঠিক সম্মানী পেলে অবশ্যই তাদের জন্য গান তৈরি করব।

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আপনার গান বিনিময়ের অভিজ্ঞতা তাহলে খুব একটা ভালো নয় মনে হয়।

মোটেও ভালো নয়। আমরা শিল্পীরা বঞ্চিত। আমরা কিন্তু জানি, কোন গানে কী পরিমাণ ব্যবসা হয় বা হচ্ছে। কিন্তু কোম্পানি, তৃতীয় পক্ষের কাছে আমরা জিম্মি। একজন শিল্পী অনেক শ্রম ও মেধা খরচ করে একটি গান বানান। শিল্পীই সব করছেন। এরপর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানকে ফ্রি দিতে হয়। ১০ বছরে একটি গান অনেক ব্যবসা করলেও শিল্পী হিসেবে আমাকে ধরিয়ে দেওয়া হয় ৮১২ টাকা বা এক–দুই হাজার টাকা। আমি ২০১১ সালে অ্যালবাম বের করেছি। দেখা গেছে, ২০১৯ সালে ৮১২ টাকার হিসাব দিয়েছে। অথচ এই অ্যালবামে মাওলা, আলগা করো গো খোঁপার বাঁধন, যাযাবর এর মতো গান রয়েছে। আমি যখন দেশের আনাচকানাচে স্টেজ শো করতে যাই, তখন এসব গানের অনুরোধও আসে। এমনকি গানগুলোর প্রশংসা করেন। একজন তরুণ শিল্পী কত দিন নিজের পকেটের টাকা খরচ করে গান তৈরি করবেন। ধৈর্য, সাপোর্ট লাগে। এসব না থাকা সত্ত্বেও এত দূর এসেছি। সবাই তো তা পারবে না। দেখা যাবে, মেধাবী শিল্পীদের অনেকে হতাশ হয়ে পেশাও বদল করে ফেলেন। এতে সংগীতাঙ্গনের আলটিমেটলি ক্ষতি হয়। গান থেকে রেভিনিউ পেলে তা শিল্পীর বাঁচার জন্য দরকার নেই, আরেকটা নতুন গান সৃষ্টির পেছনে বিনিয়োগ করতে পারে। বাঁচার জন্য কিন্তু স্টেজ শো আছে।

default-image

কিন্তু বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তো ঠিকই দেখছি, শিল্পীদের পেছনে বিনিয়োগ করছেন।

আমাদের অডিও প্রতিষ্ঠান আর পাইকারি বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী একই। এরা শুধুই ব্যবসা বোঝে, সামাজিক কোনো দায়িত্ববোধ নেই। শিল্পের প্রতি কোনো দায়বোধ নেই। যেখান থেকে টাকা আসবে, সেখানেই টাকা ঢালবে। এদের যদি হিরো আলমে ব্যবসা হয়, তাঁকে দিয়ে গান গাওয়াবে, আর প্রতিষ্ঠানের ফেক ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম থেকে তা আপলোড করে।

বিজ্ঞাপন

এতে আপনার সমস্যাটা কোথায় হচ্ছে বলে মনে করছেন?

আমাদের তো কিছু জায়গায় দেশ, সমাজ, রাষ্ট্রের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে। দেশ, সমাজ কিংবা রাষ্ট্রের যেকোনো প্রয়োজনে শিল্পীরাই কিন্তু সবার আগে দাঁড়ান। আমরা কথা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করুক, একই সঙ্গে সত্যিকারের শিল্পী এবং শিল্পের প্রতিও তাদের দায়বোধ থাকতে হবে। প্রথম আলোর কথাই ধরুন, কেন পত্রিকার বাইরেও সামাজিক দায়বদ্ধতার কাজ করে? তারা তো শুধু খবর প্রচার বা প্রকাশ করলেই হতো। কিন্তু প্রথম আলো নানা ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এটা আমি বছরের পর বছর দেখে আসছি। এটাই কিন্তু সংবাদমাধ্যমের সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতা। এই দায়িত্বশীলতা শিল্প নিয়ে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানেরও অবশ্যই থাকতে হবে। এখনকার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের এই দায়িত্ববোধ একেবারেই নেই।

default-image

ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ, এই প্রতিযোগিতা থেকে বের হয়েছেন ১৫ বছর হতে চলল। কেমন ছিল পথচলা?

আমি ২০০৬ সালে ক্লোজআপ ওয়ান তোমাকেই খুঁজছে বাংলাদেশ প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়েই পেশাদার সংগীতজগতে এসেছিলাম। ২০১১ সাল পর্যন্ত খুব অসহায় জীবন যাপন করেছি। এই সময়টা আমার খুব কষ্টে কেটেছে। সাপোর্ট দেওয়ার মতো কেউ ছিলেন না। কুয়োর ব্যাঙ সমুদ্রে এলে যেমন মনে হয়, আমার অবস্থা তেমনই ছিল। এত সমস্যায় ছিলাম যে অনেকে চাকরির প্রস্তাবও দিয়েছিলেন। আমি ধৈর্য ধরেছি, কষ্ট করেছি—হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন শওকত আলী ইমন ভাই (সুরকার ও সংগীত পরিচালক)। তিনি সে সময় আমার দিকে সহযোগিতার হাত না বাড়ালে জীবন যে কী হতো জানি না। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। চলচ্চিত্রে যে আড়াই শর ওপরে গান গেয়েছি, তা ইমন ভাইয়ের কারণে সম্ভব হয়েছে। আমার সংগীতজীবনে প্রতিষ্ঠার পেছনে তাঁর অনেক অবদান আছে।

বর্তমান কাজের খবর বলুন।

অনেকগুলো গানের কাজ চলছে। গেল ভালোবাসা দিবসে ‘বিফলে মূল্য ফেরত’ নাটকের টাইটেল গান গেয়েও বেশ সাড়া পেয়েছি। সিনেমার গানও গাইছি।

সিনেমার গান এখন কেমন গাইছেন?

এখন সিনেমার গান গাওয়া কম হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সিনেমার গান ভারত থেকে করিয়ে আনা হচ্ছে। মাঝে এই প্রবণতা বেশি ছিল, এখন কিছুটা কমেছে। আমার কণ্ঠে সুফি, কাওয়ালি বা সিচুয়েশনাল গান বেশি মানায়। রোমান্টিক গান খুব একটা হয় না। তাই আবার অন্যদের তুলনায় আমার গাওয়া গান কম।

যেসব ধরনের কথা বললেন, এর বাইরে কোন ধরনের গান গাইতে আগ্রহী?

আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে, রক ধাঁচের গান গাওয়া। একই সঙ্গে ক্ল্যাসিক্যালের একটা মিশ্রণ থাকবে।

default-image

যদি কখনো দ্বৈত গান গাইবার সুযোগ হয়, কাকে বেছে নেবেন?

একজন শ্রেয়া ঘোষাল আরেকজন রাহাত ফতেহ আলী খান। এঁদের দুজনের সঙ্গে গাইবার খুব ইচ্ছে।

default-image

আপনাকে দেখছি, একটি রিয়েলিটি শোর প্রাথমিক বাছাইয়ে চট্টগ্রাম সিলেট, খুলনা, বরিশাল ঘুরছেন। এই আপনিও ১৫ বছর আগে এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। কেমন অনুভূতি হচ্ছে?

এটা একেবারেই অন্য ধরনের অভিজ্ঞতা। বারবার নস্টালজিক হচ্ছি। ফিরে যাচ্ছি ১৫ বছর আগে আমার সেই সময়ে। ওই সময়টায় আমার মধ্যে ভয় কাজ করছিল। আমি কিন্তু তাই এখন যারা প্রতিযোগী, তাদের ভয়টা দূর করে দেওয়ার চেষ্টা করছি। মনোবল বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। সব প্রতিযোগীর সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে যাচ্ছি। আমি যা ফেস করেছি, এখনকার প্রতিযোগীরা তা যেন না করে। কনফিডেন্ট যেন থাকে। আমার কাছে মনে হয়, অনেকের মেধা থাকে, কিন্তু কনফিডেন্সের অভাবে আগাতে পারে না। অসাধারণ সব প্রতিভা পাচ্ছি। সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা পেলে ওরাও আগামী রাঙাতে পারবে।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন