বিজ্ঞাপন

এই অঙ্গনে কাজ নিয়ে কি ভীতিকর কোনো পরিস্থিতি হয়েছিল?

মনে কষ্ট ছিল। অনেক ভালো নির্মাতা কাজের জন্য ডাকছিলেন না। হয়তো আমাকে নিলে ভিউ হবে না ভেবে। আমিও দুই বছর ধরে আমার কাজ মানুষকে দেখাতে অনেক চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু কোনো কাজই দর্শকের কাছে সেই অর্থে যাচ্ছিল না। অনেক কাজ আমাকে হতাশ করেছে। কাছের অনেকেই বলেছিল নাটকের বর্তমান স্রোতে গা ভাসাতে। আমি সে পথে হাঁটিনি। দীর্ঘদিন পর আমার অভিনীত ‘মায়া, যদি আমি না থাকি’ ‘এক ভাই চম্পা’সহ বেশ কিছু কাজ নিয়ে মানুষ অনেক প্রশংসা করেছে। এগুলো ভিউনির্ভর কাজ নয়। কাজগুলোর জন্য তিন দিন ধরে একাধিক নির্মাতা ও সহকর্মীর ফোন পেয়েছি। অনেকেই ভালো কাজের অনুপ্রেরণা দিয়েছেন। এবারের ঈদ আমাকে নতুন করে কাজ করার শক্তি ও সাহস দিল। মনে হলো আমি সঠিক পথেই আছি।

সবচেয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক কথাটি কী ছিল?

তারিক আনাম খান স্যারের সঙ্গে একটি নাটক করেছি। নাটকটি প্রচারের সময় আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে স্যারের অভিনয় দেখছিলাম। হঠাৎ তিনি আমাকে ফোন করে বললেন, ‘তুই তো ভালো করেছিস। তোর অভিনয় শেষ পর্যন্ত অসাধারণ হয়েছে। গড়পড়তা এই কাজের সময়ে ফাইট করে যা, আরও ভালো করবি।’ কথা বলতে গিয়ে ইমোশনাল হয়ে পড়েছিলাম। স্যারের অনুপ্রেরণায় মনে হলো ঈদের সেরা উপহার পেয়ে গেছি।

default-image

ভিউ দেখে কাজ হচ্ছে, অনেকেই স্রোতে গা ভাসাচ্ছেন, এমন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার সংগ্রামটা কেমন?

অভিনয় নিয়ে আমার যে স্বপ্ন, তা থেকে এখনো আমি অনেক দূরে। অনেক কাজের ভিড়ে টিকে থাকার জন্য অনেকেই ভিউকে অবলম্বন করে একটু চটুল গল্পে কাজ করতে বলেন। এখন ভিউ ছাড়া কেউই যেন কিছু ভাবতে চাইছে না। কিন্তু দিন শেষে সবাই যদি ট্রেন্ডি কাজ করি, তাহলে তাহলে নিজেকে আলাদা করতে পারব না। আমি নিজের মতো করে কাজ দিয়ে ভাবমূর্তি তৈরি করতে চেয়েছি। দর্শক যেন আমাকে আলাদা করে চেনেন। অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। এখন অনেকেই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কাজের জন্যও ডাকছে। হয়তো ভালো একটি সিনেমা বা অন্য ধরনের গল্প পেয়ে যাব।

সিনেমা নিয়ে ভাবনা কী?

২০১৪ সালে ক্যারিয়ার শুরুর সময় এক্সপেরিমেন্টাল সিনেমায় অভিনয় করেছিলাম। এখন সিনেমার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। গুণী কয়েকজন নির্মাতার সঙ্গে কথা হচ্ছে। আশা করি শিগগিরই একটা সুখবর দিতে পারব।

নাটক ফেসবুকে আলোচনা হয়, এগুলো দেখেন?

দেখি। কারণ, আলোচনা–সমালোচনা থেকেই বুঝতে পারি আমার কাজে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। ভার্সেটাইল অভিনেতা হওয়ার জন্য সবার মন্তব্য অনেক কাজে দেয়।

default-image

ঈদ কেমন কাটালেন?

বরাবরের মতো আমি মা–বাবার সঙ্গে ঈদ করতে চট্টগ্রাম এসেছি। করোনার কারণে ঘর থেকে খুব বেশি বের হইনি। পরিবারকে সময় দিচ্ছি। বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা হলো। আর নিজের অভিনীত কাজগুলো দেখে ভুলগুলো বোঝার চেষ্টা করছি। এভাবেই সময় কাটাচ্ছি।

অভিনয়ের কারণে আপনার পরিচিতি বেড়েছে। বন্ধুরা কী বলে?

ওই অর্থে আমার তেমন কোনো সার্কেল নেই। ঈদের ছুটিতে কিছু বন্ধু বাসায় এসেছিল। তাদের সঙ্গে কাজ, ব্যক্তিগত জীবন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা হলো। তারা আমাকে নিয়ে গর্ব করে। কাজের প্রশংসা করে। এটা কাজ করতে উৎসাহ দেয়। আমি সব সময় সাধারণ একজন ইরফান হয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলি। রাস্তার একজন সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করি।

default-image

বিরতি শেষে কাজে ফিরবেন কবে?

ঢাকায় গিয়ে একটি বিজ্ঞাপন দিয়ে কাজে ফিরব। আগামী ঈদের কাজ নিয়ে সবার সঙ্গে কথা হচ্ছে। শিগগিরই পরিস্থিতি বুঝে ঈদ নাটকে কাজ শুরু করব।

default-image
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন