default-image
>

বরেণ্য অভিনয়শিল্পী ও সাংসদ সুবর্ণা মুস্তাফার জন্মদিন ছিল গতকাল সোমবার। এ উপলক্ষে তাঁর সঙ্গে কথা হয়। জন্মদিন উদযাপনের অনুভূতি এবং নাটক ও সিনেমার নানা দিক নিয়ে তাঁর ভাবনার কথা জানান প্রথম আলোকে।

শুভ জন্মদিন আপা।
ধন্যবাদ।

কেমন কাটল এবারের জন্মদিন?
জন্মদিন নিয়ে কী বলব! সব সময় যা হয়, জন্মদিনের সন্ধ্যায় সহকর্মী ও বন্ধুরা আসে, ওটা আমার জন্য খুব আরামের সময়। খুব উপভোগ করি সময়টা। এমনিতে সারা দিন ধরে ফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। বিকেলে তো ফেসবুকে ঢুকে মনে হচ্ছিল, সার্ভার বুঝি জ্যাম হয়ে যাবে (হাসি)। এত এত শুভকামনার বার্তা, খুব ভালো লেগেছে।

এবার তো সাংসদ হিসেবে আপনার প্রথম জন্মদিন ছিল।
আমার সংসদের বন্ধুরাও ফোন করে শুভকামনা জানিয়েছেন।

সাংসদ হিসেবে একটা বড় দায়িত্ব আপনার। এর মধ্যে অভিনয়ের ব্যাপারটা কীভাবে সমন্বয় করেন?
সাংসদ হওয়ার আগেও অনেক বেশি কাজ করতাম না। বেছে বেছে কাজ করতাম। এখনো তা–ই করব। সাংসদ হওয়ার পর তো গণ্ডি নামের পুরো একটি সিনেমায় অভিনয় করে ফেললাম। কলকাতায় ডাবিংও করেছি। চাইলে সবই সমন্বয় করা যায়। সারা জীবন নিয়ম মেনে চলেছি, শিডিউল করে কাজ করেছি, এখনো সেভাবেই চলছি। সংসদে যখন অধিবেশন থাকে, তখন সেটাই তো প্রাধান্য পাবে। সত্যি বলতে, আমার সঙ্গে যাঁরা কাজ করতে আগ্রহী, তাঁরা সংসদ অধিবেশনের সঙ্গে মিলিয়েই শিডিউল ঠিক করবেন।

৮ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। বলা যায়, এবারই প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার গ্রহণ করা হবে আপনার।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন তো আগেই ছিল, এবার অর্জনের পাশাপাশি হবে গ্রহণও। প্রথমবার যখন ‘নতুন বউ’ ছবির জন্য পুরস্কার ঘোষণা হয়, তখন তা নিইনি। আরেকবার জুরিবোর্ডকে না করে দিয়েছিলাম। কারণ, আমি নিজেই জুরিবোর্ডে ছিলাম। খণ্ড গল্প একাত্তর–এর জুরিবোর্ডের সর্বোচ্চ নম্বর দিয়েছিলেন। আমিই বলেছিলাম, পুরস্কার গ্রহণ করতে পারব না। এটা কেমন না! নিজেই নিজেকে পরীক্ষার নম্বর দিয়ে দেওয়ার মতো।

কিন্তু এ রকম তো আরও খবর শোনা যায়...
আমি ওদিকে যেতে চাই না। এটা যাঁর যাঁর ব্যক্তিগত ব্যাপার।

‘নতুন বউ’ ছবির পুরস্কার না নেওয়ার কী কারণ ছিল?
নতুন বউ ছবির গল্পে আমিই নতুন বউ। গল্পও আমাকে ঘিরে। ওই ছবিতে ববিতা ছিলেন বলে জুরিবোর্ড তাঁকে মূল নায়িকা ধরে নিয়েছিল। এখন তো আমি জানি, এটার সঙ্গে জুরিবোর্ডের সম্পর্ক নেই। তবে বিচারকেরা ভাবলে ববিতা ও আমাকে দুজনকেই মূল চরিত্রে দিতে পারতেন।

প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণের ব্যাপারটি কেমন?
এক বছরের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে দুটি জাতীয় পুরস্কার নিতে যাচ্ছি। বছরের শুরুতে ছিল একুশে পদক, এখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার—অসম্ভব ভালো লাগার অনুভূতি। রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাচ্ছি নিজের প্রযোজিত ছবিতে অভিনয় করে—এটা সবচেয়ে ভালো অনুভূতি।

টেলিভিশন নাটকের কাজ কি কমিয়ে দিয়েছেন?
বিটিভির একটি ধারাবাহিকের কাজ করছি। লুকোচুরি লুকোচুরি গল্প নামের এই ধারাবাহিকের পরিচালক বদরুল আনাম সৌদ। এ ছাড়া একই টেলিভিশনে বঙ্গবন্ধুর সাতই মার্চের ভাষণ নিয়ে একটি অনুষ্ঠান করছি।

জ্যেষ্ঠ অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে আসাদুজ্জামান নূর ও আলী যাকেরকে মঞ্চে অভিনয়ে দেখা গেছে। আপনার ফেরার সম্ভাবনা আছে কি?
বলতে পারছি না। তবে মঞ্চ নাটকের অভিনয়ে যদি ফেরা হয়, তাহলে সবাইকে জানিয়েই করব।

বিশ্বায়নের এই যুগের বাংলাদেশের নাটক কীভাবে বৈশ্বিক মানের হতে পারে?
বাংলাদেশের টেলিভিশনে কনটেন্ট বলতে এখন কিছুই নেই। কী বলব! গেল ঈদে কিছু নাটক দেখেছিলাম, দু-একটা ব্যতিক্রম ছাড়া সবই এক। সিন্ডিকেটের জাল থেকে বের হতে না পারলে কোনো উন্নতি হবে না।

আপনার প্রযোজিত ‘গহীন বালুচর’–এর পর নতুন ছবি নির্মাণ কবে থেকে শুরু করবেন?
বদরুল আনাম সৌদ তো কাজের ব্যাপারে এত সিনসিয়ার, এত ডেডিকেটেড, এত পরিষ্কার মাথা—খুবই পরিশ্রমী। আমি ভেরি হ্যাপি ফর সৌদ। ছবির গল্প, সংলাপ থেকে শুরু করে সম্পাদনা—সবকিছু এক হাতে করেছে। সরকারি অনুদানের জন্য নতুন ছবির চিত্রনাট্য সৌদ জমা দিয়েছে, দেখা যাক কী হয়।

বিজ্ঞাপন
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন