default-image
বাংলা চলচ্চিত্রের সোনালি সময়ের অন্যতম জুটি ওয়াসিম–রোজিনা। গতকাল চলে গেলেন অভিনেতা ওয়াসিম। ৫০ বছরের পরিচয় ও বন্ধুত্ব দুজনের। ছবির সেট থেকে এই বন্ধুত্ব ছড়িয়ে পড়েছিল বাস্তব জীবনেও। গতকাল সন্ধ্যায় বন্ধুকে স্মরণ করে স্মৃতিকাতর হয়ে উঠলেন চিত্রনায়িকা রোজিনা

প্রথম ছবিতেই আপনার নায়ক ওয়াসিম। অর্ধশতাধিক ছবিতে দুজন একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। কেমন ছিল আপনাদের সম্পর্ক?

কাছের মানুষগুলো একে একে চলে যাচ্ছে। একটা সময় কত কাছের, কত আপন ছিল—অথচ এখন কত দূরে! ওয়াসিম ভাইয়ের সঙ্গে মাঝেমধ্যেই কথা হতো। ২০১৯ সালের অক্টোবরে সর্বশেষ তাঁর সঙ্গে কথা হয়। সম্প্রতি আমার পরিচালিত ‘ফিরে দেখা’ ছবির শুটিংয়ে গোয়ালন্দ ছিলাম। তখন কেউ একজন আমাকে মেসেঞ্জারে ওয়াসিম ভাইয়ের একটি ছবি পাঠায়। দেখলাম, শরীরটা ভীষণ খারাপ। গোয়ালন্দ থেকে ফিরে এলেও তাঁকে আর দেখতে যাওয়া হলো না। তার আগেই মারা যাওয়ার খবর পেলাম। জীবনের প্রথম নায়ককে শেষবার আর দেখতে পেলাম না।

বিজ্ঞাপন
default-image

আপনি তাঁর সঙ্গে ‘রাজমহল’ ছবি দিয়ে একক নায়িকা হিসেবে অভিনয় শুরু করেছিলেন...

এফ কবীর পরিচালিত ‘রাজমহল’ ছবির আগে আরও কয়েকটি ছবিতে কাজ করেছি। কিন্তু একক নায়িকা হিসেবে প্রথম ছবি ‘রাজমহল’। চলচ্চিত্রে নতুন এসেছি। শুরুতেই ওয়াসিম ভাইকে একক নায়ক হিসেবে পাওয়াটা অবিশ্বাস্য। প্রথমে তো ভয়ই পেয়েছিলাম। কারণ, আমি একদমই নতুন। কবরী, শাবানা, রাজ্জাক, ওয়াসিম তাঁদের ছবি দেখে দেখেই সিনেমায় অভিনয় করব ভেবেছি। এখন তাঁদেরই একজনের বিপরীতে আমি প্রধান নায়িকা! আবার উৎসাহিতও হচ্ছিলাম, আমার প্রথম ছবির নায়ক সুপারস্টার। এফডিসির ৪ নম্বর ফ্লোরে শুটিং করেছি। আমার অভিনয়জীবনে অন্য হিরোর চেয়ে ওয়াসিম ভাইয়ের সঙ্গে বেশি কাজ করেছি। রাজকীয় থেকে শুরু সামাজিক, ফোক-ফ্যান্টাসিসহ সব ধরনের ছবিতে আমরা অভিনয় করেছি।

মানুষ হিসেবে তিনি কেমন ছিলেন?

অবশ্যই ভালো মানুষ। সব সময় মুখে হাসি লেগে থাকত। শুটিংয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হলেও বিরক্ত হতে দেখিনি। খুবই নম্র, ভদ্র, সভ্য একজন মানুষ ছিলেন। সহযোগিতাপূর্ণ একজন ভালো মনের মানুষ ছিলেন তিনি।

default-image

অভিনেতা হিসেবে কেমন ছিলেন?

তাঁর ছবিগুলো দেখলেই কিন্তু বোঝা যায়, তিনি কেমন অভিনয়শিল্পী। এটা কাউকে বলে বোঝাতে হবে না। আমার কাছে তিনি অসাধারণ একজন অভিনয়শিল্পী। সামাজিক অ্যাকশন থেকে শুরু করে সব ধরনের চরিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। কোনোটাতে তাঁকে বেমানান লাগেনি। তাঁর এভাবে চলে যাওয়াটা মেনে নিতে পারি না। ওয়াসিম ভাই হয়তো সশরীর চলে গেছেন, কিন্তু বাংলার মানুষের কাছে তিনি আজীবন বেঁচে থাকবেন। তাঁর সৃষ্টি তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে দর্শকমনে।

বিজ্ঞাপন
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন