বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

কবে বুঝতে পারলেন মানুষ আপনাকে চিনতে পারছে?

ভারতের ‘দিল’ সিনেমার রিমেক ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ মুক্তির পরেই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। আমাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। আমার জীবনে মিরাকল ঘটেছিল। একসঙ্গে ১৭টি সিনেমায় চুক্তি করেছিলাম। অভিনেতা হব, সেটা আগে কখনোই ভাবিনি। অথচ এই পরিচয়ই আমাকে জড়িয়ে ধরল।

যখন বুঝতে পারলেন দর্শক চিনতে পারছেন, তখন ব্যক্তিজীবনে পরিবর্তন এসেছিল?

রাস্তায় বের হলেই মানুষ ঘিরে ধরবে, চিনবে, অটোগ্রাফ নেবে—এটা কখনোই ভাবিনি। ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ মুক্তির পর সাধারণ শাকিল খানকে অন্যভাবে চলতে হতো। প্রচুর কেনাকাটা করতাম। নায়ক হলে যা হয় আরকি। সেভাবে চলতে হতো। কিন্তু বাসায়, বন্ধুদের কাছে সাধারণ শাকিল খান হয়েই থাকতাম।

default-image

কিন্তু পরে তো শুটিং থেকে একেবারেই নিজেকে গুটিয়ে নিলেন?

বাবা বলতেন, ‘তুমি যা-ই করো, টাকাপয়সা পাবে, কিন্তু এমন কিছু করো না, যা সামাজিকভাবে তোমাকে সারা জীবন জ্বালাবে, সন্তানেরা বড় হলে লজ্জিত হবে। মানুষের চোখে খারাপ পাত্র হয়ো না, তাহলে তোমাকে মানুষ খারাপ চোখে দেখবে, অবহেলা করবে।’ সেই সময় অশ্লীল সিনেমায় ছেয়ে যাচ্ছিল। নিজের দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে সরে এসেছি। আমিসহ সেই সময় আরও অনেক নায়ক-নায়িকা চলচ্চিত্র কমিয়ে দিয়েছিলেন। অনেকে সিনেমাই করেননি। আমরা সবাই যদি এক হয়ে থেকে যেতাম, তাহলে চলচ্চিত্রের বেহাল দেখতে হতো না। ভারতের মতো আমরাও এগিয়ে যেতাম। ভালো অভিনেতাদের শূন্যতা আর অশ্লীলতা বাড়ায় এফডিসি আজ ধ্বংসের শেষ প্রান্তে।

এফডিসির এই বেহালের জন্য কারা দায়ী?

ডিরেক্টর, প্রযোজক, অভিনয়শিল্পী—সবাই দায়ী। কেউ কাটপিস করেছেন, কেউ জেনেবুঝে অশ্লীল সিনেমাকে উৎসাহ দিয়েছেন। সবাই নিজেদের স্বার্থ দেখেছেন। তাঁরা সবাই মিলে এফডিসিকে প্রমোদশালা বানিয়েছিলেন। তাঁরা এখন বড় বড় কথা বলেন। তাঁরাই ধ্বংসের পেছনের মূল হোতা। অনেক অভিনেতা, যাঁরা দেশের চলচ্চিত্রে অনেক অবদান রেখেছেন, তাঁরাও এই খারাপ কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

default-image

লাইট–ক্যামেরা–অ্যাকশন কতটা মিস করেন? কোনো আফসোস আছে?

আমি লাইট–ক্যামেরার সামনে থেকেই শাকিল খান হয়েছি। সেই জায়গার প্রতি অনেক ভালোবাসা এখনো আছে।

চাইলে তো অভিনয় চালিয়ে যেতে পারতেন?

আমি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টিকে থাকার চেষ্টা করেছি। সব সময় ভেবেছি, কাজ করে যাব। সেই সময় যত অশ্লীল সিনেমার প্রস্তাব পেয়েছি, তাদের দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছি। অনেককে বলেছি, আমার সামনে যেন আর কোনো দিন না দেখি। এভাবে একসময় পরিস্থিতি আমার প্রতিকূলে চলে যায়। কিন্তু এফডিসিতে যাদের পেশির জোর বেশি, সেই চক্রের কাছেই হারতে হয়েছে। এটাই আফসোস, হয়তো লেগে থাকতে পারতাম।

এখন কী করছেন?

সিনেমা ছাড়ার পরেই ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছি। ব্যবসা নিয়েই আমার ব্যস্ততা। পরিবারকে সময় দিই। সিনেমা দেখি, বই পড়ি, ঘোরাঘুরি করি। আমার এলাকার মানুষের পাশের থাকার চেষ্টা করি, এভাবেই সময় চলে যায়।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন