default-image
ভিন্ন ধরনের গায়কির কারণে পরিচিত সংগীতশিল্পী মিফতাহ জামান। মহামারির মধ্যে তৈরি করে ফেলেছেন বেশ কিছু গান। নতুন বছরের পরিকল্পনা, সেগুলো প্রকাশ করার। গান গাওয়া ও সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি এখন নিয়মিত লিখছেন তিনি। সংগীত ও সংগীত ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

এখন ব্যস্ততা কী নিয়ে?

একটা প্রকল্পের কাজ করছি। আমার নিজের মৌলিক গানগুলো নিয়েও কাজ করছি। কোভিডের মধ্যে কয়েকটা প্রকাশিত হলো। মৌলিক গানের পাশাপাশি আমার ইন্সট্রুমেন্টাল একটা ট্র্যাকও বের হয়েছে। আরেকটা জিনিস বলে নেওয়া ভালো, আমার নিজের গান লেখার অভিজ্ঞতা একেবারেই কম। ম্যাক্সিমাম ক্ষেত্রে অন্য মানুষের লিরিকে কাজ করেছি। এই সময়ে আমার বেশ কয়েকটা গান লেখা হয়ে গেছে। সেগুলোও বের করছি।

সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে ‘একা থাকতে দাও’ গানটি।

হ্যাঁ, এটা আমার লেখা ও সুর করা।

এটা কি আপনার প্রথম লেখা গান?

এর আগেও আমি গান লিখেছি। ২০১৯ সালে একটা গান বেরিয়েছিল, ‘একটু ডিপ্রেশনে’ নামে। এর আগে ‘আদরের শুকতারা’ অ্যালবামেও ‘ইচ্ছের গল্প’ গানটি আমার লেখা ছিল। তবে আমার লেখা খুব খুব কম। এতগুলো গান বের হয়েছে, এর মধ্যে আমার নিজের লেখা খুবই কম। ‘একটু ডিপ্রেশনে’ ও ‘একা থাকতে দাও’ আমার রিসেন্ট গান।

বিজ্ঞাপন

আপনার প্রথম একক অ্যালবাম ’দ্বিতীয়া’ ...

আমার প্রথম অ্যালবাম ‘শুধু তোমাকে’ ২০১০ সালে বের হয়। তবে ওটাকে একক অ্যালবাম বলা যায় না। কারণ, ওখানে আমার সঙ্গে শিল্পী হিসেবে সারাহ বিল্লাহ ছিলেন। মিউজিক অ্যারেজমেন্ট আমার করা ছিল। প্রথম অ্যালবাম বললে আমি ‘শুধু তোমাকে’ অ্যালবামটিকেই বলি। সেখানেই ‘চির অধরা’ গানটি বেরিয়েছিল। যে গানটি আমাকে পরিচিতি এনে দেয়।

তাহলে দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘দ্বিতীয়া’...

হ্যাঁ, ওই জন্যই ‘দ্বিতীয়া’ নাম দেওয়া

default-image

এরপরে বের হলো ‘আদরের শুকতারা’?

হ্যাঁ, এরপর ‘আদরের শুকতারা’ বের হয়। এই অ্যালবামটা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রিলিজ দিই।

এরপরে কি আর অ্যালবাম বের হয়েছে?

এরপরে আর অ্যালবাম বের হয়নি। এরপরে সবই সিঙ্গেল বের করেছি।

২০১০ সালে ‘শুধু তোমাকে’, ২০১২ সালে ‘দ্বিতীয়া’ এবং ২০১৪ সালে বের হয়েছে ‘আদরের শুকতারা’। ২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আর কোনো অ্যালবাম আর বের হয়নি। এর কারণ কী?

এখন বিজনেস ট্রেন্ডটা চেঞ্জ হয়েছে। আগে মানুষ ক্যাসেট ছেড়ে দিয়ে শুনতে থাকত। সিডির যুগ আসার পরে কী হলো, গান একটা পছন্দ না হলে স্কিপ করে যেত। এতে গান শোনার যে প্রবণতা, সেটা চেঞ্জ হয়ে গেছে। এ কারণে সিডির যুগ থেকেই শ্রোতারা অ্যালবামের ১০টি গানের মধ্যে একটি বা দুটি গান শুনতেন। মাঝখানের গানগুলো শোনা হতো না। এ কারণে অ্যালবামে আগ্রহ কমে গেছে। আর বিজনেস ট্রেন্ডও চেঞ্জ হয়ে গেছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একক গান ছাড়লে সেটা যেভাবে মানুষের কাছে পৌঁছায়, অ্যালবামের ক্ষেত্রে তেমনটি আর হয় না। এ কারণে অ্যালবাম প্রকাশ করা হয়নি। আমাদের দেশে এখন সিঙ্গেলই বেশি প্রচলিত মডেল। সবার ক্ষেত্রেও তা–ই দেখছি।

default-image

দেশের বাইরে যদি তাকাই, সেখানে এখনো অ্যালবাম প্রকাশ ও বিক্রি করা হচ্ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেই পলিসি বের করা হয়েছে। অ্যালবাম হারিয়ে যায়নি। আমাদের এখানে ক্যাসেট ও সিডির পর অনলাইনে অ্যালবামের মার্কেটিং ও বিজনেস পলিসি যেভাবে ঠিক করা দরকার ছিল, সেটা হয়নি। শিল্পী হিসেবে আপনার মত কী?

আমিও একমত। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি যখন ক্যাসেট থেকে সিডিতে চলে আসে, তখনও সেই মাধ্যমকে সম্পূর্ণভাবে ইউটিলাইজ করতে পেরেছি বলে মনে হয় না। তাই ডিজিটাল মাধ্যমে পারছি না, এটা অস্বাভাবিক কিছু না। সৃষ্টিশীলতার এই জায়গাগুলো পলিসিগতভাবে ম্যাকানিজম তৈরি করে ব্যবস্থাপনা করার বিষয়টি আমাদের এখানে কখনোই ছিল না। বিশেষ করে আমি যে সময় থেকে কাজ করছি, অর্থাৎ ২০০০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত। এই ২০ বছরে অনেক বেশি উল্টাপাল্টা চেঞ্জ হয়েছে। যাঁরা এর সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে জড়িত, তাঁদের বিজনেস মডেলটা আসলে পুওর ছিল। যে কারণে এখন তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখছি।

বিজ্ঞাপন

একটু যদি বিস্তারিত বলি। এখানে একটা গান বের করে মিউজিক ভিডিও বানিয়ে ইউটিউবে প্রকাশ করার প্রচলন দেখছি। কিন্তু ইউটিউব মিউজিক বিক্রির কোনো প্ল্যাটফর্ম না।

কারেক্ট, একদমই।

default-image

কিন্তু আমাদের এখানে এই ট্রেন্ড তৈরি হয়ে গেল কেমন করে যেন ...

হ্যাঁ, এখানে ট্রেন্ডটা একদমই ইউটিউব কেন্দ্রিক। আর বাংলাদেশে অন্যান্য যে অডিও প্ল্যাটফর্মগুলো আছে, সেগুলোও ক্রমেই জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে। কিছু কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ছিল, যারা অডিও নিয়ে কাজ করে। তাদের মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিটাও আসলে পরিষ্কার না। জিপি মিউজিক বা এয়ারটেল মিউজিকসহ যারা কাজ করেছিল, তারা ভালো একটা ট্রেন্ড নিয়ে এসেছিল। তাদের এখন কী অবস্থা, আমি বলতে পারব না। এখানে আসলে আর্টিস্টরা যদি বেনিফিটেড না হন, তাঁরাও কাজ করতে সিকিউর ফিল করেন না। আর্টিস্টদের বেনিফিট আসতে হবে। আসে না। আর্টিস্টরা ঠকে যান। ঠকতে ঠকতে একটা সময় বিরক্ত হয়ে যান। ইউটিউব সে ক্ষেত্রে আবার স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিচ্ছে। এ কারণেই আর্টিস্টরা ওই দিকে ঝুঁকছেন।

একটা অডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে যেভাবে আয় করার সুযোগ থাকে, ইউটিউব থেকে কি ওই ধরনের আয়ের সুযোগ থাকে?

নট নেসেসারিলি। আমাদের এখানে অডিও প্ল্যাটফর্ম থেকেও যে খুব একটা বেশি কিছু আসে, এমনটাও না। সে ক্ষেত্রে ইউটিউবে একটা ফ্রিডম আছে। আমার কনটেন্ট আমি আমার মতো করে তৈরি করলাম। আমার মতো করে পাবলিশ করলাম। এতে আর্টিস্টদের একটা স্বাধীনতা তৈরি হয়েছে, যা কিছুদিন আগেও ছিল না। আর্টিস্টদের যে ক্রিয়েটিভ ফ্রিডম থাকে, সেটা না থাকলে কাজ করে শান্তি পাওয়া যাবে না। এ কারণেই ইউটিউব, ফেসবুকের দিকে মানুষ ঝুঁকছে। আমি নিজেও বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কাদের সঙ্গে কাজ করব? এদের কোনো প্রফেশনালিজম নেই। খুবই ফ্রাস্ট্রেটেড হয়ে গিয়েছিলাম।

এখন তাই শিল্পী নিজেই প্রডিউসিং, রিলিজিং ও ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব নিয়েছেন?

নিজে ছাড়া তো হচ্ছে না। এ ছাড়া তো শুধু ধরনা দিতে হয়।

default-image

ইউটিউবে আপনার গানের মন্তব্যের ঘরে অনেক ভারতীয় ভক্তের মন্তব্য দেখা যায়? তার মানে আপনার ভারতেও একটা ভক্তগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে?

এটা সৃষ্টিকর্তার দয়া বলব। শুধু ভারত নয়, শ্রীলঙ্কা থেকেও মেসেজ পাঠিয়েছেন ভক্তরা। সত্যিকার অর্থে, এটা আমার জন্য খুবই আনন্দদায়ক ছিল। শ্রীলঙ্কা, যাঁরা বাংলা ভাষাভাষী নন, তাঁদের থেকেও মেসেজ পাচ্ছি। আমার গান সেখানেও পৌঁছে যাচ্ছে। এটা খুবই আনন্দের খবর। খুব খুশি লাগে। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বাংলা ভাষা শুধু কলকাতা নয়, ভারতের অন্য ভাষার রাজ্যের লোকেরাও শুনছেন। তাঁরাও মেসেজ করছেন। এটা খুব ভালো লাগে। নিজেকে অ্যাপ্রিশিয়েটেড মনে হয়। আমার গান যখন দেশের বাইরে পৌঁছাচ্ছে তখন মনে হয়, কিছু না কিছু ভালো কাজ করতে পেরেছি। এ কারণে হয়তো মানুষের কাছ থেকে রেসপন্সটা পাচ্ছি। এটাই চেয়েছিলাম যে ধীরে হোক, কিন্তু মানুষের কাছে পৌঁছাই।

default-image

একটা উদ্ভট প্রশ্ন করি। এটাও ওই মন্তব্য থেকেই নেওয়া। একজন আপনাকে লিখেছেন ‘মোস্ট আন্ডার রেটেড সিঙ্গার এভার ইন রিসেন্ট টাইম। ইউ ডিজার্ভ মোর রেসপেক্ট।’ আপনি কী মনে করেন?

আমি জানি না আসলে আমি কি ডিজার্ভ করি। আসলে ‘ডিজার্ভ’–এর কিছু নেই। সৃষ্টিকর্তা যা দেন, এটা নিয়েই তুষ্ট থাকার চেষ্টা করি। যদিও এটা খুব কঠিন কাজ। কিন্তু এটাই করার চেষ্টা করি। ‘আন্ডার রেটেড’ কথাটা শোনার পর আমিও চিন্তিত হই। আসলে আন্ডার রেটেড থাকলাম কেন? দায়টা কাদের? যদি আমি সত্যি সত্যি আন্ডার রেটেড হয়ে থাকি, তার মানে দাঁড়ায় আমি বেশি কিছু দিতে পেরেছি, কিন্তু তারপরও মানুষ অ্যাপ্রিশিয়েট করতে পারছে না। তাহলে দায় কার? আমি মনে করি, এক হিসেবে দায় আমারই। এখানে শিল্পীর যে মার্কেটিং করা দরকার, সেটা আমি করি না। আমার অন্য প্রফেশনের কারণেও হতে পারে। তা ছাড়া আমি একটু ইন্ট্রোভার্ট বা অন্তর্মুখী। আমি যে একটু যোগাযোগ রাখব, একটু হাই, হ্যালো করব—এটা করতে কেমন যেন লাগে। এমনিতে আপনি কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ করত চাইলে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করতে পারব। কিন্তু যোগাযোগ রক্ষা করার জায়গাটা খুবই দুর্বল আমার। এ কারণে পিছিয়ে গেছি। এটা হচ্ছে একটা কারণ। আর আন্ডার রেটেড থাকার পেছনে অডিয়েন্সেরও একটা দায় থেকে যায় বলে মনে করি। কারণ, শ্রোতা কিংবা দর্শকেরা গানটাকে সেভাবে শেয়ার করেন না হয়তো। এখন যেহেতু শেয়ার করার যুগ। অডিয়েন্স যদি গানটাকে ছড়িয়ে দেয়, তাহলে তো আর এমন হয় না। এখন অডিয়েন্সও হয়তো এটা অবলিগেটরি ফিল করে না। আমার একটা ফ্যানবেজ আছে। তারা আমার ইউটিউব এবং পেজের সঙ্গে জড়িত। তারা ভেরি সিনসিয়ার অ্যাবাউট মি। আমি এটা ফিল করি। তারা যদি আরও ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে এগিয়ে যাওয়ার পথটা একটু সহজ হয়। নিজেকেও দায়ী করি। কারণ, আমি নিজেকে সেল করতে পারি না। এ ক্ষেত্রে খুবই দুর্বল আমি।

বিজ্ঞাপন

সংগীত শিক্ষার পেছনে প্রেরণার মানুষ কে?

প্রথম শিখেছি আমার বাবার কাছে। বাবার পরে ওস্তাদের কাছে শিখেছি। তাই প্রথম প্রেরণা বাবার কাছেই পেয়েছি।

আপনার বাবা গান করতেন?

সেভাবে প্রফেশনালি গান করতেন না। বাংলাদেশ বেতারে গান গেয়েছেন। বাসায় সংগীতচর্চার একটা সংস্কৃতি ছিল।

default-image

পরিবেশই আপনাকে অনেক বেশি প্রভাবিত করেছে?

ভীষণ রকমের প্রভাবিত করেছে। আমাকে আমার বাবা প্রভাবিত করেছে। গানের ঘরানা হিসেবে যদি বলি, তবে পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী। তাঁর গান শুনতাম। শুনতে শুনতে তাঁর গান কপি করার একটা ভীষণ রকমের চেষ্টা থাকত। যদিও তাঁর মতো করে গাওয়া সম্ভব না। কিন্তু ওই গায়কি ফলো করতে করতে আমি অনেক কিছু শিখেছি। এই দুটো জিনিস গান গাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলেছে। আর অন্য গুরুরা তো আছেনই।

প্রথম যেদিন মনে হলো গান শিখতেই হবে...

একদিনও মনে হয়নি। সত্যি কথা হচ্ছে, আমাদের বাসায় আমার মাকে যখন ওস্তাদজি গান শেখাতে আসতেন, আমার বড় বোনকেও শেখাতেন। আমার লক্ষ্য ছিল ক্রিকেট খেলব। ব্যাট–বল নিয়ে কখন বের হব, এই চিন্তায় থাকতাম। বাসার সামনে সবাই ক্রিকেট খেলত। আমি রুমের এক পাশ দিয়ে বের হয়ে যেতাম। আমাকে ওস্তাদজি বাচ্চাদের যেভাবে বকা দিয়ে ডাকে, সেভাবে ডেকে গান শেখাতে বসাতেন। এই যেমন বলতেন, ‘আসো, বসো, দুটো গান শোনাও।’ তখন একটু–আধটু শেখাতেন। এভাবে শিখেছি আরকি। আমি কখনো চিন্তা করিনি যে এভাবে গান করব। আমার ধ্যান–জ্ঞান ছিল ক্রিকেট। এ রকম করতে করতে গান শেখা। তারপরে রবীন্দ্রসংগীত শিখলাম। ওস্তাদ চেঞ্জ হলেন। তিনি আমাদের শেখালেন নজরুলসংগীত, ক্ল্যাসিক্যাল। এরপরে আর কোনো গুরুর কাছে ওভাবে শেখা হয়নি। পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর গান কপি করা শুরু হলো। এ রকম করতে করতে খেলাচ্ছলে কখন যেন ক্ল্যাসিক্যাল গাওয়া শুরু করেছি। আসলে বাস্তবতা হলো, কখনো গান করতে হবে, এটা চিন্তাই করিনি।

প্লেব্যাক নিয়ে আপনার চিন্তা কী?

প্লেব্যাক করার ইচ্ছা আছে। কিন্তু এর জন্য রাইট অপরচুনিটি আসতে হবে। এটা না হলে আমি প্লেব্যাক করে আনন্দ পাব কি না, জানি না। প্লেব্যাকের যে স্বর্ণযুগ ছিল, সেটা হারিয়ে গেছে বলে মনে হয়। যদিও আমি এই অঙ্গনের সঙ্গে অতটা যুক্ত নই। আমি একদম সঠিক মন্তব্য করতে পারব কি না, জানি না। আমার কাছে মনে হয় যে বাংলাদেশের প্লেব্যাকে ওই সময়ে লিরিক খুব শক্তিশালী ছিল, যা এখন অত্যন্ত দুর্বল হয়ে গেছে। লিরিকের জায়গা থেকে চিন্তা করতে হবে। গান চিন্তা করলেই সবাই শুধু ভাবে প্রেম প্রেম প্রেম। এই সময়ের লিরিকে ডাইমেনশন পাওয়া যায় না। এখন মানুষ শুধু প্রেম–পিরিতির চিন্তা করে না। প্রেমও আগের মতো নেই। এখন বিরহেরও দিন নেই। এখন আসলে মানুষের বিরহ হয় না। কারণ, চটপট করে ফোন করে কথা বলে নিচ্ছি। বিরহ হবে কখন? প্রেমের ফিলিংস পাল্টে গেছে। আর আগের মতো উপমা দিলে হবে না। দ্বিতীয়ত, প্রেম নিয়েই কেন গান হতে হবে। আমি ভাবিনি যে ‘একটু ডিপ্রেশনে’ থেকে এত সাড়া পাব। কিন্তু ইন্টারেস্টিংলি অনেক সাড়া পেয়েছি। এপার বাংলা–ওপার বাংলা দুই জায়গা থেকেই। তারপরে ‘একা থাকতে দাও’ থেকেও ভালো সাড়া পেয়েছি। আমি দেখি, মানুষ চাচ্ছে প্রেমের বাইরের কিছু, কিন্তু এর বাইরে চিন্তা করছে না কেউ। সেই জায়গায় লিরিকে অনেক কাজ করার আছে। প্লেব্যাকের ক্ষেত্রেও মিউজিক ভালো হচ্ছে, সুর ভালো হচ্ছে। কিন্তু লিরিকের জায়গাটাতে অনেক কাজ করার ব্যাপার আছে। আমি প্লেব্যাক করতে খুবই আগ্রহী। সেই রাইট অপরচুনিটি পেলে করতে চাই। ইনফ্যাক্ট আমি মিউজিকও করতে আগ্রহী। অর্থাৎ, পুরো প্যাকেজও করতে চাই। এমনিতে যদি গান গাওয়ার সুযোগ হয়, আই উইল বি ভেরি হ্যাপি টু ডু ইট।

নতুন বছরের পরিকল্পনা কী?

করোনায় নিজেকে সেফ রাখা হচ্ছে প্রথম পরিকল্পনা। অন্যদিকে এই করোনার কারণে ঘরে বন্দী থেকে অনেকগুলো গান রেডি করে ফেলেছি। এগুলোকে আস্তে আস্তে রাইট প্ল্যাটফর্মে রিলিজ করব। কিছু হয়তো নিজের চ্যানেল থেকে প্রকাশিত হবে, কিছু হয়তো বাইরের চ্যানেল থেকে বের হবে। আমার খুব সুন্দর একটা কালেকশন তৈরি হয়ে গেছে। সময়–সুযোগ বুঝে রিলিজ করব। এ বছর নতুন গান তৈরির চাইতে গান রিলিজ করার ব্যাপারে ফোকাস থাকবে।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন