অভিমান ও ক্ষোভ থেকেই সিনেমায় অভিনয় কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন একসময়ের জনপ্রিয় নায়ক রিয়াজ। এরপর তাঁকে সময় দিতে দেখা গেছে নাটক ও টেলিছবিতে। দীর্ঘ বিরতির পর কাজ করেছিলেন মেহের আফরোজ শাওনের কৃষ্ণপক্ষ সিনেমায়। হঠাৎ করেই শোনা গেল, আবারও সিনেমায় ফিরছেন তিনি। হতে যাচ্ছেন মৌসুমীর নায়ক। সিনেমায় অভিমান, প্রত্যাবর্তন এবং বাংলাদেশের নাটক নিয়ে রিয়াজ তাঁর পর্যবেক্ষণের কথা গতকাল শনিবার দুপুরে জানিয়েছেন প্রথম আলোকে।
default-image

আপনাকে কি শিগগিরই নতুন সিনেমায় দেখা যাবে?
কিছুই চূড়ান্ত নয়। তবে একটি সিনেমায় অভিনয়ের ব্যাপারে কিছুদিন আগে যোগাযোগ করেছিলেন পরিচালক পি এ কাজল। বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দল নিয়ে তিনি এই সিনেমা বানাতে চেয়েছিলেন। বিষয়টি আমার কাছে ব্যতিক্রম লেগেছিল। ছবিটিতে অভিনয় করার কথা ছিল মৌসুমীর। এরপর অবশ্য পরিচালকের সঙ্গে আর কোনো কথা হয়নি।
নাটকেই তো বেশি সময় দিচ্ছেন, না?
হ্যাঁ। কিছুদিন আগে কক্সবাজারে মায়া নামের একটি নাটকের শুটিং করে এলাম। তবে ইদানীং নাটকে অভিনয় নিয়ে আমি বিরক্ত।
কেন?
একসময় সিনেমার গল্পে অস্থিরতা ছিল, ইদানীং নাটকেও সেটা প্রকট হয়ে উঠেছে। এই অস্থিরতা শুধু গল্পে নয়, পরিচালক-অভিনয়শিল্পী থেকে শুরু করে সবার ভেতরে ভর করেছে। পেশাদারির জায়গা থেকে সবাই যেন সরে গেছেন। আমরা যতই চ্যানেলের কথা বলি না কেন, সমস্যা কিন্তু শিল্পী ও নির্মাতাদের। আমরা বেশির ভাগই মন দিয়ে কাজ করছি না। আমাদের বেশির ভাগই কাজ নিয়ে কিছু ভাবছিও না। যে কেউ স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলছেন, নির্মাতা হয়ে যাচ্ছেন। কীভাবে যেন চ্যানেল থেকে সেসব প্রচারের অনুমতিও পেয়ে যাচ্ছেন! যেসব প্রচার হচ্ছে, এর বেশির ভাগই নাটকের পর্যায়ে পড়ে না।
তাহলে নাটকের ভবিষ্যৎ কী?
জানি না। তবে যে অভিমান ও ক্ষোভ থেকে সিনেমায় কাজ করা কমিয়ে দিয়েছিলাম, নাটকেও তাই করতে হবে। আমাদের দেশে একসময় যাত্রাপালা ছিল, যার অবস্থা এখন করুণ। সিনেমাও ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। ভালো কিছু মানুষ, যাঁরা নাটক বাঁচিয়ে রেখেছিলেন, তাঁরাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাই এই জায়গাটার অবস্থা এখন খারাপ। মানুষের মধ্যে অল্প সময়ে আলোচনায় আসার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। নাটকে মন না দিয়ে ফেসবুকে ছবি দেওয়া, লাইক-কমেন্ট গোনায় মেতে উঠছেন সবাই। ফ্যান-ফলোয়ার কীভাবে বাড়ানো যায়, কয়টি পত্রিকায় সংবাদ ছাপা হলো—এসব নিয়ে সবাই মেতে আছি। সবার মাথায় ঢুকে গেছে, মার্কেটিং আগে করতে হবে। পণ্যের গুণগত মান কী হবে, তা নিয়ে কেউ ভাবছি না।
যাঁদের নাটকে কাজ করেছেন, সন্তুষ্ট না?
একদমই না। মাত্র ২ থেকে ৫ শতাংশ পরিচালক ঠিকমতো নিজের কাজটি করতে পারছেন। বাকি ৯৫ শতাংশই ক্যামেরাম্যাননির্ভর। অনেক পরিচালকের মধ্যেই কাজের আগ্রহ দেখছি না। সহকারী ও ক্যামেরাম্যানকে দৃশ্য ধারণের কাজ দিয়ে পরিচালক চলে যাচ্ছেন আরেক নাটকের প্রযোজক ম্যানেজ করতে। এসব ঠিক না হলে আমি আর নাটকেও কাজ করব না। প্রকৃত পরিচালকদের দেখা পেলে তাঁদের সঙ্গে কাজ করব। যখন চলচ্চিত্রে ব্যস্ত ছিলাম, দেখেছি ফাইট ও নাচের শুটিংয়ের সময়ও পরিচালক দাঁড়িয়ে থাকেন; সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত শট নিতেই থাকতেন। এখন তো মনে হচ্ছে, পরিচালকের কাজ যেন শুধুই প্রযোজক জোগাড় করা। এটাই যেন পরিচালক হয়ে ওঠার সব থেকে বড় যোগ্যতা।
সাক্ষাৎকার: মনজুর কাদের

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0