বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

বেশ কয়েক দিন আপনি উৎকণ্ঠায় ছিলেন।

গতকাল রাতে একটু ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। রাত সাড়ে আটটার দিকে অবন্তীর ব্যথা ওঠে। এরপর হাসপাতালে রওনা হই অবন্তীকে নিয়ে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, ঢাকায় হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছানো যে কত বড় স্ট্রাগল, তা গতকাল রাতে টের পেলাম। হাসপাতালে পৌঁছাতে পৌঁছাতে দেড়-দুই ঘণ্টা লেগে গেল। জরুরি দরকারে এ রকম পরিস্থিতি যেকোনো মানুষের জন্য কষ্টকর। যাহোক, রাত থেকে এখন পর্যন্ত ঘুমাতে পারিনি। হাসপাতালে ভর্তির পর সকালবেলা ডাক্তাররা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করলেন, আজ ডেলিভারি হলো।

বাবা হওয়ার পর নিজের মা–বাবার ব্যাপারে কী অনুভূতি হলো?

যখন থেকে বাবা হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলাম, তখন থেকেই মনে হতো মা–বাবার সঙ্গে অনেক ভুল করেছি। কারণে–অকারণে তাঁদের অনেক কষ্ট দিয়েছি। মা–বাবার প্রতি আরও ভালোবাসা থাকা দরকার ছিল। আজ যখন নিজের সন্তানের মুখ দেখলাম, তখন মনে হলো, মা–বাবার সঙ্গে ছোটখাটো যে অন্যায় করেছি, সেগুলো আরও কম করা উচিত ছিল।

default-image

নিজের সন্তানের মুখ দেখার অনুভূতি কী?

প্রথমবার সন্তানের মুখ দেখার মতো সুন্দর মুহূর্ত আর নেই। ডেলিভারির পর বাচ্চাকে আগেই কেবিনে আনা হয়েছিল। তবে বাচ্চা দেখতে গিয়ে প্রথমেই নার্সের কাছে অবন্তীর অবস্থা জানতে চেয়েছি আমি। তখনো অবন্তী অপারেশন থিয়েটারে ডাক্তারের হেফাজতেই ছিল।

বাসার অন্য সবার প্রতিক্রিয়া কী?

বলতে গেলে এখনো আমি বাস্তব জীবনেই আছি। যেহেতু অবন্তীকে কেবিনে দেওয়া হবে, কেবিন ম্যানেজ করা, অবন্তী ও বাচ্চাকে দেখতে আত্মীয়স্বজন আসছেন, তাঁদের সঙ্গে কথা বলা—এসবের মধ্যেই আছি। সবাই আস্তে আস্তে দেখে হয়তো চলে যাবেন। আমি, বাচ্চা ও বাচ্চার মা যখন একা একা থাকব, সময় কাটাব, তখন হয়তো নিজের অনুভূতিটা বুঝতে পারব। সন্তান আমাদের জন্য অনেক বরকত নিয়ে পৃথিবীতে এসেছে বলে মনে হয়। আমার জন্ম হয়েছিল প্রথম রমজানে। এ জন্য আমার নাম সিয়াম রেখেছেন মা–বাবা। আমার সন্তানও রোজার মাসেই জন্ম নিল। এটি আমাদের পরিবারের জন্য অনেক বড় ভালো লাগা, আশীর্বাদ।

default-image

বাচ্চার কী নাম রাখবেন? নাকি রেখেছেন?

না, এখনো রাখা হয়নি। এ জন্য আমাদের একটু সময় লাগবে। দুই পরিবার মিলে নামটা ঠিক করব আমরা।

একদিকে বাবা হওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে ঈদে সিনেমা মুক্তির আনন্দ। কীভাবে দেখছেন বিষয়টিকে?

ডেলিভারি ডেট অনুযায়ী ভেবেছিলাম, ঈদের সময়টা হাসপাতালেই থাকতে হতে পারে। আমি আর অবন্তী বলাবলি করছিলাম, আমাদের অনাগত সন্তান আমাদের সঙ্গে যদি ঈদ করতে পারত, ভালো হতো। সেটাই হলো। আমাদের সঙ্গেই সে ঈদ করবে। হয়তো আমাদের সঙ্গে প্রথম ছবি দেখতে প্রেক্ষাগৃহে যাবে। আমাদের দুই পরিবারের জন্য এবারের ঈদটা স্পেশাল হবে। আমার ‘শান’ ছবির টিমের জন্যও স্পেশাল হবে। আমাদের ‘শান’ টিমের মেম্বারের সংখ্যাও বেড়ে গেল। হা হা হা।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন