বঙ্গবন্ধু বায়োপিকের ভারতের অংশের শুটিং শেষ সিয়াম আহমেদের। ২২ ফেব্রুয়ারি রাতে মুম্বাই থেকে ঢাকা ফিরেছেন তিনি। এসেই একটি গাড়ি কিনেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে সিয়াম অভিনীত অপারেশন সুন্দরবন ছবির টিজার। বর্তমান ব্যস্ততা ও কাজ নিয়ে বিস্তারিত জানালেন এই অভিনেতা।
default-image

‘অপারেশন সুন্দরবন’ ছবির টিজার প্রকাশিত হলো...

এটা আমার বহুল প্রতীক্ষিত একটি ছবি।

কেন?

কারণ আগের ছবির চরিত্রগুলোর সঙ্গে এই ছবির চরিত্রের কোনো মিল নেই। এই চরিত্রে সিনেমায় আমার নতুন যাত্রা শুরু হলো। আমি প্রথম ‘শান’ ছবিতে অ্যাকশন ঘরানার চরিত্রে অভিনয় করি। এরপর ‘অপারেশন সুন্দরবন’-এ অভিনয় করি। কিন্তু ‘শান’ ছবির আগেই অপারেশন সুন্দরবন ছবিতে আমার অভিনীত চরিত্রটি দর্শক কিছুক্ষণের জন্য দেখতে পেলেন।

বিজ্ঞাপন

ছবিটি নিয়ে প্রত্যাশা কেমন?

ছবিটিতে সম্পূর্ণ নতুন কিছু পাবেন দর্শকেরা। যাঁরা সিনেমার দর্শক না, তাঁরাও এই ছবিটি দেখার জন্য আগ্রহী হবেন। বাংলাদেশের সিনেমায় এত বড় প্রকল্পের কাজ সাধারণত দেখা যায় না। এই ধরনের ছবি ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

default-image

মুম্বাইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ বায়োপিকে প্রথম দিনের শুটিং অভিজ্ঞতা কেমন?

প্রথম দিন শুটিং করতে গিয়ে কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম। কারণ আমি ঢাকায় বসে চরিত্রটি একভাবে অনুশীলন করেছি, চর্চা করেছি। কিন্তু ওখানে গিয়ে পরিচালকের সঙ্গে কথা বলে দেখলাম, চরিত্রটির আরেকটি দিক বের হয়েছে। চরিত্রটি নিয়ে আমার ভাবনার সঙ্গে পরিচালকের ভাবনা কীভাবে মেলাব, তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। পরে নিজের ভাবনাকে মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে পরিচালকের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম। পরিচালক আমাকে যেভাবে বলেছেন, সেভাবেই ডেলিভারি দিয়েছি।

পুরো শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন?

আমার সহশিল্পী ছিলেন রাইসুল ইসলাম আসাদ ও আরিফিন শুভ। পরিচালকসহ টেকনিক্যাল টিমের বেশির ভাগ সদস্যই মুম্বাইয়ের। কাজটি করার সময় খুব সহযোগিতা পেয়েছি তাঁদের কাছ থেকে। তাঁদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজটি সুন্দরভাবে করতে পেরেছি।

দেশের বাইরে এ ধরনের টিমের সঙ্গে প্রথম কাজ। তাঁদের কাজের ধরন বুঝতে সমস্যা হয়নি?

একদমই না। শুটিং করার আগে বেশি সময় ধরে অনুশীলন করতে হয়েছে। বেশি অনুশীলন করার কারণে চূড়ান্ত শট দিতে বোঝাপড়ার জায়গাটা পরিষ্কার ছিল। ফলে কাজটি সহজভাবে করতে পেরেছি। শুটিংয়ের সময়েই বোঝা যাচ্ছিল কতটুকু ভালো করছি, কতটুকু খারাপ করছি। কারণ শট দেওয়ার পরে টিমের সদস্যদের রি-অ্যাকশন দেখেই বোঝা যাচ্ছিল তা।

default-image

শুটিংয়ের বাইরে পরিচালক শ্যাম বেনেগালের সঙ্গে আড্ডা বা কোনো আলাদা কথা হয়েছে?

সারা দিনই শুটিং হতো। আড্ডার সময় ছিল না। যাঁরা যাঁরা কাজ করে দেশে ফিরেছেন তাঁদের সবাইকে উপহার দিয়েছেন শ্যাম বেনেগাল। চলে আসার দিন আমাকেও উপহার দিয়েছেন। বুকে জড়িয়ে ধরে আমাকে বললেন ‘যেতে হবে বহু দূর। তুমি অনেক পরিশ্রম করো। আরও বাড়াতে হবে। কখনোই ছাড় দেওয়া যাবে না।’ তাঁর এই কথাগুলো আমার জন্য স্মরণীয় ঘটনা।

বিজ্ঞাপন

ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা গেছে একটি নতুন লাল রঙের গাড়ির সামনে স্ত্রীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে। ছবির ক্যাপশনে লিখেছেন ‘ওয়েলকাম হোম লাভ’। গাড়িটি কিনলেন নাকি?

হ্যাঁ। মাজদা রোডস্টার। এটি আমার পছন্দের একটি ব্র্যান্ড। মজার ব্যাপার হলো, লাল রঙের এই মডেলের আগের মডেলটি আমার ছোটবেলার খেলনা গাড়ি ছিল। তখন থেকেই স্বপ্ন দেখতাম বড় হয়ে এই মডেলের একটি গাড়ি কিনব। কিনে ফেললাম। এক মাস আগে অর্ডার দিয়েছিলাম। মুম্বাই থেকে ফিরে বাসায় নিয়ে এলাম গাড়িটি। বলতে পারেন, একটা স্বপ্ন পূরণ হলো আমার।

default-image

লাল রঙের গাড়িটি কি আপনার স্ত্রী অবন্তীরও পছন্দ?

হ্যাঁ, রং অবন্তীরও পছন্দ হয়েছে। সে একটু বেশি খুশি। কারণ যে ব্র্যান্ডের খেলনা গাড়ি দিয়ে আমি ছোটবেলায় খেলতাম, বাস্তবে আমি সেই গাড়িটি কিনতে পেরেছি।

তারকাদের কাছে মেয়ে ভক্তদের প্রচুর প্রেমের প্রস্তাব আসে। নারী ভক্তদের প্রেমের প্রস্তাব এলে বিষয়টি কীভাবে হ্যান্ডেল করেন?

প্রেমের প্রস্তাব আসতেই পারে। তবে আমি দুধ রেখে তো চুনের দিকে তাকাব না। আর আমার নারী ভক্তরা ভালো। কখনোই প্রেমের প্রস্তাব পাঠায় না আমাকে। তারা আমাকে সম্মান করে, আমার স্ত্রীকে সম্মান করে, আমার মা-বাবাকেও সম্মান করে। এমন ভক্ত পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন