রুনা লায়লা
রুনা লায়লাছবি : প্রথম আলো
গত মঙ্গলবার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে চলমান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানে গান করেছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। সেই অভিজ্ঞতা ও নানা বিষয়ে গতকার বুধবার কথা বললেন তিনি

মুজিব চিরন্তন অনুষ্ঠানে পরিবেশনার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

খুবই ভালো করেছে। অনেক গোছানো আয়োজন। আমার পরিবেশনার সময় সুন্দর একটা কোরিওগ্রাফি করেছে। আগের রাতে মহড়া করেছিলাম। নাচের শিল্পীরা এত সুন্দর পারফর্ম করেছে, আমি মুগ্ধ হয়েছি। মঞ্চটাও চমৎকার বানানো হয়েছে।

default-image

সার্বিকভাবে এ আয়োজন কেমন লেগেছে?

শুরু থেকে একটু একটু ঝলক দেখেছি। যতটুকু দেখেছি, সেটাও ভালো লেগেছে। এত এত শিল্পী নিয়ে এত বড় আয়োজন করাও তো চাট্টিখানি কথা নয়। একটাই শুধু ভয় ছিল করোনা নিয়ে। আয়োজকেরা সবার কোভিড টেস্ট করিয়ে তারপর প্রবেশ করিয়েছে। এ ব্যাপারে প্রত্যেকে খুব আন্তরিক ছিল দেখলাম।

বিজ্ঞাপন

করোনার দ্বিতীয় ডোজ কবে গ্রহণ করছেন?

এই মাসে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এক মাস পিছিয়েছে। ১৫ এপ্রিল দেওয়ার তারিখ ঠিক করা হয়েছে। প্রথম ডোজে আমাদের কারোরই কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয়নি। আমাদের বাড়ির নয়জন টিকা নিয়েছে। কারও হাতে ব্যথাও হয়নি।

করোনার মধ্যে সবাই ঘরে থাকলেও কিছু না কিছু করছে। আপনার সময় কীভাবে কাটছে?

নিতান্ত কোনো প্রয়োজন ছাড়া আমি বাড়ি থেকে বের হচ্ছি না। সাহসও পাচ্ছি না। এ অনুষ্ঠানের জন্য রেকর্ডিং করতে হয়েছে। মহড়ায়ও গেলাম। বাড়িতে অতিথি নিরুৎসাহিত করছি। ঘরে গান শুনি, ছবি দেখি, বই পড়ি। এভাবেই সময় কেটে যায়। ভবিষ্যতের কিছু পরিকল্পনাও করছি।

default-image

পরিস্থিতি বলছে, শিগগিরই করোনা থেকে মুক্তি নেই। তারপরও মানুষ কাজ করে যাচ্ছে। নতুন কী পরিকল্পনা করছেন?

নতুন একটা পরিকল্পনা অনেক দিন আগেই করে রেখেছি। আমার কম্পোজিশনে ভারতের শিল্পীদের নিয়ে আরও পাঁচটা গান করব। ভারতের প্রতিষ্ঠিত কয়েকজন শিল্পীর সঙ্গে কথাও বলেছি, তাঁরাও খুব খুশি হয়েছেন।

শিল্পীদের কারও নাম কি এই মুহুর্তে বলতে চান?

এখনই না। সবকিছু ফাইনাল হোক, তারপর সবাইকে ঘটা জানাব।

default-image

নতুন পরিকল্পনা কী রকম হতে পারে একটু ধারণা দেবেন?

আমার আগের কাজগুলো খেয়াল করলে দেখা যাবে, যাঁরা আমার কম্পোজিশনে গেয়েছেন, আদনান সামি, রাহাত ফতেহ আলী খান, হরিহরণ, কেউই আগে বাংলা গান করেননি। আমার একটা চিন্তা ছিল, যাঁরা কখনো বাংলা গান করেননি, তাঁদের দিয়ে করানো। এবারও তেমনই চিন্তা করেছি। আমি একজন বাংলাদেশি শিল্পী, বিদেশি শিল্পীরা আমার ভাষায় গাইছে, দেখতেই ভালো লাগে।

আপনার সুরে দেশের বাইরের শিল্পীরা গেয়েছেন। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের শিল্পীদেরও আপনার সুর করা গান করিয়েছেন। দেশের শিল্পীদের নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা আছে?

দেশের শিল্পীদের নিয়ে তৈরি পাঁচটি গানের দুটি প্রকাশিত হয়েছে। আঁখি আলমগীর ও তানি লায়লার গাওয়া গান দুটি এখনো প্রকাশিত হয়নি। করোনার কারণে পিছিয়ে গেছে। এই গানগুলো প্রকাশের পর নতুন চিন্তা করব। বেশ কয়েকজন নতুন শিল্পীকে নিয়ে কাজ করতে চাই। শুধু দরকার প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা। সেটা পেলেই কাজ শুরু করব। আমি চাই, আমাদের তরুণ প্রজন্মের শিল্পীরা একটু অন্য ধরনের গানও করুক, ক্ল্যাসিক্যাল ধাঁচের।

default-image
বিজ্ঞাপন

এই মুহূর্তে বাংলাদেশের সংগীত নিয়ে আপনার মূল্যায়ন ও আশাবাদের কথা জানতে চাই।

বিভিন্ন চ্যানেলে যখন গান প্রচার হয়, শুনে মনে হয়, আমরা অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে গেছি। আগে যেমন মিউজিশিয়ানরা বাজাত আর আমরা এক টেক-এ পুরো গান গেয়ে ফেলতাম। এখন দেখি মেশিনই বেশির ভাগ কাজ করছে, ক্ষেত্রবিশেষে সবই করছে। গানের আবেগটা কমে যাচ্ছে। তা ছাড়া আমরা একটু অলস হয়ে যাচ্ছি। এখন এমনও হয়, একবার গেয়ে দিলাম, ১০ বার কপি পেস্ট করে জোড়া লাগিয়ে গান বানিয়ে ফেললাম। শিল্পীদের কণ্ঠের আবেগ হারিয়ে যায় তাতে। আগে শিল্পীদের গাওয়া গানে অনুভূতি অন্যভাবে আসত, অন্যরকম লাগত। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাচ্ছি, এখন যারা গান করছে, তাঁদের অবশ্যই নিজের কণ্ঠের ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। সবাইকে সুরে গাইতে হবে, শিখে গাইতে হবে, তাহলেই ভালো গান হবে। এটাও ঠিক, আমাদের অনেক ভালো ভালো শিল্পী আছে। তাদের সুযোগ করে দিতে হবে। এখন কিন্তু আমরা দেখি, প্রত্যেকটা শিল্পী নিজের একটা করে ইউটিউব চ্যানেল খুলেছে। আমার তো মনে হয়, বাধ্য হয়েই শিল্পীরা ইউটিউব চ্যানেল চালু করছে। গান বানিয়ে তারা নিজেদের প্রচার নিজেরাই করছে। এতে করে আবার একটা অসুবিধা হচ্ছে। যাদের চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার কম, তারা ভালো গান তৈরি করলেও সেই গান বেশি শ্রোতার কাছে পৌঁছায় না। প্রতিষ্ঠিত একটা প্রতিষ্ঠান যদি কোনো গান প্রকাশ করে, সেটা অনেক বেশি শ্রোতার কাছে পৌঁছাত।

default-image
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন