পিন্টু ঘোষ
পিন্টু ঘোষসংগৃহীত
সম্প্রতি মুক্তি পেয়েছে নতুন সিনেমা ‘স্ফুলিঙ্গ’। এই ছবির সংগীত পরিচালকদের একজন পিন্টু ঘোষ। ছবির গানেও কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। এদিকে তিন দিন আগে ‘আন্ধা’ নামে আরেকটি গান প্রকাশিত হয়েছে তাঁর। কাজ করছেন নতুন কয়েকটি চলচ্চিত্রের গান ও অডিও গানে। কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

‘স্ফুলিঙ্গ’ ছবির গান শ্রোতারা পছন্দ করেছেন। ছবিতে কাজ করে কতটা সন্তুষ্ট আপনি?

আরেকটু সময় পেলে আরও ভালো করতে পারতাম। গানের কথা ও সুর নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। এটা শুধু আমার অবস্থান থেকে নয়, শ্রোতারাও এমন মতামত দিয়েছেন। নিজের কাজ নিজের ভালোই লাগবে। কিন্তু অন্যদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর মনে হয়েছে, ঠিক পথেই হেঁটেছি।

ছবির সংগীত পরিচালনা কতটা চ্যালেঞ্জিং?

অনেক চ্যালেঞ্জিং। গান তৈরি থেকে শুরু করে আবহসংগীত ও সাউন্ডের যাবতীয় কাজ করতে হয়। ছবির কাজে চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সীমাবদ্ধতাও থাকে। চাইলেই আমি বেশি আবেগ দেখাতে পারব না, কমও না। সিনেমার গান ও অডিও—দুই কাজের ধরন দুই রকম। অডিওর গানে স্বাধীনতা থাকে বেশি। সিনেমার কাজ যখন করি, পরিচালকের সন্তুষ্টি খেয়াল রাখতে হয়।

বিজ্ঞাপন
default-image

‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিতে ‘তোমাকে চাই’ গানটি সে সময় আলোচনায় ছিল। কিন্তু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার না পাওয়ায় মন খারাপ হয়েছিল?

আমার মন খারাপ হয়েছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, বিজ্ঞ বিচারকেরা গানটা বুঝতে পারেননি। সেবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে যে গানগুলো প্রাধান্য পেয়েছে, ‘তোমাকে চাই’-এর তুলনায় ওই গানগুলো একটু দুর্বল বলব। বিষয়টি আমি নিরপেক্ষভাবে বিচার করার চেষ্টা করেছি। এমন হলে ভালো কাজ যাঁরা করেন, তাঁরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলবেন। আমার কাছে জাতীয় পুরস্কার এটাই যে বাংলাদেশের মিউজিশিয়ান ও শিল্পীরা এই গানটিকে ভালোবেসেছেন।

আপনার স্ত্রীও সংগীতের মানুষ। ঘরে থাকলে সময় কাটে কীভাবে?

ঘরে থাকলে সংগীত নিয়েই আমাদের আলোচনা হয়। আর আমাদের সন্তান রুদ্রাংশ আছে। করোনার এই সময়ে ঘরে থাকলে ওকে নিয়ে সময় কেটে যায়।

শ্রোতাপ্রিয় গান তৈরির ক্ষেত্রে কোন বিষয়ে খেয়াল রাখতে হয়?

গানটা সাবলীল হওয়া দরকার। গানের কথা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলার কোনো দরকার নাই। মানুষ ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে কথা বলতে পছন্দও করে না।

আপনার প্রিয় শিল্পী কারা?

শ্রদ্ধেয় নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরী, সৈয়দ আব্দুল হাদী, বাপ্পা মজুমদার, পার্থ বড়ুয়া, রবি চৌধুরী, মনির খান, কুমার বিশ্বজিৎ, সুবীর নন্দী—সবার গানই আমি গাই। ভালো গান হলেই আমি গাই। যার গান আমার মনে নাড়া দেয়, সে-ই সেরা শিল্পী।

default-image

ব্যান্ড চিরকুটে লম্বা সময় ধরে ছিলেন। অনেক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন। আপনি ছেড়ে আসার পরও চিরকুট অসাধারণ কিছু গান উপহার দিয়েছে। স্টেজ শোতেও তাদের পরিবেশনায় মুগ্ধ অনেক দর্শক। যে দল ছেড়ে এসেছেন, তার সাফল্য আপনাকে আনন্দিত করে? কতটা মিস করেন?

চিরকুট ব্যান্ডের প্রত্যেক সদস্যই এই মুহূর্তে আলাদাভাবেও কাজ করছেন। যদিও আমি যখন ছিলাম, তখন এই সুযোগটা ছিল না। ১০-১১ বছর একটা ব্যান্ডে ছিলাম, মিস তো করিই! ব্যান্ডের সাফল্য আমাকে ভীষণ আনন্দিত করে। ইমন যখন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেল, আমি অভিনন্দন জানিয়েছি। অন্যদের সঙ্গে যখন দেখা হয়, সুন্দর সময় কাটে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন