বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারটাও ভাবতে হয়

বিজ্ঞাপন
default-image
>

‘আগস্ট ১৯৭৫’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করছেন তৌকীর আহমেদ। শিগগিরই সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন স্ত্রী বিপাশা হায়াতের কাছে। এই করোনাকালে কীভাবে কাটছে তাঁর সময়, ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়সহ নানা বিষয়ে প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বললেন এই অভিনেতা।


‘আগস্ট ১৯৭৫’ সিনেমায় আপনার চরিত্রটি কী?
এ সিনেমায় আমি তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্রে অভিনয় করেছি।

এটা কি পূর্ণদৈর্ঘ্য, নাকি স্বল্পদৈর্ঘ্য?
মনে হয় মুক্তদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র। বানাতে বানাতে যেখানে থামবে, সেখানেই শেষ হবে। (হাসি)

এমনও হয় নাকি?
আমাকে প্রথমে বলেছিল স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। পরে বলল ফিচার ফিল্ম হবে।

ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয় করছেন, এটা কতটা চ্যালেঞ্জের?
মেকআপ-গেটআপ থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে তাজউদ্দীনের সবকিছু খেয়াল করতে হয়েছে। একজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে পর্দায় তুলে ধরতে অনেক সতর্ক থাকতে হয়। বিশ্বাসযোগ্যতার ব্যাপারটাও ভাবতে হয়। আমাদের মেকআপ বা গেটআপে ততটা সহযোগিতা থাকে না, তাই চ্যালেঞ্জটা আরও বেশি।

তাজউদ্দীন আহমদের চরিত্র করতে কেমন লাগল?
তাঁর প্রতি আমার আকর্ষণ আর ভালো লাগা ছিল, তাই কাজটা করে ফেললাম। যদিও তাঁকে আমি কখনো দেখিনি। দু-একটা ভিডিও ক্লিপ দেখেছি। তাঁকে নিয়ে অনেক বেশি স্টাডি করার সময়ও পাইনি। তাঁর ব্যক্তিত্ব, কথা বলা, বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাপারগুলো মাথায় রেখে কাজ করেছি।

আপনি তো নাটকের শুটিংও করেছিলেন। অভিনয়ে কি আবারও নিয়মিত হচ্ছেন?
খুব বেশি করিনি। কয়েক দিন আগে এস অলিকের একটা নাটকের শুটিং করেছিলাম।

default-image

ঈদে আপনার পরিচালনায় কিছু থাকছে?
করোনার আগে রুপালি জোছনায় নামে একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিং করেছিলাম। ঈদের আট দিন সেটা দেখানো হবে চ্যানেল আইতে। এরপর সপ্তাহে দুই দিন করে চলবে।

অনেকেই শুটিংয়ে ফিরছেন। সার্বিক পরিস্থিতি কেমন মনে হচ্ছে?
সবাইকে কাজে ফিরতে হচ্ছে। অনন্তকাল তো কাজের বাইরে থাকা সম্ভব না। আবার এ–ও সত্য, অনেক লোকের ইনভলভমেন্ট থাকায় অনেক ঝুঁকিও থাকে। শিল্পীদের মনের মধ্যে একটা আশঙ্কা থাকে, উদ্বেগ থাকে, শুধু নিজের জন্য না, প্রিয়জনের জন্যও। কাজ করে খুব যে আরাম পাচ্ছি বলব না। আশা করি, এই অবস্থা কেটে যাবে। সবাই যার যার জায়গায় সুন্দর করে বাঁচবে।

চার মাসের বেশি করোনা চলছে। মানুষের চিন্তাজগতে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন?
এ রকম একটি মহামারির পর প্রতিটা মানুষ জীবনকে নতুনভাবে দেখবে বলে মনে হয়। হয়তো তাঁর বাহ্যিক ব্যবহারে পরিবর্তন কম আসবে। কিন্তু এই যে জীবন-মৃত্যুর মাঝখান থেকে বেঁচে আসা বা হেঁটে চলা, এসব জীবন সম্পর্কে নতুন উপলব্ধি দেবে, সেটুকুই যথেষ্ট। সেটুকুই যদি দেয়, তাহলে হয়তো মানুষের সৎ এবং সুন্দর দিকগুলো স্ফুরিত হবে। মানুষের লোভ এবং তাৎক্ষণিক লাভের চিন্তা কিছুটা হলেও স্তিমিত হবে, যা আমাদের সমাজে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে। সত্যি কথা বলতে, এই মহামারিতে কারও স্বজন, বন্ধু হারায়নি, আত্মীয়রা কষ্ট করেনি, এমনটা খুঁজে পাওয়া যাবে না। আমার আপন মামা, আমাদের নাট্যদলের এক ছোট ভাই, পরিচিতিদের মধ্যে অনেকে করোনায় মারা গেছেন। সুতরাং পুরো ঘটনাটা সামনের দিনগুলোতে দর্শনগতভাবে হলেও সবাইকে কিছুটা ভাবাবে। ভাবনা থেকে কে কতটা শিখবে সেটা বিষয়। একই বই পড়ে কেউ প্রথম হবে, সে বই পড়ে আবার কেউ কিছুই বুঝবে না। তবে আমি জোর দিয়ে বলতে চাই, এটার একটা ইম্প্যাক্ট থাকবে, সেখান থেকে কে কতটা শিখবে তা ওই মানুষটার মেধা ও প্রজ্ঞার ওপর নির্ভর করবে।

সংসার ও সন্তানদের সামলে কীভাবে সময় কাটাচ্ছেন?
‘রুপালি জোছনায়’ ধারাবাহিকটি আবার লিখছি। একটা ছবির স্ক্রিপ্ট নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে লেখায় মনোযোগ দেওয়াটা কঠিন। একটু বেশি সময় পেলে সিনেমা দেখি। প্রচুর ভালো সিনেমা তো এখনো দেখাই হয়নি, সেগুলো খুঁজে খুঁজে দেখার চেষ্টা করি। বাইরের সিনেমা বেশি দেখা হয়। কোথায় কী হচ্ছে, তা জানতে ইচ্ছে করে।

সিনেমা নির্বাচন করেন কীভাবে?
আমি যেহেতু ফিল্মের ছাত্র, তাই ডিরেক্টর দেখে সিনেমা নির্বাচন করি। একই সঙ্গে যে ছবি আলোচিত হয়েছে বা বিভিন্ন উৎসবে পুরস্কৃত হয়, সেগুলো খুঁজে খুঁজে দেখি। ভিন্ন সংস্কৃতির ছবি দেখতে ভালো লাগে। এতে সংস্কৃতির ভিন্ন ভিন্ন দিক জানা যায়।

আপনার প্রিয় পরিচালক কারা?
প্রিয় পরিচালক তো অনেকেই আছেন। নাম বলা মুশকিল, তারপরও বললে বলতে হয়, স্ট্যানলি কুবরিক, নূরি বিলগে সেলান ও কোয়েন ব্রাদারস।

অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে আপনার পছন্দের কারা?
স্টারদের প্রতি আমার ওরকম আকর্ষণ কম। নিঃসন্দেহে ভালো অভিনেতাদের কাজ আমাকে মুগ্ধ করে। প্রিয় অভিনেতাদের মধ্যে ড্যানিয়েল ডে লুইস, আল পাচিনো। আসলে অনেককেই ভালো লাগে। বিদেশি ছবিতে কোনো অভিনয়শিল্পী খারাপ অভিনয় করছে বলে মনে হয় না। ওগুলো আমাদের প্যাকেজ নাটকের মতো না। দুজন অভিনয় করবে, বাদবাকি প্রযোজক, সহকারী পরিচালক, প্রোডাকশন বয়ের ভাগনে-ভাগনিদের দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা না। (হাসি)

আপনার স্ত্রী শিল্পী বিপাশা হায়াত লম্বা সময় দেশের বাইরে। তাঁকে মিস করছেন না?
বিপাশার অনুপস্থিতিতে আমাদের পরিবার খুব টেনশনে ছিল। সন্তানদের দেখাশোনাসহ সব মিলিয়ে কঠিন সময় যাচ্ছিল। সবশেষে যেটা ভালো কথা, আগস্টেই সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছি। ফ্লাইট চালু হয়ে গেছে। দেরিতে হলেও আমরা আবার একত্র হচ্ছি।

বিয়ের পর কখনো এত লম্বা সময় দুজন এতটা দূরে থেকেছেন?
একবার যখন নিউইয়র্ক ফিল্ম একাডেমিতে পড়তে গেলাম, তখন প্রায় সাড়ে তিন-চার মাসের মতো বিপাশার কাছ থেকে দূরে ছিলাম। করোনায় সেই রেকর্ড ভেঙে গেছে। সাত মাসের বেশি সময় বিপাশা পরিবার থেকে দূরে, যদিও সবার সঙ্গে প্রতিনিয়ত ফোনে, ভিডিও কলে কথা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন