কাজটি কি মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর কারণে করলেন, নাকি ওটিটিতে ওয়েবের জোয়ার দেখে?

ফারুকী ভাইয়ের কারণেই কাজটি করেছি। তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম কাজ ছিল ‘এখানেই ডটকম’-এর বিজ্ঞাপন। ওই বিজ্ঞাপনটি দিয়েই আমাকে সবাই মডেল হিসেবে জানেন। যা-ই হোক, সিরিজটি করার জন্য ফারুকী ভাই আমাকে প্রস্তাব করেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম, ‘আমার তো অভিনয় হয় না, ভালো পারি না।’ কাজ না জেনে অযথা দর্শকের সমালোচনায় পড়তে চাইনি। এ জন্য প্রথমে রাজি ছিলাম না। তিনি বললেন, কাজ পারা না-পারা বুঝবে পরিচালক। এরপর তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ মিটিং হলো। গল্প শুনলাম। তারপরও সময় নিয়েছিলাম। পরে আমাকে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, ‘তোমার বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল আছে চরিত্রটির।’ বিশ্বাস করে কাজ করতে গিয়ে দেখালাম আসলেই তাই। আমার বাস্তব জীবনেরই চরিত্র। আমার অভিনয় করা লাগেনি।

শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

খুবই ভালো। আমার চরিত্রের নাম লরা। শুটিংয়ের সময় সিরিজের চরিত্রের নামে সবাই একে অপরকে ডাকতেন। যেমন তাসনিয়া ফারিণের চরিত্রের নাম নাবিলা। শুটিংয়ে তাঁকে নাবিলা বলেই ডাকা হতো। অথচ আমার চরিত্রটি এতটাই ব্যক্তিজীবনের কাছাকাছি যে বেশির ভাগ সময়ই লরার পরিবর্তে মারিয়া নামেই ডাকা হতো আমাকে। আরেকটি অভিজ্ঞতা ফারুকী ভাইকে নিয়ে। শুটিংয়ে কখনোই তিনি বসেন না। সারাক্ষণ মুভিং। হই-হুল্লোড় করে লোকেশন মাতিয়ে রাখেন। মোট কথা, একটা চিল মুডে থাকেন। তাঁর নিজের স্পিরিটকে শিল্পীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেন। এটি তাঁর ভালো কাজের দারুণ একটি কৌশল।

ক্রিকেটের উপস্থাপনার জন্যই আপনাকে সবাই চেনে, জানে...

আমি তো আগে রেডিও জকি ছিলাম। ক্রিকেট নিয়ে অনুষ্ঠানের আগ্রহ তেমন ছিল না। ২০১৪ সালে ক্রিকেটের ‘টি-২০ বিশ্বকাপ’ নিয়ে ‘ক্রিকেট ব্লাস্ট’ নামে একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনার প্রস্তাব আসে একটি চ্যানেল থেকে। আমার তেমন একটা আগ্রহ ছিল না। কারণ প্রথম এ ধরনের অনুষ্ঠান নিয়ে আমি নার্ভাস ছিলাম। পরে আমি ও নাবিলা ভাগাভাগি করে অনুষ্ঠানটি করি। প্রথম পর্ব প্রচারের পর দর্শকের কাছ থেকে দারুণ সাড়া পাই। সেই থেকেই শুরু। এরপর জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা নিয়ে অনেক শো করেছি। এখনো করছি। সামনে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জন্য বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি ম্যাচ নিয়ে লাইভ শো করব।

ক্রিকেট নিয়ে অনুষ্ঠান করতে ক্রিকেট সম্পর্কে ভালো জ্ঞান রাখতে হয়...

ছোটবেলা থেকেই কিছুটা ক্রিকেটের ভক্ত। সেই ১৯৯৭ সালের ঘটনা। তখন টেলিভিশনে দেখার সুযোগ ছিল না। রেডিওতে ক্রিকেট খেলার ধারাভাষ্য শুনতাম। বুলবুল ভাই, রফিক ভাই ও পাইলট ভাইয়ের দারুণ ভক্ত ছিলাম। সুতরাং আগে থেকেই ক্রিকেট সম্পর্কে কিছুটা জানাশোনা আছে। আর এখন তো আরও পরিপক্ব।

ফুটবল পছন্দ হয় না?

ক্রিকেটের মতো না। ফুটবল নিয়ে আমি অতটা পাগল নই। দেশ-বিদেশের ফুটবলের খবর তেমন রাখি না। তবে ১১ জুলাই অনুষ্ঠেয় কোপা আমেরিকা কাপের ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার মধ্যে ফাইনাল খেলাটি নিয়ে খুবই এক্সসাইটেড আছি।

মেসি ও নেইমার যদি আপনার অতিথি হয়ে আসে, তাঁদের কী প্রশ্ন করবেন?

মেসিকে প্রশ্ন করতাম, বর্তমান আর্জেন্টিনার যে টিমটি আছে, বিশ্বকাপ পেতে এর চেয়ে ভালো টিম আশা করেন বা এই টিম নিয়ে কতটুকু সন্তুষ্ট। আর নেইমারকে করতাম, খেলতে গিয়ে মাঠে সে এত গড়াগড়ি খায়, সেটি কি ইনটেনশনাল নাকি সত্যিকারে ব্যথা পেয়েই গড়াগড়ি খান!