নুসরাত ইমরোজ তিশা
নুসরাত ইমরোজ তিশাছবি: প্রথম আলো
মুম্বাইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু’ সিনেমার শুটিং করে সম্প্রতি ঢাকায় ফিরেছিলেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। তিন দিন পর শুটিংয়ের জন্য আবার মুম্বাই যেতে হয়েছে তাঁকে। গতকাল শনিবার দুপুরে ছবির কাজসহ নানা প্রসঙ্গে কথা হয় তাঁর সঙ্গে

এবার কি টানা শুটিং করবেন, নাকি যাওয়া–আসার মধ্যে থাকবেন?

আমি আসলে জানি না। করোনার এই সময়ে দেশের বাইরে যাওয়ার আগে কোভিড টেস্ট করা, তারপর উড়াল দেওয়া, খুবই কষ্ট হবে, সময়ও লাগে। এ ছাড়া ঢাকা টু মুম্বাই ফ্লেক্সিবল ফ্লাইট নেই, ট্রানজিট হয়ে যেতে হয়। এবারও ঢাকা থেকে কলকাতা হয়ে মুম্বাই এসেছি। সবকিছু মিলে মনে হচ্ছে এবার শুটিং শেষ করেই ফিরতে হবে।

default-image
বিজ্ঞাপন

‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিতে আপনাকে কার ভূমিকায় দেখা যাবে?

আমি বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী রেণুর (শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব) চরিত্রে অভিনয় করছি। এই চরিত্রের ২০ বছর বয়স থেকে মৃত্যুর আগপর্যন্ত আমাকে দেখা যাবে।

অভিনয়শিল্পীদের সবাই বলছেন, ইতিহাসের অংশ হতে পারছেন। আপনিও কি তা–ই মনে করছেন? এ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে কেমন লাগছে?

একদমই তা–ই, এই ছবিতে কাজ করা ইতিহাসের অংশ হওয়াই। কিছু কিছু অনুভূতি সব সময় প্রকাশ করা সম্ভব হয় না। আমি মনে করি, বড় সুযোগগুলোর সঙ্গে থাকে বড় রকমের দায়িত্ব। এটা অনেক বড় প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাস যাঁর মাধ্যমে রচিত হয়েছে, যাঁর কথা সেই ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি, এখন ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে সেই পরিবারের অংশ হতে পারছি, এটা তো নিঃসন্দেহে অভিনয়শিল্পী হিসেবে ভীষণ ভালো লাগার। দেশের বাইরের একটি ইউনিটের সঙ্গে কাজ করছি, যাতে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল থাকে, সেভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমি যেন ঠিকঠাকমতো কাজটা করে আসতে পারি এবং সুন্দরভাবে দর্শকের কাছে উপস্থাপিত হতে পারি, সেই দোয়া চাই।

default-image

অভিনয়শিল্পীদের অনেকে বলেন, ইতিহাসনির্ভর কাজে চ্যালেঞ্জটা অন্য সব চরিত্রের চেয়ে অনেক বেশি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কী করছেন?

চ্যালেঞ্জ তো প্রতিটি চরিত্রে থাকে। নাটক, সিনেমায় যখন কোনো চরিত্রের বর্ণনা দেওয়া হয়, পরিচালকের নির্দেশনামতো আমি আমার মতো করে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। ইতিহাসনির্ভর কাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, যে মানুষটা সম্পর্কে দেশ–বিদেশের সবাই খুব ভালোভাবে জানেন, দেখে এসেছেন, সেই মানুষের মতো করে নিজেকে উপস্থাপন করা সত্যিই কষ্টসাধ্য। শতভাগ চেষ্টা করছি। জানি না কতটা পারব। এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, এখানে মানুষের আবেগ যেমন জড়িত, তেমনি ইতিহাসও।

সিনেমার রেণু হয়ে ওঠার পেছনে আপনার কাছে রেফারেন্স হিসেবে কী ছিল?

সেই অর্থে আমার কাছে কোনো রেফারেন্স ছিল না। বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে যিনি অভিনয় করছেন, তাঁর সুবিধা হচ্ছে মানুষটার ভাষণ থেকে শুরু করে অনেক কিছু সংরক্ষিত আছে। তিনি আমাদের দেশের সম্মুখভাগের নায়ক। আর রেণু চরিত্রটা পেছনের হিরো। তিনি পেছনে থেকে বঙ্গবন্ধুকে সাপোর্ট করে গেছেন। কখনো মানুষটা সামনে আসেননি। তাই এ ধরনের মানুষের চরিত্র ফুটিয়ে তোলাটা কঠিন। প্রস্তুতির কথা যদি বলতেই হয়, প্রথমবার মুম্বাইয়ে শুটিংয়ে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমাদের একটা লম্বা সেশন ছিল। সেখানেই তাঁর মায়ের চরিত্র সম্পর্কে ৯০ ভাগ ধারণা পাই। তাঁর মুখ থেকে শুনেই আমার চরিত্রটি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। তিনি নিখুঁতভাবে এত বিস্তারিত বলেছেন, ওটাই আমাকে চরিত্রটির উপস্থাপনে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে। বই পড়ে অনেক ইতিহাস হয়তো জেনেছি, কিন্তু ভেতরের মানুষটাকে জানার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর বোন শেখ রেহানা সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছেন।

default-image

আপনার বর মোস্তফা সরয়ার ফারুকীও দেশের একজন গুণী পরিচালক। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর একটা সুনাম আছে। চরিত্রটির জন্য আপনাকে যখন নির্বাচিত করা হয়, স্বামী ও নির্মাতা হিসেবে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী আপনাকে কতটা সহযোগিতা করেছেন। কোনো টিপস দিয়েছেন কী? নাকি তিনি কোনো কিছুই বলেননি?

সরয়ার যখন শুনেছে আমি রেণু চরিত্রটি করছি, আমার যেমন খুশি হয়েছে একইভাবে সে–ও অনেক খুশি হয়েছে। আমার অর্জন তার অর্জন, তার অর্জনও আমার। কারণ, আমরা একই মানুষ। স্বামী, বন্ধু, পরিচালক হিসেবে সরয়ার যখন আমার কোনো সফলতা দেখে এবং আমি যখন ওর সফলতা দেখি, দুজনেই খুব খুশি হই। রেণু চরিত্রে চূড়ান্ত হওয়ার পর সরয়ার আমাকে অনেকগুলো বই সাজেস্ট করেছে, পড়তে সাহায্য করেছে। চরিত্রের গভীরে ঢোকার নানান টিপস দিয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে তার কাছ থেকে নানা কিছু জানতে আমাদের প্রশ্ন কেমন ও কী ধরনের হওয়া উচিত, সে ব্যাপারেও সহযোগিতা করেছে। আমি তার কাছ থেকে, আমার মায়ের কাছ থেকে, এমনকি শ্বশুরের কাছ থেকে যেভাবে সহযোগিতা ও মানসিক সাপোর্ট পাচ্ছি, এটা অভিভূত হওয়ার মতো।

বিজ্ঞাপন

‘বঙ্গবন্ধু’ ছবির শুটিংয়ে আপনারা দেশের বাইরের পরিচালকের পাশাপাশি সেখানকার ইউনিটের সঙ্গে কাজ করেছেন। মুম্বাইয়ের ইউনিটের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন?

প্রথমবার গিয়ে আমি মাত্র তিন দিন শুটিং করেছি। আজ থেকে টানা শুটিং করব এপ্রিল পর্যন্ত। অভিজ্ঞতা অন্য রকম। একেক দেশের একেক রকম নিয়ম, কিন্তু সবার লক্ষ্য একটাই, আমরা একটা সিনেমার শুটিং করছি, উইথ আওয়ার ইমোশন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া—যেখানেই বলি না কেন, আমরা কিন্তু একটা ফিকশনের শুটিং করছি। পেশাদারত্ব বজায় রেখে আমরা কাজটা করছি এবং সবাই একটা ভালো কাজ উপহার দিতে চাইছি। বাংলাদেশে যখন আমরা কোনো সিনেমার শুটিং করি, সেটার অভিজ্ঞতা থাকে এক রকম। আমরা যখন বাইরে বড় পরিসরে, বিশাল বাজেটে, বড় পরিধিতে শুটিং করি, সেটার অভিজ্ঞতা অন্য রকম। ওটা আমাদের জন্য নতুন এবং শিক্ষণীয়। দেখা গেল, একই দৃশ্যে বাংলাদেশে শুটিং করলে এক রকম, ভারতে করলে আরেক রকম এবং আমেরিকায় করলে আরেক রকম হবে। তাই বলব, নতুন কিছু শিখছি।

default-image

এখন পর্যন্ত যে কটি চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে, একেকটিতে একেক রকম চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এমন কোনো চরিত্র আছে, যে ছবিতে অভিনয় শেষেও ঘোরের মধ্যে ছিলেন?

আমার সিনেমার সংখ্যা অনেক না হলেও অসাধারণ সব কাজ করেছি। ‘শনিবার বিকেল’ ছবির চরিত্রের কথা যদি বলি, এটির অভিনয় শেষের পরও স্বাভাবিক হতে অনেক সময় লেগেছে। আমার মনে হয়, শুধু আমার একার নয়, সিনেমার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক শিল্পী, পরিচালক এবং সহকারীরও সময় লেগেছে। কাজটা যদিও দর্শক দেখেননি, কিন্তু দেখলে কিছুটা বুঝতে পারবেন আমরা কী পরিমাণ পরিশ্রম করেছি।

এপ্রিল পর্যন্ত মুম্বাইয়ে শুটিংয়ে থাকবেন। দেশে যে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করছিলেন, সেটার কী হবে?

প্রথম সিজনের শুটিং শেষ। দ্বিতীয় কিস্তি শুরু করার পরিকল্পনা চলছে ঈদুল ফিতরে। তত দিনে আমি ঢাকায় ফিরব।

default-image

আপনি তো অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন না। এটা করছেন কেন?

মেরিল-প্রথম আলো অনুষ্ঠান দুবার উপস্থাপনা করার পর অনেকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজি হইনি। গেম শো অনুষ্ঠানের নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যখন যোগাযোগ করল, কয়েক দফা আলোচনা করেছি। একটা পর্যায়ে অনুষ্ঠানের ভাবনা ভালো লেগে যায়। তাই রাজি হই।

আপনি অতিথির কাছে নানা রকম প্রশ্ন করেন। পরের সিজনে কাকে অতিথি হিসেবে চান এবং তাঁকে বিশেষ কোন প্রশ্ন করতে চান?

অনুষ্ঠান নিয়ে আমার পুরো স্বাধীনতা আছে। তবে অতিথি নির্বাচন ও প্রশ্নের ব্যাপারে আমি কিছুই বলতে পারব না। আমি কাউকে কোনো প্রশ্নও করতে চাই না। কারণ হচ্ছে, জীবনে সবকিছু জানতে হয় না। সবকিছুর উত্তর শুনতেও হয় না।

default-image

বিনোদন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। সংবাদমাধ্যমে অনেক ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন। কোন প্রশ্নটা শুনে বিরক্ত হয়েছেন?

যখনই কোনো সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, আপু আপনার অনুভূতি বলুন? তবে সাংবাদিকদের দোষও দেব না। আমার বিরক্ত হওয়ার কারণ, আমি সঠিকভাবে অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি না।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন