খায়রুল বাশার
খায়রুল বাশারছবি : প্রথম আলো
নিজেকে চেনাতে শুরু করেছেন তরুণ অভিনেতা খায়রুল বাশার। বিজ্ঞাপন, নাটক, চলচ্চিত্র—সব জায়গায় অভিনয়ে যত্নের ছাপ রেখেছেন, হয়েছেন প্রশংসিত। অভিনয় ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে অকপট কথা বললেন প্রথম আলোর সঙ্গে।

খেয়ে আসার জন্য একটু দেরি হবে বললেন। কী দিয়ে খেলেন বাসায়?

অনেক পদের সবজি দিয়ে খিচুড়ি। আর ডিম রান্না ছিল। মাঝেমধ্যে বাইরে খাই। নতুবা নিজে রান্না করে খাই। ক্যাম্পাসে থাকতে আমি প্রায়ই রান্না করে খেতাম।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীতে পড়েছেন কি স্বেচ্ছায়?

একদম নিজের ইচ্ছায়, একরকম যুদ্ধ করে ভর্তি হয়েছিলাম বলা যেতে পারে। ছোটবেলা থেকেই গান শুনতে বেশ লাগত। তবে আমার বাসায় টেলিভিশন, রেডিও কিংবা এমন কোনো কিছুই ছিল না। প্রথম কবে কোথায় কীভাবে শুনেছি, তা–ও মনে নেই। মামাবাড়িতে গেলে মান্না দে, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, কিশোর কুমার, লতা মঙ্গেশকরদের গান শোনা হতো। ময়মনসিংহে গাঙ্গিনারপাড় বলে একটা জায়গা আছে। ওদিকেই সব ক্যাসেটের দোকান। সেখানে গেলেই আমি কান খাড়া করে ফেলতাম। রিকশা থেকে নেমে বালাম, হাবিব, হৃদয় খানদের গান শুনতাম।

default-image
বিজ্ঞাপন

বাসায় রাজি হলো?

পড়ালেখা নিয়ে ওভাবে কোনো চাপ ছিল না পরিবার থেকে। তবে মিউজিকে পড়ব, এটাও কেউ সহজভাবে নেয়নি। বড় ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পড়ত। আমারও ইচ্ছা ছিল ওই বিষয়ে পড়ার। বাসায় বোঝালাম, যে যে বিষয়েই পড়ুক, সবাই বিসিএস দেয়। সে জন্য বিভাগ কোনো সমস্যা নয়। তারপর কোনো রকমে রাজি হলো আরকি!

দিয়েছেন বিসিএস?

পাগল! চাকরি করার জন্য আমি জন্মাইনি। আমি যদি অভিনয় বা কিছুই না করতাম, তাহলে মাটি কেটে খেতাম। কিন্তু ৯টা–৫টা চাকরি আমাকে দিয়ে হবে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অপরাজেয় বাংলার সামনে আপনার মাইম দেখেছিলাম।মাইম সোসাইটিতে কেন গেলেন?

জানি না। আমি যে খুব সোশ্যাল মানুষ, তা নয়। ওরা না বলেই কত কিছু বলছে। ওই শিল্পমাধ্যম পছন্দ হয়েছিল। মাইম করতে গিয়েই মনে হলো, আমি অভিনয় করতে চাই। একেকটা চরিত্র হয়ে উঠতে চাই। মাইম ছাড়া প্রথম আলোর বন্ধুসভায় যুক্ত ছিলাম। আর লোক নাট্যদলের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। কিন্তু মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত হতে গিয়ে দুটো টিউশনিই বন্ধ হয়ে গেল। খাওয়াদাওয়ার ঝামেলার জন্য সাত মাস পর আবার নাটক ছেড়ে টিউশনি শুরু করলাম। পড়াশোনা শেষ করে আবার অভিনয়ে ফিরলাম। তবে তারেক মাসুদ স্যারের ‘মাটির ময়না’ দেখে তাঁর পরিচালনায় অভিনয়ের ইচ্ছা জেগেছিল। ভেবেছিলাম, প্রস্তুতি নিয়ে একসময় তাঁকে গিয়ে বলব...

default-image

আপনার অভিনয়ের শুরু ২০১৭ সালে। এই চার বছরে কী কী কাজ করলেন?

‘অস্থির সময়ে স্বস্তির গল্প’ সিরিজের সৈয়দ আহমেদ শাওকীর পরিচালনায় ‘কথা হবে তো’ নাটক করলাম। দুই বছর ধরে জিৎ দের পরিচালনায় ‘ক্যাম্পাস ক্লাইমেক্স’ নামে একটা সিনেমা করেছিলাম। ওটাই আসলে প্রথম কাজ। একেবারে ন্যাচারাল লাইট, শিল্পী-কলাকুশলী সবাই ক্যাম্পাসের অপেশাদার অভিনয়শিল্পী। তবে কাজটা যারা দেখেছে, ভালো বলেছে। ‘পুনরাবৃত্তি’, ‘পোস্টার’ আর ‘মাকড়শা’ নামে শর্টফিল্ম করেছি। তবে গত বছর ভালোবাসা দিবসে ‘তোমার পাশে হাঁটতে দিও’ নাটক দিয়ে আমি বেশ পরিচিতি পেয়েছি। এ বছরও ভালোবাসা দিবসের নাটক করলাম ‘একদিন বৃষ্টিতে বিকেলে’ নামে। এবার আমার সহশিল্পী টয়া। এই নাটকের শুটিংয়ের জন্যই এখানে আসতে সময় লেগেছে। দিন পাঁচেক আগে আপনি যখন ফোন করেছিলেন, তখন ঢাকার বিভিন্ন লোকেশনে আমার শুটিং চলছিল। তা ছাড়া ‘একাত্তর’ ওয়েব সিরিজ করলাম। সিনেমা করলাম ‘ইতি তোমারই ঢাকা’ আর ‘ঊনপঞ্চাশ বাতাস’। আরও একটি সিনেমার ব্যাপারে আলাপ চলছে। তবে এখনই লেখা যাবে না। আরও বেশ কয়েকটা বিজ্ঞাপন আর মিউজিক ভিডিও করেছি।

এখন কী নিয়ে ব্যস্ততা চলছে?

আমি আসলে কখনোই সেভাবে ব্যস্ত থাকি না। কালেভদ্রে কাজ করি। না হলে বাসায় বসে অভিনয় নিয়ে ভাবি, সিনেমা আর সিরিজ দেখি। বেরও হই না বিশেষ। পরিচালক, প্রযোজক ফোন দিলে কাজ পাই। ফোনেই আলাপ হয়। আসলে আমি ছোটবেলা থেকেই ঘরকুনো। বিকেলে খেলতেও যেতাম না। ঘরে বসে ভাবতাম যে এখন নিশ্চয়ই ওরা খেলছে। এভাবে বলটা মারল বা ভাইয়া এখন কলেজ থেকে ফিরবে। আমার হোমওয়ার্ক হয়নি বলে এভাবে বকা দেবে। মানুষের এক্সপ্রেশন দেখতে আমার খুব ভালো লাগত। মাঝেমধ্যে পাশের বাসার আন্টিরা আসত। বারান্দায় কেউ কাপড় নাড়ত। আমি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব দেখতাম। একটা নাটকের শুটিং শেষ হলো। সিনেমার কাজ শুরু করব। আরেকটা ওয়েব সিরিজের কাজও শুরু হবে শিগগির।

করোনাকালে বাংলাদেশে ওয়েব প্ল্যাটফর্মের যাত্রা বেশ ভালোভাবেই শুরু হয়ে গেল। মাধ্যম হিসেবে কেমন লাগছে?

আমি ভেবেছিলাম, ওটিটিতে গল্পই হিরো। নির্মাণ আর অভিনয় সেই হিরোকে জয়ী করবে। কিন্তু এখানেও তারকা নেওয়ার একটা প্রবণতা শুরু হয়েছে। তবে আমার মনে হয়, শুরুতে সাবস্ক্রাইবার বাড়ানোর জন্য তাঁরা এটা করছেন। আশা করছি, সময়ের সঙ্গে এটা ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের মতো ‘অতারকা’ শিল্পীরাও ভালো চরিত্র পাবে।

default-image

কাদের অভিনয় আপনার ভালো লাগে?

রবার্ট ডি নিরো, ডেনিয়েল ডে লুইস, হোয়াকিন ফিনিক্স, লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও, হ্যাভিয়ের বারদেম, মনোজ বাজপেয়ি, ফাসিল ফাহাদ, নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী, পঙ্কজ ত্রিপাঠি, উত্তম কুমার, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। আমাদের আসাদুজ্জামান নূর, হুমায়ুন ফরীদি, আহমেদ রুবেল, শহীদুজ্জামান সেলিম, চঞ্চল চৌধুরী, মোশাররফ করিম, শ্যামল মাওলা, মনোজ প্রামাণিক, আমার বন্ধু সোহেল মণ্ডল। আমি তাঁদের দেখে অভিনয় শিখি। অবশ্য সবচেয়ে ভালো অভিনয় শিখি চারপাশের মানুষ দেখে।

আপনার স্বপ্নের পরিচালক কারা?

ও রকম কেউ নেই। আমার কোনো ‘সেলিব্রিটি ক্রাশ’ও নেই। সৈয়দ আহমেদ শাওকী, মেজবাউর রহমান সুমন, অমিতাভ রেজা চৌধুরী, অনম বিশ্বাসদের সঙ্গে আমি কাজ করেছি, করছি। আপাতত মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের সঙ্গে কাজ করতে চাই। সবার সঙ্গেই কাজ করার ইচ্ছা। যাতে নানা অভিজ্ঞতা থেকে নানা কিছু শেখার সুযোগ হয়।

বিজ্ঞাপন
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন