বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

ভক্তদের কাছে আপনার পরিচয় সংগীতশিল্পী হিসেবে। এই মাধ্যমের আপনার উপস্থিতি কম কেন?

আমি প্রায় ১ হাজার ৪৫০টি গানের গায়ক। প্রায় এক শ গান গেয়েছি ফিল্মে, কিছু রেডিও টিভিতে, অডিও সেক্টরে আমার গানের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২৫০। দেশে কোনো পুরুষ শিল্পীর এত গান আছে কি না জানা নেই। তখন দর্শক অডিও টাকা দিয়ে কিনে শুনেছে। গানগুলো বিক্রি হয়েছে বলেই বেরিয়েছে। কিন্তু এখন ডিজিটাল ফ্রি ডাউনলোড আপলোডের জন্য আমাদের অডিও মার্কেটের রেভিনিউ কিছুই জেনারেট হয় না। যে কারণেই বেশির ভাগ শিল্পীরই বছরে ৫ থেকে ১০টার বেশি গান বের হয় না। বড় বড় প্রযোজকও ফ্রি গান নিচ্ছেন, ইউটিউবে ছাড়ছেন। কিছু টাকা রয়্যালটি দেবেন বলেন কিন্তু দেখা যায় পাঁচ হাজার টাকা দিচ্ছেন। শিল্পী আর কী টাকা চাইবে? আবার ভালো একটি মিউজিক ভিডিও নিজের পকেট থেকে চার–পাঁচ লাখ টাকা খরচ করতে হয়। টাকা ওঠানোতেও অনিশ্চিত। এসব কারণেই গান কমিয়ে দিয়েছি।

কিন্তু অনেকেই তো ইউটিউব থেকে টাকা আয় করছেন?

কিছু টাকা তো আয় হচ্ছে। কিন্তু গুগল ও ফেসবুকের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ খুবই কম। তাদের অফিস দেশে নেই। বিশ্বের অন্য দেশ যে পরিমাণ রেভিনিউ পায়, সেই তুলনায় আমরা খুবই কম টাকা পাই। তাদের পলিসিতে আমরা ধরা খেয়ে আছি। এ জন্য লিরিক্যাল ভিডিও, স্টুডিও ভার্সন গান করে দর্শকদের নতুন গানের স্বাদ দিচ্ছি। আরেকটি কথা আমি বলতে চাই?

জি বলুন?

আমাদের এখানে প্রোফেশনালিজম জায়গাটা একেবারেই নেই। এখানে সম্পর্কের ওপর চ্যানেলে গণমাধ্যমে শিল্পীরা হাইলাইট হন। অনেক সময় শিল্পী ভালো কাজ করলেও তাঁকে উৎসাহিত করা হয় না। এখানে প্রচুর লেজুড়বৃত্তি চলে। আমি মনে করি, মাস্টার্স, এমফিল পাস করে এই ছ্যাঁচড়ামির সংস্কৃতি সবাইকে মানায় না। একজন রুচিশীল শিল্পীর পক্ষে ছ্যাঁচড়ামি বা লেজুড়বৃত্তি, আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়। কোনো শিল্পীর পক্ষেই আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কাজ করা সম্ভব নয়।

default-image

তাহলে কারা আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কাজ করছেন?

সেটা আমি জানি না। তবে যাঁদের মানসিক উন্নয়নে শৈল্পিক ব্যাপারটা নেই, তাঁরা যা ইচ্ছে তাই করতে পারেন। এঁরাই আজ পেট্রনাইজ। কিন্তু প্রকৃত শিল্পীরা আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে কাজ করবেন না।

সংগীতকে এগিয়ে নিতে হলে এই জায়গা থেকে কীভাবে বের হওয়া যায়?

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে মানসম্পন্ন লোক আসতে হবে। যারা ডেডিকেটেড, বিচক্ষণ, শৈল্পিক গুণাবলি তুলনামূলক বেশি, তাদেরকে মূল্যায়নে করতে হবে। তা না হলে সংগীত আরও পিছিয়ে যাবে। কোনো লাভ হবে না। গুণীর কদর না হলে এখানে আর গুণী জন্মাবে না।

আপনার কোনো অভিমান আছে?

একটি কথাই বলি, একসময় পড়েছি, বন্যরা বনে সুন্দর শিশুরা মাতৃক্রোড়ে, এখন দেখছি বন্যরা বনে সুন্দর হওয়ার সুযোগই পাচ্ছে না। এখন সুরের জায়গায় অসুর বসে যাচ্ছে। আমাদের সবাইকে মিলিয়েই এই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এভাবে সংকর প্রজাতির সংস্কৃতি আমাদের স্ট্যাবলিশ হবে। মৌলিক সংস্কৃতি জায়গা পাবে না।

default-image

আপনার গানের ক্ষেত্রে কতটা এখন কতটা উৎসাহ আছে?

রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে শিল্পীকে উৎসাহ তৈরি করতে হবে। আমি সাংস্কৃতিকভাবে নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীকে গুরু মনে করি। তাঁর প্রতিই তো রাষ্ট্র উদাসীন। এটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। দেশে এত বিবেকসম্পন্ন লোক থাকতেও নিয়াজ মোহম্মদ চৌধুরীর মতো বিচক্ষণ গুণী শিল্পীকে সেই অর্থে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি, সেখানে আমি এস ডি রুবেল কে?

এখন গান থেকে রেসপন্স কেমন পান?

এখনো লাইভে গান করলে, ইউটিউবে গান ছাড়লে রেসপন্স আসে। কিন্তু এখন চ্যানেল অনেকে। কেউ তো চ্যানেলগুলোতে শিল্পীদের খুঁজে বেড়াবে না। হয়তো দর্শক আমাকে খুঁজেই পায় না। শ্রোতাদের সঙ্গে একটি দূরত্ব বাড়ছে। আর আমাদের দেশে মিউজিক রিলেটেড চ্যানেল তেমন একটা নেই। একটি চ্যানেল রয়েছে, তারাও অপ্রতুল কাজ করছে। তারা দেশীয় শিল্পীদের পেট্রনাইজেশনে কতটা ভূমিকা রাখতে পারছে আমার সন্দেহ আছে।

আগামী ঈদে কয়টি গান আসবে?

বেশ কিছু গান নিয়ে এগোচ্ছি। ‘তোর মাঝেই বাঁচি আমি’, ‘কে তুমি এলে জীবনে’, ‘এই পৃথিবীর মায়ার বাঁধন’সহ পাঁচ–সাতটি গান রিলিজ দেওয়ার চেষ্টা করছি।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন