default-image

নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার যৌথ জীবনের চার বছর হয়ে গেল। ১৬ জুলাই ছিল তাঁদের বিয়ের বার্ষিকী।
সম্প্রতি তিশাকে নিয়ে একটা বিজ্ঞাপনচিত্রও নির্মাণ করলেন ফারুকী।
প্রেক্ষাপটটা এমনই। ঈদ উপহারের পক্ষ থেকে তাই একটা সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র করা হলো।
ফারুকীর সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।
কিন্তু প্রশ্ন সরবরাহ করবেন তিশা।
সাক্ষাৎকার দেওয়ার জন্য প্রস্তুত ফারুকী।...করুন। প্রশ্ন করুন।
মানে তিশা জানতে চেয়েছেন...
তিশা জানতে চেয়েছেন মানে...
মানে আপনাকে যেসব প্রশ্ন করা হবে, সেসব আসলে তিশার দেওয়া। তিশার প্রশ্ন। আপনি উত্তর দেবেন। তিশা কাছে নেই। আপনি নির্ভয়ে জবাব দিন।
হেসে ফেললেন ফারুকী। বুদ্ধি তো ভালোই।
১. ভবিষ্যতে তোমার কাজ নিয়ে পরিকল্পনা কী?
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী: তিশা কেন এ রকম পরিকল্পনামন্ত্রীর মতো প্রশ্ন করলেন, বুঝলাম না। তার পরও তিনি যখন একই সঙ্গে পরিকল্পনা ও ‘হোম মিনিস্টার’, তখন উত্তর তো দিতেই হবে। কাজ নিয়ে আমার পরিকল্পনা হচ্ছে, আমি চলতে-ফিরতে আশপাশে যেসব গল্প দেখি, যত দিন বেঁচে আছি, সেগুলো যেন সিনেমার মাধ্যমে কাউকে শুনিয়ে যেতে পারি।
২. সামনের দিনগুলোতে নিজেকে কোথায় দেখতে চাও?
মো.স.ফা.: একটা সময় আমার
সিনেমাগুলো দেখে যেন দর্শক বুঝতে পারে কাজগুলো আমার। এমনটা হলে খুব খুশি হব। আমি চাই, আমার কাজগুলো তেমন একটা চেহারা পাক। আর দেশের বাইরের দর্শক যখন আমার সিনেমা দেখবে, তখন যেন বলতে পারে এটা ভারত, ইরান, কোরিয়া বা ফ্রান্সের সিনেমা নয়। এমনকি আমেরিকার ছবিও নয়। দেখে যেন বলতে পারে, এটা বাংলাদেশের ছবি।
৩. বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও চলচ্চিত্র মাধ্যমকে ভবিষ্যতে কোথায় দেখতে চাও?
মো.স.ফা.: তাহলে দেখা যাচ্ছে, তিশা পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে পাকাপোক্ত! ভবিষ্যতে বাংলাদেশের সিনেমাকে কোথায় দেখতে চাই তা একটু আগেই বললাম—দেখে যেন বোঝা যায় এটা বাংলাদেশের সিনেমা। আর বিজ্ঞাপনের বেলায় বলি, বাংলাদেশের সমাজ, মানুষের
রূপ-রস-গন্ধ আমাদের কমিউনিকেশনে আরও বেশি বেশি দেখতে চাই।
৪. সংসারজীবনের ৪ বছর পূর্তিতে প্রাপ্তি কী?
মো.স.ফা.: এখন দেখি কেবল পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় নয়, তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বেও আছেন, ব্যালেন্স শিট মেলাচ্ছেন! প্রাপ্তি হচ্ছে একটা শান্ত, মায়াময়, সুশৃঙ্খল জীবন।
৫. অপ্রাপ্তি কী?
মো.স.ফা.: অপ্রাপ্তি নিয়ে মাথা ঘামাই না। জীবনে অপ্রাপ্তি বলে কিছু নেই। ‘যা কিছু তুমি পেয়েছ, তা-ই পাওনা ছিল, যা পাওনি তা তোমার পাওনা ছিল না।’
৬. নিজেকে তুমি কতটা ভালোবাস?
মো.স.ফা.: প্রচুর পরিমাণে ভালোবাসি! এতটাই ভালোবাসি যে নিজেকে সামান্য কষ্ট দিতে পারি না। এসি চালালেই গায়ে কম্বল জড়াই, যেন ঠান্ডা না লাগে। নিজের প্রতি আমার প্রেম প্রবল।
৭. তোমার জীবনে এই পর্যায়ে আসার পেছনে আশপাশের কার কী অবদান?
মো.স.ফা.: তিশা কি আসলে তাঁর নিজের অবদান জানতে চাইছেন? তাহলে তো আমার বলা ঠিক হবে না। আচ্ছা, তার পরও বলি। আমি সব সময় বিশ্বাস করি, মানুষ সার্বভৌম প্রাণী নয়। সার্বভৌম কোনো দেশও নেই পৃথিবীতে। আমরা আসলে অনেক মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা, প্রেম, ভালোবাসা, মায়া, উৎসাহ, পরামর্শের যোগফল। ফলে নিজের অর্জন নিয়ে আনন্দিত হওয়া যায় কিন্তু উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। জীবনে এই পর্যায়ে আসার পেছনে অবদানের প্রসঙ্গে নির্দিষ্ট করে বলতে বললে সবার প্রথমে আমার আব্বা-আম্মার কথা বলতে হবে। তারপর আমার স্ত্রী, আমার ভাইবোন, আমার বন্ধুরা, ছোটবেলায় যে ক্লাব করতাম, সেই আল-আমীন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা হাবীব ভাই, কবি বেলাল চৌধুরী, বিপ্লব বালা, সাজ্জাদ শরিফ, আনিসুল হক, পুলক গুপ্ত, দেশের বাইরে আমার কাজ পছন্দ করেন, এমন ফিল্ম প্রোগ্রামার, ক্রিটিক আছেন, তাঁদের কথা বলতে হবে। এমন আরও হাজার হাজার মানুষের ভূমিকা আছে আমার জীবনে। এমনকি নিয়মিত আমার চুল কেটে দেয় যে ছেলেটা—রাম, বিনয় শেখার চেষ্টা করি ওর কাছ থেকে। কিন্তু এখনো ওর মতো বিনয়ী হতে পারিনি। শেষে বলতে পারি, আমি একটা ব্লটিং পেপার নিয়ে ঘুরি সারাক্ষণ। চলতে-ফিরতে, কাজে-অকাজে যখন যার সঙ্গে দেখা হয়, কথা হয়, আমি তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অংশটা শুষে নিই সেই ব্লটিং পেপারে।
সূত্রধর: মাহফুজ রহমান

বিজ্ঞাপন
আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন