অপি করিম
অপি করিমছবি : প্রথম আলো
প্রতিবছরই ভারতীয় ছবি মূল্যায়ন করে থাকে ফিপ্রেসি-ইন্ডিয়া বা দ্য ইন্ডিয়া চ্যাপ্টার অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিকস। এবারও তা করা হয়েছে। এতে স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের অপি করিম অভিনীত সিনেমা ‘মায়ার জঞ্জাল’! আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি উৎসবেও অংশ নেবে ছবিটি। বুধবার সন্ধ্যায় এসব নিয়েই কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

ফিপ্রেসি-ইন্ডিয়া বা দ্য ইন্ডিয়া চ্যাপ্টার অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ক্রিটিকসে আপনার অভিনীত ছবিটি সেরা দশে জায়গা করে নিয়েছে। অনুভূতি বলুন।

নিঃসন্দেহে ব্যাখ্যাতীত আনন্দ। ছবিটি বিশ্বের বড় বড় উৎসবেও প্রদর্শিত হচ্ছে, পুরস্কার জিতে নিচ্ছে। সব মিলিয়ে মনে হয়, এ ধরনের একটা কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারাটাও আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি।একটি

default-image

এর আগে নানা উৎসবে ছবিটি সম্মাননা বয়ে এনেছে। অভিনয়িল্পী হিসেবে কতটা গৌরবের?

আমি তো আসলে সে হিসেবে সিনেমায় অভিনয় করিইনি। ‘মায়ার জঞ্জাল’ ছবিটি বিশ্বের যেকোনো উৎসবে প্রদর্শিত হওয়া কিংবা পুরস্কৃত হওয়া মানেই, ওখানকার কোথাও না কোথাও আমিও আছি। এর মধ্যে যেকোনো অর্জন মানে, আমারও অর্জন। হোক না তা ছোট কিংবা বড়। আমার তো এ–ও মনে হয়, পৃথিবী যদি স্বাভাবিক থাকত, সুন্দর থাকত, ছবিটি যেভাবে ঘুরছে আমরাও ঘুরতাম। আমার অর্জনে নতুন কিছু পালক যুক্ত হতো হয়তো।

বিজ্ঞাপন

১৪ বছর পর একটি ছবি করেছেন। কী ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন?

আমরা যেভাবে নাটকে অভিনয় করি, বেশির ভাগ দেখা যায়, তা সাধারণত আমি কেন্দ্রিক থাকে। ছবিটা মোটেও এমন না। ছবিতে কিন্তু আমার পর্দা–উপস্থিতি অনেক কম, সংলাপও কম। সবার প্রশ্ন হতেই পারে, অপি এমন ছবি কেন করতে গেল? আমি বলতে চাই, প্রথম কারণ হচ্ছে, এই পরিচালকের সঙ্গে একটা ছবিতে কাজ করতে চেয়েছিলাম। তাঁর ‘ফড়িং’ ছবিটি আমার ভীষণ পছন্দের। এটার গল্পটাই অন্য রকম। এই ছবির গল্পই আমাকে ছবিটি করতে অনুপ্রাণিত করেছে। আমি নিজেও অন্য রকম গল্পে নিজেকে যুক্ত করতে চেয়েছি। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, অভিনয়শিল্পী ঋত্বিক, তাঁর সঙ্গে পর্দা ভাগাভাগি করার অভিজ্ঞতাও নিতে চেয়েছি। এর চেয়েও বড় আরেকটা বিষয় কাজ করেছে, দুই দেশের বাংলা ভাষাভাষীর কাছে ছবিটি পৌঁছে যাবে।

default-image

সে না হয় বোঝা গেল। ছবিটি যখন বিভিন্ন উৎসবেও যাচ্ছে, সম্মাননা বয়ে আনছে, তার মানে সবকিছু মিলিয়ে মনে হচ্ছে আপনার সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সঠিক ছিল?

আমি আসলে দুইয়ে–দুইয়ে তো চার মেলাইনি। মন চেয়েছে, তাই এই পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি। একটা ভালো কাজের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করার মধ্য দিয়ে অভিজ্ঞতা বাড়ে। এখন যখন প্রশংসা কুড়াচ্ছে, শুনতে ভালো লাগছে।

এই ছবিতে অভিনয়ের পরে নিশ্চয় আরও অনেকে আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। যদি করে থাকেন, সেসবের কী অবস্থা, যদি জানাতেন।

এই ছবিতে অভিনয়ের পর অনেক ছবির প্রস্তাব এসেছে ঠিকই। ভাবতে ভাবতে মহামারি চলে এল। এর মধ্যে রশ্মি (অপি করিমের মেয়ে) জানান দিল, সে পৃথিবীতে আসছে। এরপর তো ওকে নিয়েই ব্যস্ত হয়ে গেছি। পুরো মহামারিতে আমি তো ঘর থেকে বেরই হইনি, শুধু ডাক্তারের কাছে যাওয়া ছাড়া। পরবর্তী সময়ে কবে কাজ করব, সেটাও এক রকম ঠিক হয়নি। চাইলে কিছু কাজ করতে পারতাম, কিন্তু আমি ঘর থেকে বের হওয়ার কারণে যদি আমার পরিবারের কেউ করোনায় সংক্রমিত হয়, তাহলে নিজেকে কখনোই ক্ষমা করতে পারব না। আমাদের ঘরে একেবারে শিশু যেমন আছে, আমার বয়সীও মানুষ আছে, আবার বয়োজ্যেষ্ঠও আছেন। সবার সুরক্ষার বিষয়টি মাথায় রাখতে হয়। পরিবারের একজন সচেতন মানুষ হিসেবে নিজেকে ঘরের মধ্যে বন্দী করে রেখেছি।

default-image

আপনি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। করোনায় বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ। অভিনয়েও সময় দিতে হচ্ছে না। আপনার মতো একজন কর্মব্যস্ত মানুষের বাসায় থেকে সময় কাটছে কীভাবে?

এটা মনে হয় আসলে অনেক সময় থাকে, বিষয়টা মোটেও তা না। যে ঘরে শিশু আছে, সে ঘরে তো কোনো মায়ের জন্য ঘুমানোরও সময় থাকে না। সময় উল্টো ধার করতে হবে মনে হয়। আমি তো মেয়েকে নিয়ে গুনগুন করে গান শোনাই। একটু ছড়া পড়ি। ওভাবে সময় কেটে যায়। সময় বলতে আমার এখন রশ্মিই সব।

মা হওয়ার পর তো জীবনটাই অন্য রকম হয়ে গেছে আপনার।

জীবনটাই অন্য রকম হয়ে গেছে। আমার বাবা-মা পুরো জীবনভর ছিলেন। কদিন আগে বাবা চলে গেলেন। এরপরই মায়ের কোভিড–১৯ পজিটিভ হলো। এমন পৃথিবী তৈরি হয়েছে, করোনার কারণে মায়ের কাছে যেতে পারিনি। এই অবস্থা হবে, কখনো ভাবতে পারিনি। সত্যিই, এ এক অন্য রকম পৃথিবী। রশ্মির পৃথিবীতে আসা আমাকে একটা সম্বোধন দিয়েছে, আমি এখন মা।

বিজ্ঞাপন
default-image

করোনায় অনেকে তো কাজ করেছেন। আপনি তো চাইলে পারতেন মনে হয়। কাজকর্ম নিয়ে চিন্তাভাবনা করছেন কী?

এর মধ্যে কিছু কাজ করা যেত না যে, তা কিন্তু না। কিন্তু আমি মোটেও আগ্রহ পাচ্ছি না। করোনার শুরুর কিছুদিন পরই তো রশ্মি আসার খবর জানান দিল, এরপর গর্ভবতী মাকে যেভাবে আনন্দে থাকতে হয়, আমাকে তা করতে হয়েছে। কখনো গল্পের বই পড়ে, আবার কখনো গান শুনে আমি বেশি ভালো ছিলাম।

করোনা মহামারি নিয়ে একেকজনের ব্যাখ্যা একেক রকম। আপনার কাছে এর ব্যাখ্যা কী?

পৃথিবীতে প্রতি ১০০ বছরে মহামারি আসে। ইতিহাস তা–ই বলে। তখন হয়তো ইন্টারনেটের এত বিস্তার ছিল না বলে জানতাম না। আমার কথা, প্রকৃতিরও একটা প্রতিক্রিয়া আছে। এই মহামারি ক্রিয়া–প্রতিক্রিয়ারই ফল। আমরা শুধুই উন্নয়ন করছি, অথচ আমরা অক্সিজেনের অভাবে ভুগছি। শুধু আমরা না, পৃথিবীর অনেক বড় দেশও এসব সংকটে আছে। মানুষকে সব সময় প্রকৃতির কাছে নতজানু হতে হয়। উপায় নেই। এটা মানতেই হবে। তাই আমাদের বেঁচে থাকতে হলে প্রকৃতিকে সম্মান করে বাঁচতে হবে।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন