default-image
বরেণ্য রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী ও সংগীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুরের ধারার চেয়ারম্যান রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার আজ জন্মদিন। করোনাকালের জন্মদিন নিয়ে পরিকল্পনা কী, তা জানতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কথা হয় তাঁর সঙ্গে। জানালেন আরও কিছু কথা

জন্মদিন কীভাবে কাটবে। বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি?

করোনার মধ্যে যে বেঁচে আছি, এটাই অন্য রকম ফিলিং। আমি অনেক বেশি লাকি এবং ব্লেসড—করোনার মধ্যেও জন্মদিন উদ্‌যাপনের সুযোগ পাচ্ছি। এই সৌভাগ্য কয়জনেরই–বা হয়। আমরা প্রতিবছর এই সময়টায় পৌষ উৎসব করি। এবারও করছি, কিন্তু দুই দিনের জায়গায় এক দিন করছি। এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিজের অস্তিত্বকে নিজের কাছে জানান দেওয়া আরকি, আমরা এখনো আছি। লালমাটিয়া হাউজিং সোসাইটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে বেলা তিনটায় শুরু হবে এই আয়োজন।

default-image
বিজ্ঞাপন

বছর ঘুরে আসে জন্মদিন। এই ব্যাপারটা কীভাবে দেখেন?

ছোট বাচ্চারা জন্মদিন দেখে আনন্দের উপলক্ষ হিসেবে। একটা বয়সের পর জন্মদিন সেল্ফ রিয়েলাইজেশন হয়, কী করলাম এত দিন ধরে। একই সঙ্গে মনে হয়, জীবনের সময় ফুরিয়ে আসছে। প্রতিবার জন্মদিন এলে তা মনে করিয়ে দেয়। নানা রকম দার্শনিক চিন্তা আসে।

গেল বছর নিশ্চয় অনেক কাজ করার পরিকল্পনা ছিল। কতটা এগোল, কতটা আগামীর জন্য রেখে দিতে হলো?

বছরজুড়ে আমাদের তো অনেক কাজ থাকে। কিছুই হয়নি। কোনো রেকর্ডিং যেমন হয়নি, তেমনি ছিল না কোনো অনুষ্ঠান। গেল বছর আসলে কাজ কিছুই হয়নি। পুরো বছরটাই বেকার গেছে। ঘরে বসে থেকেছি। করোনায় আক্রান্ত হয়েছি। মানসিক স্থবিরতা, বিষণ্নতা, শারীরিক সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে খারাপ গেছে। আশা করছি, এই বছরটা ভালো যাবে।

default-image

মানসিক স্থবিরতা কাটাতে কী করলেন?

অনেক কিছু করার চেষ্টা করেছি। এমনিতে সারা দিন বাসায় বসে থাকতে থাকতে একটা সময় বাড়ি থেকে বের হতে ইচ্ছে করত না। মনে হতো যে শুয়ে-বসে টেলিভিশন দেখে সময় কাটিয়ে দিই। খুব বাজে অভ্যাস তৈরি হয়েছিল। এই সময়টায় বাড়ির ছাদে বাগান করলাম। বাগানে প্রচুর সময় দিলাম। বাগানটা খুব রিফ্রেশিং এক্সপেরিয়েন্স। একই সঙ্গে আনন্দ এবং মনটাকে তাজা করে দিয়েছে। আগেও করতাম, কিন্তু এভাবে সময় দেওয়া হতো না আরকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডির থিসিস কমপ্লিট করেছি। আমার সাবজেক্ট ছিল রবীন্দ্রসংগীতের দুই পর্ব—নদীতীরে ও শুষ্ক মাটিতে। এখনো ডক্টরেট ডিগ্রি পাইনি।

শুধু রবীন্দ্রসংগীতে নয়, বাংলাদেশের সংগীতাঙ্গনে আপনার যতটা অবদান, তা কীভাবে দেখেন?

আমি এটাকে কন্ট্রিবিউশন বা অবদান বলব না, একজন শিল্পী হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই একটা দায়বদ্ধতা আছে। তা যেমন সমাজের প্রতি, তেমনি মানুষের প্রতিও। এই দায়বদ্ধতা থেকে শিল্পীদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। করোনার সময় শিল্পীদের আর্থিকভাবে সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

default-image

একটা শিল্পময় জীবন কাটালেন। এ জীবন নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি?

আক্ষেপ তো আছেই। এখন তো মনে হয়, আরেকবার জন্ম নিলে জীবনটাকে অন্যভাবে সাজাতাম। ক্ল্যাসিক্যাল শিখতাম, শুধুই ক্ল্যাসিক্যাল শিখতাম। এমনিতে আমি মনে করি, আমি অনেক হ্যাপি এবং ব্লেসড। জীবনে সে রকম কোনো ড্র ব্যাক নাই।

আমরা একটা নতুন দশকের মধ্যে পদার্পণ করলাম। কেমন সংগীতাঙ্গন প্রত্যাশা করেন?

সত্যিকারের সুরে ভরা একটা সংগীতাঙ্গন চাই। যেখানে জীবনের সুর, গলার সুর, মনের সুর—সব একসঙ্গে বাজবে। এখন তো পুরো বিষয়টা প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে গেছে। সুর যেন কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষের গলাতে সুর নাই, মনেতে সুর নাই, জীবন থেকেও সুর হারিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

এমন অঙ্গন পেতে আপনার পরামর্শ কী?

সবকিছুর মধ্যে একটা ডিসিপ্লিন, ডেডিকেশন, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা, সাধনা আনা জরুরি। সাধনার বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ, এটাকে এখন আর কেউই গুরুত্ব দেয় বলে মনে না। আমরা যারা পুরোনোপন্থী, সব সময় মনে করি, সাধনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন পুরো ব্যাপারটা হয়ে গেছে উল্টো, সব হয়ে গেছে প্রচারসর্বস্ব, যা ছিল আগে সাধনাসর্বস্ব।

default-image

কণ্ঠশিল্পী পরিষদ বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠন চালু করেছিলেন। যে স্বপ্ন নিয়ে আপনারা এই সংগঠন চালু করেছেন, তা কতটা বাস্তবের পথে?

একটা সংগঠন রাতারাতি অনেক বিশাল কিছু করে ফেলবে, তা তো মুখের কথা না। শিল্পীদের স্বার্থ দেখা, সংগীতাঙ্গনে জটিল অবস্থা নিরসনের চেষ্টা চলছে। এই সময়টায় শিল্পীদের কীভাবে সহায়তা করা যায়। শিল্পীরা কীভাবে লাভবান হতে পারে, এটাই আমাদের সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য। শিল্পীদের একত্র করা। মাত্র তো শুরু করলাম। আমরা খুব আশাবাদী, ভালো কিছু হবে।

মন্তব্য করুন