বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অনেক নির্মাতার সঙ্গে কাজ করেছেন। তরুণ নির্মাতা সাওকীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

আমি তাঁদের মতো কয়েকজন তরুণ সঙ্গে কাজ করে খুবই হ্যাপি। তাঁদের সঙ্গে কাজ করার পর আমার উপলব্ধি, দেশের সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ এই তরুণদের হাত ধরে দারুণ একটা জায়গায় যাবে। তাঁদের জানাশোনা বা কাজ করার স্পৃহা, খুবই মুগ্ধ করে। আন্তরিকভাবে তাঁরা কাজকে প্রাধান্য দেন। তা ছাড়া তাঁরা টেকনিক্যালি দারুণ রিচ। শঙ্খ দাশগুপ্ত, রবিউল আলম রবি এবং সর্বশেষ ধীমানের কাজ দেখে তো আমি মুগ্ধ। নতুন ১০–১৫ জন ডিরেক্টর এসেছেন, যাঁরা এই ইন্ডাস্ট্রির চেহারা পাল্টে দেবেন।

default-image

এই সময়ে টেলিভিশনের চেয়ে ওয়েবে কাজ করার কারণেই কি তাঁরা নিজেদের বিকশিত করতে পেরেছেন? অনেক বলেন, ওয়েবে বাজেট বেশি ও স্বাধীনতা থাকায় পরিচালকেরা মন খুলে কাজ করতে পারেন।

ওয়েবের বাজেট এখনকার টেলিভিশনের পরিচালকদের দিলেও তাঁরা পারবেন না। কারণ, এত বছরে এক ধরনের প্যাটার্নে কাজ করতে করতে তাঁদের মধ্যে অন্য ধরনের অভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে। সাধারণত, ওয়েবে একটা কাজের ক্ষেত্রে তিন মাসের মতো প্রস্তুতি থাকে। ওখানকার কাজে প্রি–প্রোডাকশনে অনেক সময় দেওয়া হয়। টেলিভিশন নাটকে তো এখন প্রি–প্রোডাকশনই নেই। একটা কাজ শুরুর আগে যে প্রস্তুতি, সেটাই তো আসল। স্পটে গিয়ে তো শুধু শুটিং। সিনেমা, ওয়েব সিরিজ ও নাটকের মূল কাজ হয় প্রি–প্রোডাকশনে। ওভাবে আমাদের টেলিভিশনের মেকিংটাও গড়ে ওঠেনি, তবে একটা সময় ছিল।

default-image

কিন্তু এই আপনারাই তো একটা সময় টেলিভিশনের মাধ্যমে পরিচিত পেয়েছেন। মানসম্মত কাজও করেছেন।

অস্বীকার করার উপায় নেই, ছিল। কিন্তু এখানকার টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা শুধু বিজনেস পারপাসে ব্যবহার করার জন্য যা খুশি তা–ই করছেন। সস্তা বিনোদন দিয়ে দর্শকের রুচি নষ্ট করছেন। এখন আবার ইউটিউবে লাখ লাখ ভিউয়ের নেশা পেয়ে বসেছে পরিচালক, প্রযোজক ও অভিনয়শিল্পীকে। কয়েক দফা টাকা কামাবে আরকি। অথচ মূল কাজের ক্ষেত্রে ফোকাসটা নেই। মূল কাজটা ভালো করার জন্য কী কী করা উচিত, সেটার দিকে কোনো নজর নেই। একটা ইন্ডাস্ট্রিতে হাজারের মতো ডিরেক্টর। আসলে কতজন ভালো ডিরেক্টর আছেন, ৫০ বা ১০০ জন। সেখানে আরও এত এত ডিরেক্টর, তাঁরা মানসম্পন্ন কাজ করতে পারেন না। কোনো না কোনো জায়গায় তো লিয়াজোঁ মেনটেইন করে জায়গাটা আরও নষ্ট করছেন। যাঁর যা খুশি তা–ই করছেন। স্ক্রিপ্ট ছাড়াই কাজ করছেন। টেলিভিশনে সুসম্পর্কে কাজ হয় আর ওটিটিতে সুসম্পর্কের পাশাপাশি মেধাও থাকতে হয়। টেলিভিশনের কাজ ওয়ান টাইম, কিন্তু ওয়েবের কাজ আজীবন। হইচই, জি–ফাইভ আন্তর্জাতিক মানের কাজ যেমন করছে, তেমনি আমার দেশের চরকির কাজও এখন কলকাতাসহ দেশের বাইরের প্রচুর দর্শক দেখছেন। টেলিভিশনের নাটক যাঁরা বানান, বেশির ভাগের কাছে শুধু সস্তা বিনোদন দেওয়াটা মুখ্য। শিল্পমান থাক বা না থাক, এসব নিয়ে ভাবেন না তাঁরা। দর্শক হা হা হো হো করে হাসবেন অথবা সস্তা বিনোদন পাবেন, এটাই তাঁদের চাওয়া। এটা অধিকাংশের কথা বলছি, সবার কথা নয় কিন্তু। টেলিভিশনে কেউ ভালো কাজের চেষ্টা করছেন না, তা কিন্তু নয়। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত মানহীন কাজের কারণে মানসম্মত কাজ চাপা পড়ে যাচ্ছে।

তাহলে টেলিভিশন নাটক কি অস্তিত্ব–সংকটে?

আসলে আমাদের তো সবকিছু অস্তিত্ব–সংকটে। কারণ, আমাদের কারোরই মূল কাজের প্রতি ভালোবাসা নেই। কাজের মধ্যে দেশপ্রেম যদি কখনো না থাকে, দেশের প্রতি ভালোবাসা না থাকে, স্বার্থের জন্য কাজ করলে তো সব সেক্টরই হুমকির মুখে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। নাটক, গান বা সিনেমা অঙ্গনের সঠিক জায়গা সঠিক মানুষের হাতে নেই কিন্তু। অধিকাংশই শিল্পের চেয়ে ব্যবসায় বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাই এখন টেলিভিশনের জন্য চ্যালেঞ্জের সময়।

default-image

চ্যালেঞ্জ উত্তরণে কী করতে হবে?

টেলিভিশনের নিজেদের নাটকের মান বাড়াতে হবে। ভালো বাজেট দিয়ে প্রপারলি যাঁরা কাজ করতে পারেন, তাঁদের দিয়ে কাজ করাতে হবে। গড়পড়তা সুসম্পর্ক আছে বলে যাকে–তাকে কাজ দিয়ে দিলাম, তা হলে কিন্তু চলবে না। কাজটা করার ক্ষমতা আছে কি না বা ক্ষেত্রটা নষ্ট করছে কি না, এই বাছবিচারও আমরা করি না। ওটিটির সঙ্গে টেলিভিশনের পাল্লা দেওয়ার নয়। কারণ, ওটিটির বাজেট অনেক। টেলিভিশনের বাজেট এখন যা, তা অ্যাটলিস্ট ডাবল না হলে মিনিমাম কাজের কোয়ালিটি বাড়বে না। সেটা সিরিয়াল হোক বা এক ঘণ্টার নাটক হোক। আর সেই কাজ সত্যিকারের ক্রিয়েটিভদের দিয়ে করাতে হবে।

নতুন করে স্বপ্ন দেখার কথা বলছিলেন।

নতুন নির্মাতাদের মধ্যে যাঁরা যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যে অনিম, সাওকী, রবি, ধীমানদের কাজগুলো দেখে সবচেয়ে বেশি ইন্সপায়ার্ড হয়েছি। পুরোনো যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের মধ্যেও অনেকে নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। আমি আশা করছি, সামনের বছর তাঁদের কাজ এর চেয়ে ভালো হবে।

default-image

নতুন বছর নিয়ে আপনার আশাবাদের কথা শুনতে চাই।

গেল বছর ওটিটিতে আমাদের এন্ট্রি হলো। দেশি ওটিটির মধ্যে আমি আসলে চরকি নিয়ে বেশি কথা বলি। কারণ, এর অনেক ভালো সম্ভাবনা আছে। চরকির সম্ভাবনা মানে আমাদের সম্ভাবনা। চরকি যদি বছরে ১০টি ভালো প্রোডাকশন নামায়, তাহলে আমরা অনেক দূর এগোব। কাজের যে ধারা শুরু হয়েছে, সেটা আরও ভালো কাজের ইঙ্গিত দেয়।

টেলিভিশন মাধ্যমে কী আশাবাদ?

টেলিভিশনও যেন ভালো করে তার হারানো গৌরব ফেরানোর চেষ্টা করে। আমরা তো টেলিভিশনেও কাজ করতে চাই। কিন্তু সেখানে কোয়ালিটি ও বাজেটের যদি খুব পার্থক্য হয়ে যায়, তাহলে তো করা যায় না। ওটিটিতে সবাই সাবস্ক্রাইব করে দেখেন। একই আমাকে যখন টেলিভিশনের ফ্রি ফ্রি সস্তা সস্তা কনটেন্টে দেখবেন, দর্শক কিন্তু মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন