বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আপনার এই বয়সের সৌন্দর্য কী?

অনুভবই করতে পারিনি সেভাবে, প্রকাশ করব কীভাবে।

জন্মদিনে প্রথম শুভেচ্ছা কে জানাল?

আম্মা। গতকাল সারা দিন আমি মানিকগঞ্জে ‘রূপকথা নয়’ নাটকের শুটিংয়ে ছিলাম। গল্পটা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে। আমার ডিরেক্টর মাহমুদা তানি রাত ১২টা বাজতেই জড়িয়ে ধরে উইশ করেছে। সবাইকে নিয়ে কেক কেটেছে। আমার তো ওটাই ভালো লাগে, যখন কাজের মানুষগুলো আমাকে উইশ করে।

default-image

জীবনের ফেলে আসা দিন নিয়ে কোনো আফসোস হয়?

বোকা নাকি, সবই আমার। আফসোস আবার কিসের। ফেলে আসাই বা কী, রইল তো সবই আমার। চলে যাচ্ছে না তো কোথাও। সবই তো সুন্দর।

অনেকেই বলেন অনিশ্চিত আগামী। এই আগামীর জীবন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

জীবন তো সুন্দর, সুন্দরের আবার অনিশ্চয়তা কী। এনজয় এভরি মোটেমন্ট। মানুষের জন্মই তো অনিশ্চিত। যে জন্মের ঘটনা এই পৃথিবীতে ঘটে যায়, কেবল মানুষই ঠিক করবে যে একে সে নিশ্চিত করবে নাকি অনিশ্চিত। মানুষ সব সময়ই জীবনটাকে নিশ্চিত করতেই চায়, কেউ পারে, কেউ পারে না। জীবনই আমাকে এসব শিখিয়েছে। জীবনই আমাকে দেখাচ্ছে, এ জীবন কত সুন্দর।

জীবন কীভাবে শেখাল?

এ পর্যন্ত জীবনচলার পথে চারপাশ, বন্ধুবান্ধব, সিনিয়র-জুনিয়র সবার কাছ থেকে শিখি। একটা শিশু জন্মায় একা, আবার একটা মানুষ যেকোনো সময় যখন চলে যায়, তখনো একা। এই যে সময়টুকু, ইটস বিউটিফুল। তাই আমি মনে করি, প্রতি দমেই জীবনকে উদ্‌যাপন করা উচিত। আই হ্যাভ পসিবিলিটি টু ডু এবং সেই জায়গা থেকে আমি বলব, নিজের ওপর বিশ্বাস করে হাঁটো না ম্যান। কমপ্লেক্স তো জীবনে থাকবে, তাতে কী হয়েছে। জীবনে যা কিছু আসবে, সামনে থেকে তা দেখব। কারণ, সবকিছুই জীবনের অংশ। কথা হচ্ছে, ওটাকে আমি কীভাবে মোকাবিলা করব, দ্যাট ইজ ডিফরেন্ট।

default-image

এসব গভীর বোধ কবে থেকে আপনার ভেতরে উদয় হলো?

সেটা বলতে গেলে একটু পেছনে ফিরতে হবে। এই বোধ আম্মাই আমাকে প্রথম দিয়েছে। আমার আম্মা স্ট্রাগল করা নারী। মধ্যবিত্ত মানসিকতা, মফস্বল শহর, অনেক কিছু মেনটেন করে আমার জন্য যেভাবে সময় দিয়েছেন, যে ফাইট করেছেন, চেষ্টা করেছেন—আমি কতটা কী করতে পারছি, সেটা আলাদা একটা ব্যাপার। আমাকে গর্ভে নিয়ে এলএলবি পরীক্ষা দেওয়া থেকে শুরু, জীবনের কতটা পথ পাড়ি দিয়েছে, আমাকে সেই ফিলোসফি ছোটবেলা থেকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। অথচ আম্মার সঙ্গে আমার নানা বিষয়ে কমপ্লেক্স হতো। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, মানুষ ইজ মানুষ। তখন অনেক কিছু বুঝতাম না। সময়ের সঙ্গে স্কুল, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শেষ করে বুঝলাম, আম্মাই ঠিক।

আপনার দৃষ্টিতে জীবন কী?

সুন্দরভাবে বাঁচা। লাইফ তো কোনো টার্গেট না। লাইফ ইজ আ গেম, প্লে ইট হ্যাপিলি। জানপ্রাণ দিয়ে...লাইফটাকে এত সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই। কোনো কিছু অর্জন করা না, ত্যাগ করা, সম্পর্ক যাপন করা, নিজের চেষ্টা জারি রাখা, চারপাশকে ভালোবাসা—এটাই জীবন। যেই দমের ওপর আমার কন্ট্রোল নেই, তা নিয়ে এত ভাববার কী আছে। সো মেক ইট সিম্পল।

default-image

চলার পথে আপনাকে শক্তি জোগায় কী?

কাজই আমাকে সবচেয়ে বেশি এনার্জি দেয়। কতটুকু কী করতে পেরেছি জানি না, তবে ভালোবাসা আছে—এই ভালোবাসা থেকেই কাজ করি। মানুষ আমাকে যেভাবে অ্যাপ্রিশিয়েট করে, সম্মান করে—এটাই আমাকে শক্তি জোগায়।

আলাপন থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন