'হুমায়ূন আহমেদ আমাকে রানি করে রাখতেন'

বিজ্ঞাপন
default-image

জনপ্রিয় কথাশিল্পী ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ূন আহমেদের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ দিনটি ঘিরে সম্প্রতি কথা হয় লেখকের স্ত্রী অভিনয়শিল্পী মেহের আফরোজ শাওনের সঙ্গে। হ‌ুমায়ূনকে তিনি কীভাবে অনুভব করেন, সন্তানদের সঙ্গে কীভাবে করোনার এই সময়টা কাটাচ্ছেন, সেসব নিয়ে তিনি কথা বললেন প্রথম আলোর সঙ্গে।

হ‌ুমায়ূন আহমেদের চলে যাওয়ার দিনে সবচেয়ে বেশি কী মনে পড়ে?
এই দিনে আলাদা কিছু মনে পড়ে না। প্রতিদিনই আমার হুমায়ূন আহমেদকে মনে পড়ে। আমার কাছে ১৯ জুলাই শুধুই একটি তারিখ। এরপর প্রতিটি দিন একইভাবে মনে পড়া, মন খারাপ হওয়া, একটা ভালো কথা মনে করে হেসে ফেলা, ভালো লাগা, এভাবে সব সময়ই তাঁর কথা মনে পড়ে। আট বছর অনেক সময় না, আবার কম সময়ও না। অনেক সুন্দর স্মৃতি বারবার ঘুরে আসে। এবার এই দিনটায় মন খারাপ লাগছে, তবে আমার জন্য না।

তাহলে কার জন্য?
আগের বছরগুলোতে ১৯ জুলাই আমরা নুহাশপল্লীতে একটা আয়োজন করতাম। এই আয়োজনে নুহাশপল্লীর আশপাশের প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ এতিম বাচ্চা আসত। তারা সারা দিন ঘুরে বেড়াত, দৌড়াত, খেলাধুলা করত। নিষাদ, নিনিত, হ‌ুমায়ূন আহমেদের কাছের মানুষেরা মিলে আমরা তাদের বেড়ে খাওয়াতাম। হুমায়ূন আহমেদের প্রিয় খাবার রান্না করা হতো সেদিন। ওই আয়োজনটা এবার খুব মিস করছি। এবার দেখলাম, আশপাশের কোনো এতিমখানায় বাচ্চারা নেই। আমি তিন সপ্তাহ ধরে অনেকগুলো এতিমখানা খোঁজ করেছি, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে খাবার পাঠাব বলে। কিন্তু কোনো এতিমখানায় এতিম বাচ্চারা নেই। তাহলে এখন তারা কোথায়?

প্রাত্যহিক জীবনের কোন সময়টায় হ‌ুমায়ূন আহমেদকে বেশি অনুভব করেন?
সব সময়, সব সময়। আমার যখন খুব প্রশংসা শুনতে ইচ্ছা করে, তখন হুমায়ূন আহমেদকে খুব মিস করি।

default-image

তার মানে তিনি আপনাকে খুব উৎসাহ আর অনুপ্রেরণা দিতেন?
একদম। আমার তো নিজেকে রানি মনে হতো। হ‌ুমায়ূন আহমেদ আমাকে রানি করে রাখতেন। তিনি বেঁচে থাকতে নিজেকে রানি মনে করতাম। হ‌ুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে একেক সময় একেক রকম করে বলতে ইচ্ছা করে, এখন এটাই মনে হলো। যে বিষয়ে যখন আমি ভালো কাজ করেছি, তখন মিস করি বেশি, কারণ তখন প্রশংসা শুনতে ইচ্ছা করে।

একাকী মা হিসেবে করোনার এই সময়টা কি আপনার জন্য একটু অন্য রকম?
একটু অন্য রকম, সেটা করোনার জন্য না, আজীবনের জন্য। সিঙ্গেল ফাদার বা মাদার দুজনের জন্যই এটা আজীবনের চ্যালেঞ্জ। আমার তো আট বছরের পথচলা। শুরুর দিকে এটাকে খুব কঠিন মনে হতো। অভ্যস্ত হয়ে গেলে একটা পর্যায়ে সেটা আর কঠিন থাকে না, তবে বিষয়টা চ্যালেঞ্জিং। আমার ছেলেরা বিছানা করে, ঘর ঝাড়ু দেয়, নিয়মিত না হলেও দেয়।

এসব কি আপনাকে দেখে শিখেছে নাকি আপনি শিখিয়েছেন?
আমাকে দেখে শেখা নয়, নিয়ম করে করানো হয়েছে। আমি নিজেই ঠিক করে দিয়েছি, তুমি এটা করবে, তুমি ওটা করবে এভাবে বলে বলে।

তারা এখনো ছোট। এখনই এসব শেখাতে চাইলেন?
খুব ছোট কোথায়, ১৩ বছর কি খুব ছোট নাকি। (হাসি)

default-image

আপনি কি ১৩ বছর বয়সে এসব করেছেন?
সত্যি বলতে এই বয়সে করিনি। আমার মা আমাকে করতে দেননি। হয়তো তিনি ভেবেছেন, আমার মেয়ে কেন এসব করবে। আর আমার কাছে মনে হয়েছে, কেন করবে না আমার সন্তানেরা! ছেলে মানুষ কেন ঘর ঝাড়ু দেবে না, রান্না করবে না। আমার দুই সন্তানকে এসব করানোর মাধ্যমে বোঝাতে চেয়েছি, এগুলো মেয়েদের একার কাজ না। খুব সচেতনভাবে এটা আমি মনে করি। তাদের মধ্যে এই বোধটা জাগাতে চাই।

করোনা চলে গেলে কোথায় বেড়াতে যাবেন?
আমার খুব বেড়ানোর শখ। দুই ছেলে প্রায়ই বলে, প্লেনের গন্ধ মিস করছে, বেড়ানো জায়গা মিস করছে। নুহাশপল্লী তো আমাদের বেড়ানোর জায়গা নয়, ওটা আমাদের ঘরবাড়ির মতো। প্রথম হয়তো সমুদ্রের কাছে যেতে পারি, কক্সবাজারে। একটু প্রকৃতির কাছে যাব। ইট-কাঠের খাঁচা আর ভালো লাগে না।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন