নোলক বাবুছবি: সংগৃহীত
সংগীতাঙ্গনে ১৫ বছর পূর্ণ করলেন নোলক বাবু। গতকাল ছিল তাঁর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ক্যারিয়ারে কিছু ভুল, আক্ষেপ, করোনাকালীন ব্যস্ততা নিয়ে কথা বললেন তিনি।

প্রশ্ন:

শুভ জন্মদিন, কেমন আছেন?

ধন্যবাদ। শরীর ভালো নেই। সম্প্রতি বরিশালে একটি স্টেজ শোতে গিয়েছিলাম। ফেরার সময় বৃষ্টিতে ভিজি। বাসায় আসার পর থেকেই জ্বর। অসুস্থ শরীর নিয়েই এবার দিনটা কেটে গেল।

প্রশ্ন:

জন্মদিনে বিশেষ কোনো ঘটনা মনে পড়ে?

করোনার জন্য দুই বছর বাসাতেই দিনটি কেটে যাচ্ছে। অন্য সময় পরিকল্পনা থাকে। গত বছর বিশেষ এই দিনে আমার স্ত্রী বড় একটি কেক নিজ হাতে তৈরি করে সারপ্রাইজ দিয়েছিলেন। সেটাই আমার কাছে বিশেষ হয়ে রয়েছে।

নোলক বাবু
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন:

আপনার ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো ভুল ছিল?

হ্যাঁ, আমি একবার ভুল করেছি। সেই সময় থেকে বহুবার আমাকে শুনতে হয়েছে নোলক হারিয়ে গেছে। তখন আমি এক বছর দেশের বাইরে ছিলাম। কিন্তু পরে বুঝতে পেরেছি, দেশে থেকে গান করা উচিত ছিল। নিয়মিত গান না করলে দর্শকেরা ধরে নেন আমি গান ছেড়ে দিয়েছি। এটা চোখের আড়াল হওয়া মানেই মনের আড়াল হওয়ার মতো।

প্রশ্ন:

আপনার ভুলটা কী ছিল?

ইংল্যান্ডে কনসার্ট করতে গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। তার একাধিক গান সুর করার জন্য প্রায় এক বছর থাকতে হয়। এই সময়ে ৮০টির মতো কনসার্ট করেছিলাম। ২৫টির বেশি গানে সুর করেছিলাম। তখন আমি দেশের মিডিয়া বা খবরে একদমই ছিলাম না। অনেকেই মনে করেছিলেন আমি গান ছেড়েছি। ২০১২ সালে আমার ক্যারিয়ারের অনেক বড় ক্ষতি হয়েছে। দেশের সংগীতাঙ্গনে বিরতি দেওয়াটা উচিত হয়নি।

তিন সন্তানের সঙ্গে নোলক
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন:

বললেন দীর্ঘদিন ধরে শুনতে হচ্ছে আপনি কেন হারিয়ে গিয়েছেন? কখনো কি মন চায় হারিয়ে যেতে?

আমি আর হারাতে চাই না। গণমানুষের শিল্পী হয়ে আজীবন গান করে যেতে চাই। দেশ-বিদেশে অনেক চাকরির সুযোগ পেয়েছি। কিন্তু গানের জন্য সেগুলো ছেড়েছি। আমি সব পারব কিন্তু গান ছেড়ে আমার পক্ষে বাঁচা সম্ভব নয়।

প্রশ্ন:

আপনার ক্যারিয়ারে কোনো আক্ষেপ আছে?

ক্লোজআপ প্রোগ্রাম থেকে বের হওয়ার পর ছয় বছর নানা রকম চুক্তিতে আটকে গিয়েছিলাম। ২০০৫ সাল থেকে আমি বাইরে কোনো গান করতে পারিনি। সেই সময়ে অসংখ্য গানের প্রস্তাব পেয়েছি। কিন্তু চুক্তির কারণে করতে পারিনি। এই চুক্তি না থাকলে হয়তো আমিও একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দিতে পারতাম। এই কারণে প্রায়ই শুনতে হয়, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অন্যের জনপ্রিয় গান করি। সেই সময় থেকে আমি যদি বেশি গান করতে পারতাম, তাহলে আমারও কিছু গান দর্শক পছন্দ করতেন।

স্টেজে গান গাওয়ার মুহুর্তে নোলক বাবু
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন:

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় শিক্ষা কী?

মানুষ ভুল করেই। কিন্তু ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েই চলতে হবে। আমার তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ভালো আছি। তারাই আমার আগামী দিনের কাজ করার ক্ষেত্রে বড় অনুপ্রেরণা। তাদের ভালোবাসা থেকেও শেখার অনেক কিছু রয়েছে।

প্রশ্ন:

দুই বছর স্টেজ শো ঠিকমতো করতে পারছেন না। কেন, কোনো সমস্যা হচ্ছে?

আমি তো বেশির ভাগ স্টেজ শো করেই চলতাম। সেই আয়টা বলতে গেলে একেবারেই নেই। যাঁরা প্রথম সারির সংগীতশিল্পী, তাঁরা কোনোভাবে চলছেন। কিন্তু জুনিয়র অনেক গায়ককে বাসাভাড়া, পরিবারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমাদের অনেক সহকর্মী বাসা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন, যাঁরা আমাদের সঙ্গে কাজ করেন। সবকিছু মিলিয়ে মনে হয় আমরা অনেক কষ্টে আছি।

নোলক বাবু
ছবি: সংগৃহীত

প্রশ্ন:

কোনো সংগীতশিল্পীর গান আপনাকে মুগ্ধ করে?

সবার গানই শোনা হয়। কিন্তু বারী সিদ্দিকী স্যারের গান সবচেয়ে বেশি শোনা হয়। অ্যান্ড্রু কিশোর দাদার গানও আমার অনেক পছন্দ। তাঁরাই আমাকে বেশি মুগ্ধ করেন।

প্রশ্ন:

আপনার জীবনের স্বপ্ন ছিল কয়টা? কোনোটা অপূর্ণ রয়েছে?

আমার একমাত্র স্বপ্ন ছিল গান করা। সেটা পূরণ হয়েছে। এখন নিয়মিত গান করে যেতে চাই। আর একটি স্বপ্ন আছে। জামালপুরে আমার গ্রামের বাড়িতে একটি মসজিদ করতে চাই।

প্রশ্ন:

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

এখন নিয়মিত লাইভ অনুষ্ঠান করছি। ঈদের জন্য বেশ কিছু গান প্রস্তুতের কাজ চলছে। ‘প্রেমের কারিগর’ ও ‘বসতবাড়ি’ নামে দুটি গানের রেকর্ডিং নিয়ে ব্যস্ত। এর মধ্যে কিছু ইসলামিক গান রেকর্ডিং করে ভালো সাড়া পেয়েছি।

নোলক বাবু
ছবি: সংগৃহীত