default-image

সপ্তাহখানিক আগে মডেল পলিনা পোরিজকোভা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাঁর জীবনে একজন নতুন মানুষ এসেছেন। গত মাসে হঠাৎ করেই এই চেক নারীর মুখোমুখি হয় গণমাধ্যম। সেসময় তিনি জানিয়েছিলেন, সঙ্গী হিসেবে একজন পুরুষের মধ্যে তিনি কী কী গুণ প্রত্যাশা করেন।

পলিনা একজন মডেল, অভিনেত্রী ও লেখক। ৫৬ বছর বয়সী এ নারীর জন্ম চেকোস্লোভাকিয়ায়। তিনি সুইডেন ও মার্কিন নাগরিক। আর এখন তিনি মার্কিন লেখক ৫৯ বছর বয়সী অ্যারন সরকিনের প্রেমিকা। গত সন্ধ্যায় পরস্পরকে বাহুডোরে বেঁধে তাঁরা উপস্থিত হয়েছিলেন অস্কার অনুষ্ঠানে। সবাইকে যথেষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার আহ্বান জানানো হলেও, এ জুটি ছিলেন কাছাকাছি, দুজন দুজনের বাহুসংলগ্ন হয়ে। আর হাসি হাসি মুখ নিয়ে উপভোগ করেছেন অস্কার আয়োজন। যদিও অস্কার জয় করতে পারেননি সরকিন।

বিজ্ঞাপন
default-image

অ্যারন সরকিন অস্কারে সেরা চিত্রনাট্যকার হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন। তাঁর গল্পে নির্মিত ছবি ‘দ্য ট্র্যায়াল অব দ্য শিকাগো সেভেন’-এর পরিচালকও ছিলেন তিনি। ১৯৬৮ সালের এক বিচারের রায়ের ঘটনা থেকে প্রাণিত হয়ে লেখা হয় ‘দ্য ট্র্যায়াল অব দ্য শিকাগো সেভেন’ ছবির চিত্রনাট্য। লেখক সরকিনের প্রেমিকা পলিনা চেয়েছিলেন এমন এক পুরুষকে, যিনি তাঁর কথা মন দিয়ে শুনবেন তাঁকে একটা দামি জিনিস বা সুন্দরী নারী হিসেবে না বিবেচনা করে; তিনি কে, সেই বিবেচনায় তাঁকে ভালোবাসবেন। সংবাদমাধ্যমে পলিনা বলেন, ‘পুরুষ দুই রকম। একদল আমি কে, সেটা বিবেচনা করে আমাকে পছন্দ করবে। অন্য দলটি আমার মতো একজন নারীকে সঙ্গী হিসেবে পেয়েই খুশি থাকবে। যদিও এভাবে পুরুষদের পার্থক্য করা কঠিন। তবে কিছু নারী আছেন, তাঁরা সুদর্শন, ক্ষমতাবান আর পয়সাওয়ালা পুরুষ পছন্দ করেন। আমি সব সময় মেধাবী মানুষ পছন্দ করি। আমার কাছে মেধার মতো আকর্ষণীয় আর কিছু নেই।’

default-image

সেই মেধাবী, প্রেমিকার মতে আকর্ষণীয় পুরুষ সরকিন লিখেছেন ‘দ্য ওয়েস্ট উইং’, ‘আ ফিউ গুড মেন’, ‘মানিবল’ এবং ‘দ্য সোশাল নেটওয়ার্ক’ ছবিগুলোর চিত্রনাট্য। এই মানুষটির প্রেমে না পড়ে উপায় কী? তবে তাঁকে বাহুডোরে বেঁধে যে অস্কারের অনুষ্ঠানে যাবেন শিগগিরই, এত বড় প্রত্যাশা হয়তো পলিনার ছিল না। সরকিন পরিচালিত ‘দ্য ট্র্যায়াল অব দ্য শিকাগো সেভেন’ ছয়টি মনোনয়ন পেয়েছিল অস্কারে। এতেই আনন্দে আত্মহারা ছিলেন দুজন। পলিনা বলেছিলেন, ‘যাদের সঙ্গে প্রেম করেছি, তাদের অনেককেই দেখেছি খুব সাধারণ কাজ করে, কিন্তু মানুষ হিসেবে চমৎকার। মেধাবীরা কিন্তু অন্যদের চেয়ে একটু জটিল হয়, সেটাই তাদের সৌন্দর্য। আমার ডেটিং ক্যালেন্ডারে তবে কেন একজন রক মিউজিশিয়ান থাকবে না?’

বিজ্ঞাপন
default-image

পলিনা জীবন কাটিয়ে দিয়েছেন একজন মানুষের সঙ্গেই। ১৯৮৯ সালে তিনি বিয়ে করেছিলেন মার্কিন রক শিল্পী রিক ওকাসেককে। বিখ্যাত কারস ব্যান্ডের ভোকাল ছিলেন তিনি। মাত্র ১৯ বছর বয়সে পলিনা তাঁকে বিয়ে করে ৩০ বছর সংসার করেন। ২০১৭ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ২০১৯ সালে মারা যান রিক। তাঁদের দুটি সন্তানও রয়েছে। পলিনা বলেন, ‘পুনরায় প্রেম শুরু করার পর বুঝতে পারি, এই কাজে আমি তেমন পারদর্শী নই। কারণ, যখন প্রেম করতাম, তখন তো টিনেজার ছিলাম। এখন এই পরিণত বয়সে সে সময়ের পাগলামো ধরে রাখা কঠিন ব্যাপার।’ তিনি মনে করেন, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ আত্মবিশ্বাস ও জ্ঞান অর্জন করে, যা ৫০-এর পরের প্রাপ্তি। তিনি বলেন, ‘এখন আমি জানি আনন্দ কীভাবে উপভোগ করতে হয়। এখন আমি কাউকে আনন্দ দিতে নয়, বরং আনন্দ নিতে আগ্রহী।’

হলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন