অ্যামি অ্যাডামস
অ্যামি অ্যাডামসইনস্টাগ্রাম

অ্যামি অ্যাডামসকে যেন অস্কার দেওয়া না হয়, এ দাবি তুলে একটা বিশেষ আর্টিকেল প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী ‘ভালচার’। এই ফিচারের লেখক ক্রিস মর্ফির বক্তব্য, সদ্য মুক্তি পাওয়া ‘হিলবিলি এলিজি’ ছবির জন্য যদি অ্যামিকে এ বছরের অস্কার হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়, সেটি হবে তাঁর অভিনয়প্রতিভার প্রতি চূড়ান্ত অবমাননা।
বিনোদন সাংবাদিক ক্রিস জানান, তাঁর জীবনের দেখা অন্যতম সেরা সিনেমা ‘জুনবাগ’। ২০০৫ সালে যখন তাঁর বয়স মাত্র ১২, তখন তিনি তাঁর দাদির ঘরে ডিভিডিতে লুকিয়ে লুকিয়ে ‘আর রেটেড’ (কেবল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য) এই সিনেমা দেখেছিলেন। ১৫ বছর পর ২০২০ সালে দাঁড়িয়েও এই সাংবাদিকের কাছে মনে হয়, ‘জুনবাগ’ তাঁর জীবনের দেখা সেরা পাঁচ সিনেমার একটি। যদিও এর মধ্যে তিনি কয়েক হাজার সিনেমা দেখে ফেলেছেন। আর অ্যামি অ্যাডামসের অভিনয় ছিল সেরা পারফরম্যান্সগুলোর একটি।

default-image
বিজ্ঞাপন

‘জুনবাগ’ ছাড়াও ‘এনচ্যানটেড’, ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’, ‘দ্য ফাইটার’, ‘ডাউট’ ও ‘মাস্টার’ ছবিতে অ্যামির অভিনয় চোখে লেগে আছে এই লেখকের। এসব সিনেমার জন্য ছয়টি অস্কার মনোনয়নও পেয়েছেন এই হলিউড অভিনেত্রী। তবে জেতেননি একটিও। ১১ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে অ্যামি অভিনীত ‘হিলবিলি এলিজি’। ২৪ নভেম্বর ছবিটি মুক্তি পাবে নেটফ্লিক্সে। ছবিতে তাঁকে দেখা গেছে মাদকাসক্ত এক মায়ের ভূমিকায়। সন্তান আর নিজের এলোমেলো জীবন নিয়ে যার হিমশিম অবস্থা। সিনেমাটি সমালোচকদের কাছ থেকে পেয়েছে রসগোল্লা। রোটেন টমাটোস এই ছবিকে দিয়েছে ২৯ শতাংশ রেটিং। অথচ এই ছবিতে অ্যামির অভিনয়ের জন্য অস্কার জয় নিয়ে শুরু হয়ে গেছে আলোচনা।

default-image

ক্রিসের মতে, এটি অ্যামির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে খারাপ অভিনয়। এত বড় মাপের একজন অভিনয়শিল্পীর পক্ষে এর চেয়ে খারাপ অভিনয় করা সম্ভব নয়। তা সমালোচকদের চোখে যত ভালোই লাগুক না কেন। কেননা অ্যামি তাঁর অন্য সব ছবিতে এর চেয়ে ভালো অভিনয় করেছেন। তাই ক্রিসের মতে, এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য অস্কার দিলে অ্যামির অভিনয়ের প্রতিই অসম্মান জানানো হবে।


ক্রিস লিখেছেন, ‘সিনেমার জন্য আজগুবি একটা বছর ২০২০। আর এই বছরে অ্যামির অভিনয় বিশ্ব চলচ্চিত্রের বড় পর্দায় গভীর ছাপ ফেলেছে। এই সব হাবিজাবি কথাবার্তা বলে যদি অ্যামিকে সেরা অভিনেত্রীর অস্কার ধরিয়ে দেওয়া হয়, সেটা হবে অন্যায়। অ্যামি খালি মাঠে গোল দেওয়ার প্লেয়ার নন। অ্যামি অনেক আগেই অস্কারের যোগ্য ছিলেন। একটি নয়, একাধিক অস্কারের যোগ্য তিনি। তবে এই ছবির জন্য নয়। যে বছরে হাতেগোনা কয়েকটি ছবি মুক্তি পেয়েছে, বড় অভিনেতাদের ভালো ছবি মুক্তি পায়নি, সে বছরে অ্যামি নয়। ভেড়ার গোয়ালে বাছুর মোড়ল—অ্যামির অস্কারের ক্ষেত্রে যেন এই প্রবাদের প্রয়োগ না হয়। অ্যামি বাছুর নন, তিনি সিংহ।’

default-image
বিজ্ঞাপন
default-image

এই প্রতিবেদনে অস্কারের জন্য অ্যামিকে ভোট না করার অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, অ্যামির হাতে যদি ২০২১ সালে অস্কার ওঠে, তাহলে সেটা লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিওর ‘রেভেন্যান্ট’ মোমেন্ট হবে না। জুলিয়ান মুর যেমন ‘স্টিল এলাইস’, শার্লিজ থেরন যেমন ‘মনস্টার’ ছবিতে অস্কার পেলেন; অ্যামির ক্ষেত্রেও যেন এমন কোনো গভীর ছাপ ফেলা ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য অস্কার দেওয়া হয়। মেরিল স্ট্রিপকে যেমন শুধু শুধু ‘দ্য আয়রন লেডি’-তে অভিনয়ের জন্য অস্কার দেওয়া হলো, এমনটা যেন অ্যামির জন্য না হয়।


অনুবাদ: জিনাত শারমিন, ঢাকা

মন্তব্য পড়ুন 0