default-image

ঐতিহাসিক এবং বিস্ময়কর—৯৩তম অস্কারকে এভাবেই বর্ণনা করা যেতে পারে। অস্কারের ইতিহাসে এই প্রথম একজন অন্য রঙের বা অশ্বেতাঙ্গ নারী সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেলেন। তবে ইতিহাস সৃষ্টি করলেও নিজের জন্মভূমি চীনেই পরিত্যাজ্য হয়ে থাকলেন সেরা ছবি নোম্যাডল্যান্ড-এর পরিচালক ক্লোয়ি ঝাও। উৎসব তো হলোই না, সরকারি সেন্সরের কাঁচির নিচে পড়ল তাঁর সব অর্জনের সংবাদটুকুও। ৯ বছর আগে কোনো এক সাক্ষাৎকারে নিজের দেশ নিয়ে কিছু সমালোচনা করেছিলেন, সেই দোষেই ক্লোয়ি ঝাও চীনে নিষিদ্ধ। সরকারি কোনো মাধ্যমেই তাঁর নাম উচ্চারণ করা হয়নি, সামাজিক মাধ্যমেও নেই কোনো উল্লেখ, এমনকি হংকংয়ের ইতিহাসে এবারই প্রথম যে তারা অস্কার সম্প্রচার করেনি। যে অস্কার হতে পারত চীনের গর্ব, তাকে দূরে ঠেলে দিল রাজনীতি।

অবশ্য সত্যিকার অর্থে এবার বিস্ময় সৃষ্টি করেছেন অ্যান্থনি হপকিন্স। দ্য ফাদার সিনেমায় স্মৃতি হারাতে থাকা বৃদ্ধ বাবার চরিত্রে অভিনয় করে দ্বিতীয়বারের মতো অস্কার হাতে তুলে নিলেন তিনি। এর আগে ১৯৯১ সালে দ্য সাইলেন্স অব দ্য ল্যাম্বস সিনেমায় মাত্র ২৪ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের পর্দায় উপস্থিতিতেই তাঁর অস্কার জয় আজও বিস্ময় হয়ে আছে। তা ছাড়া ৯৩ বছর বয়সী অস্কারের ইতিহাসে সেরা অভিনেতা হিসেবে সবচেয়ে বয়স্ক বিজয়ী ৮৩ বছরের এই অ্যান্থনি হপকিন্স।

বিজ্ঞাপন
সারা দুনিয়ার যেখানেই আমি গিয়েছি, যাদের সঙ্গে মিশেছি, সেখানে মানুষের মধ্যে ভালোটাকে পেয়েছি
ক্লোয়ি ঝাও, সেরা পরিচালক

এবার অবশ্য আরেক অর্থে হপকিন্সের সেরা অভিনেতার অস্কার পাওয়াকে কেউ কেউ বিস্ময়কর বলছেন। অনেকেরই ধারণা ছিল, এবারের অস্কারটি যাবে মা রেইনি’স ব্ল্যাক বটম চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য চ্যাডউইক বোজম্যানের ঘরে, সরাসরি হাতে নয়। কারণ, গত বছরের ২৮ আগস্ট মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কোলন ক্যানসারে অকালে মারা গেছেন তিনি। এমন নয় যে বেঁচে নেই বলে সান্ত্বনা হিসেবে অস্কার দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, বরং সত্যিকার অর্থেই সেরার দাবিদার চ্যাডউইক বোজম্যান—এ মতের অনুসারী কম নয়। এবারই প্রথম প্রথা ভেঙে সবার শেষে সেরা অভিনেতার পুরস্কার দেওয়া হয়। এর আগে সব সময় সবশেষে সেরা ছবির পুরস্কারের ঘোষণা করা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, আয়োজকেরা ভেবেছিলেন চ্যাডউইক বোজম্যানই পুরস্কারটি পাবেন এবং তাঁকে স্মরণ করেই অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানা হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেলেন হপকিন্স, যিনি উপস্থিত ছিলেন না। পরে এক ভিডিও বার্তায় অ্যান্থনি হপকিন্সও বলেছেন, তিনি এই বয়সে সেরা হবেন, এটা তাঁর প্রত্যাশাই ছিল না। এ সময় তিনি চ্যাডউইক বোজম্যানকেই স্মরণ করেন।

এবার আরেক ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন নোম্যাডল্যান্ড সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পাওয়া ফ্রান্সিস ম্যাকডোরম্যান্ড। এ ছবির অন্যতম প্রযোজকও তিনি। এ নিয়ে তিনবার সেরা অভিনেত্রী হয়ে ক্যাথরিন হেপবার্ন, ইনগ্রিড বার্গম্যান ও মেরিল স্ট্রিপের পাশে নিজের নামটি লেখালেন তিনি। ৮৩ বছরের সেরা অভিনেতার পাশে ৬৩ বছরের সেরা অভিনেত্রীর কথা যখন এলই, তখন সেরা সহ-অভিনেত্রীর কথাটাও বলা প্রয়োজন। মিনারি ছবিতে অনবদ্য অভিনয়ের জন্য পুরস্কারটি হাতে তুলে নিয়েছেন ৭৩ বছরের দক্ষিণ কোরিয়ার অভিনেত্রী ইয়া-জাং উন। দক্ষিণ কোরিয়ার কোনো অভিনেত্রীর এটাই প্রথম অস্কার। আর জুডাস অ্যান্ড দ্য ব্ল্যাক মোসিয়েহ সিনেমার জন্য সেরা সহ-অভিনেতার পুরস্কার পাওয়া ড্যানিয়েল কালুইয়ার বয়স মাত্রই ৩২ বছর। তবে এই অশ্বেতাঙ্গ অভিনেতা স্মরণে থাকবেন পুরস্কার হাতে নিয়ে অস্কার ইতিহাসের অন্যতম বিব্রতকর বক্তব্যের কারণে।

default-image

মহামারির এই সময়ে এবারের অস্কারে বয়স, জাতপাত বা গায়ের রং নিয়ে কারোরই কোনো মাথাব্যথা ছিল না। এ কারণেই হয়তো ক্লোয়ি ঝাও তাঁর অস্কার উৎসর্গ করলেন উদার মনের মানুষদের। তিনি বললেন, ‘জন্মের সময় মানুষের মধ্যে ভালো যা সব প্রোথিত থাকে—শৈশবে পড়া প্রবাদটির মারাত্মক প্রভাব পড়েছিল আমার ওপর। আমি এমনকি আজও গভীরভাবে এই কথাটা সত্য বলে মানি—যদিও মাঝেমধ্যে মনে হয় হয়তো উল্টোটা ঠিক। কিন্তু সারা দুনিয়ার যেখানেই আমি গিয়েছি, যাদের সঙ্গে মিশেছি, সেখানে মানুষের মধ্যে ভালোটাকে পেয়েছি। এটা সেই সব মানুষের জন্য, যাঁরা যত কঠিনই মনে হোক না কেন, নিজেদের মধ্যে ভালোটাকে আঁকড়ে ধরায় বিশ্বাস করেন, সাহস রাখেন এবং যাঁরা একে অন্যের মধ্যে শুধু ভালোটাকে গ্রহণ করেন। এটা আপনাদের জন্য—আপনারাই আমার এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।’

বিজ্ঞাপন
হলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন