default-image

প্রতিশোধ নেওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং তাতে জীবনের সবটা সঁপে দেওয়ার ঘটনা নিয়েই আবর্তিত হয়েছে ‘প্রমিজিং ইয়াং ওম্যান’ ছবির গল্প। তাতে অপরাধ আছে, তা থেকে পার পেয়ে হাসিখুশি জীবন কাটানো অপরাধীদের মুখ আছে। আর আছে নির্যাতনের শিকার এক মেয়ের বন্ধু, যিনি ঘটনার অনেক বছর পরও ভুলতে পারেন না বান্ধবীর ওপর ঘটে যাওয়া অপরাধের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ।

বিজ্ঞাপন

তাই সব সময় ঘোরের মধ্যেই থাকেন ‘কাসান্দ্রা’ ওরফে ‘ক্যাসি’। এ চরিত্রকে চলচ্চিত্রের পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন ক্যারি মুলিগান। তিনি যে সফল হয়েছেন, তা তো অস্কারের মনোনয়ন তালিকাতেই প্রমাণিত। একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের এ বছরের সেরা অভিনেত্রীর তালিকায় নাম ছিল ক্যারি মুলিগানের। যদিও শেষ পর্যন্ত শিকে ছেঁড়েনি, সোনালি ট্রফি চলে গেছে ‘নোম্যাডল্যান্ড’–এর ফ্রান্সিস ম্যাকডরম্যান্ডের হাতে। তাই বলে ক্যারির অভিনয়ের দ্যুতিকে হেলা করার উপায় নেই।

default-image

সেই সুযোগ নিন্দুকদের একেবারেই দেননি পর্দার ‘কাসান্দ্রা’। যৌন নিপীড়নের ঘটনার স্মৃতি একজন শিশুর মনে কী ধরনের বিরূপ প্রভাব রাখতে পারে এবং তা তার পরবর্তী জীবনকে কীভাবে এলোমেলো করে দিতে পারে, তার সার্থক রূপায়ণ পর্দায় দেখিয়েছেন ব্রিটিশ অভিনেত্রী ক্যারি। তাই যখন কাসান্দ্রা উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছেড়ে ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি উপেক্ষা করে একটি স্থানীয় কফিশপে চাকরি নেয়, তখন তা পর্দায় দেখে অবাস্তব মনে হয়নি।

default-image

অথচ একসময় প্রতিশোধের আগুন বালুচাপা দিতে চেয়েছিল ক্যাসি। বন্ধু নিনাকে ভুলে চেয়েছিল একটি সুন্দর ও স্বাভাবিক জীবনের পথে হাঁটতে। কিন্তু বিধি বাম। প্রতিশোধের আগুন যে আর সুসময়ের দখিনা হাওয়া বুঝে থমকে যায় না! তাই প্রিয়তম মানুষের অন্য চেহারা দেখা যায় আয়নার প্রতিচ্ছবিতে। আর তাতেই আবার লেলিহান হয় প্রতিশোধ, ছাইয়ের স্তূপে তা মুখ বুজে থাকতে পারে না।

বিজ্ঞাপন

‘প্রমিজিং ইয়াং ওম্যান’ ছবিটি দেখতে দেখতে একসময় মনে হতে পারে, আর কী? গল্পই তো শেষ! কিন্তু ঠিক সেই সময়ে দয়া করে ছবিটি দেখা বন্ধ করে দেবেন না। এ বিভ্রান্তিটুকুই যে এই ছবির প্রাণ, একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। একটু ধৈর্যশীল হতে তো ক্ষতি নেই! পুরস্কার হিসেবে আপনার জন্য চমক তো থাকছেই।

default-image

এবারের অস্কারে সেরা মৌলিক চিত্রনাট্যের তকমা জুটেছে এ ছবির ভাগ্যে। পুরো ছবি দেখলে আশা করি দর্শকও একমত হবেন। ছবিটির পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার এমারল্ড ফেনেল। চিত্রনাট্যের পাশাপাশি পরিচালনাতেও অস্কারে মনোনয়ন পেয়েছিলেন তিনি।
সেরা ছবিসহ মোট পাঁচটি বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল ১১৩ মিনিট দৈর্ঘ্যের ‘প্রমিজিং ইয়াং ওম্যান’। শেষ পর্যন্ত জুটেছে ওই একটিই। গোল্ডেন গ্লোবে মনোনয়নই ছিল অর্জন। তবে বাফটাতে চিত্রনাট্যের পাশাপাশি সেরা ব্রিটিশ ছবির পুরস্কারও জিতেছে এটি। সব মিলিয়ে বিভিন্ন পুরস্কার বিতরণীর মঞ্চে শতাধিকবার বিজয়ী হয়েছে ছবিটি।

হলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন