default-image

ফরেস্ট গাম্প ছবিটি দর্শকের মনে গেঁথে আছে এখনো। জনপ্রিয় এই ছবির বাজেট ছিল একবারেই অল্প। এমনকি প্রযোজক ও পরিচালককে হাত পাততে হয়েছে স্বয়ং ছবির অভিনেতার কাছে। সম্প্রতি পাওয়া গেল এমন এক তথ্য।

সেই ছবিতে ১৯৯৪ সালে একজন ভোঁতা বুদ্ধিসম্পন্ন লোকের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন টম হ্যাঙ্কস। ৬৪ বছর বয়সী এই অভিনেতা সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জানান, এই ছবি তাঁর কাছে ‘বিশেষ’। কারণ, এই ছবির বেশ কিছু দৃশ্য ধারণ করতে অর্থ লগ্নি করেছিলেন তিনি নিজে। ছবির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্ট খুব একটি আত্মবিশ্বাসী ছিল না ছবিটি নিয়ে। তাই তারা কমিয়ে দেয় ছবির বাজেট। কিন্তু বেশ কিছু দৃশ্য ধারণ তখনো বাকি। সেই দৃশ্যগুলো করতে বাজেট বাড়াতে হবে। কী করা যায়? পরিচালক রবার্ট জেমেকিস পরামর্শ চাইলেন টম হ্যাঙ্কসের কাছে। টম ও রবার্ট দুজনেই এবার নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে দৃশ্যগুলো ধারণ করতে এগিয়ে এলেন। তবে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান প্যারামাউন্টকে বলে রাখলেন, ছবি যদি আয় করে, তবে লভ্যাংশ দিতে হবে। মুক্তি পাওয়ার পরের কথা সবারই জানা। অস্কারে ঝড় তোলা ছবিটি দর্শকের কাছেও হলো সমান জনপ্রিয়।

বাজেটের টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় যখন আটকে গিয়েছিল সিনেমাটি, তখন টাকা জুগিয়ে পকেট থেকে টাকা দেন টম। ছবির প্রয়োজনে টাকা দিলেও পরে মোটা অঙ্কের মুনাফা পেয়েছিলেন তিনি। সেই লভ্যাংশ ছিল ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
বিজ্ঞাপন
default-image

বাজেটের টাকা ফুরিয়ে যাওয়ায় যখন আটকে গিয়েছিল সিনেমাটি, তখন টাকা জুগিয়ে পকেট থেকে টাকা দেন টম। ছবির প্রয়োজনে টাকা দিলেও পরে মোটা অঙ্কের মুনাফা পেয়েছিলেন তিনি। সেই লভ্যাংশ ছিল ৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

‘ব্যাচেলর পার্টি’, ‘বিগ’, ‘ফরেস্ট গাম্প’, ‘ফিলাডেলফিয়া’, ‘দ্য গ্রিন মাইল’, ‘কাস্ট অ্যাওয়ে’, ‘অ্যাপোলো থার্টিন’, ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’, ‘ক্যাচ মি ইফ ইউ ক্যান’, ‘দ্য পোস্ট’, ‘দ্য টার্মিনাল’, ‘বন্ড অব ব্রাদার্স’ প্রভৃতি চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে টম হ্যাঙ্কস নিজেকে বড় পর্দার তারকাদের আকাশে নিজেকে ধ্রুবতারা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

default-image

সস্ত্রীক করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন টম হ্যাঙ্কস। করোনা জয় করে শুটিংয়েও ফিরেছেন তিনি। মার্কিন রক সংগীতশিল্পী এলভিস প্রিসলির জীবনীভিত্তিক এক ছবিতে টমকে দেখা যাবে শিল্পী প্রিসলির ম্যানেজারের চরিত্রে। এ ছবির শুটিংয়ে স্ত্রী রিটা উইলসনকে নিয়ে টম গিয়েছিলেন অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানে ঘটে এক মজার ঘটনা। অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেই তাঁরা যান সিডনি অপেরা হাউসে। সেই সময় যাঁরা এই দম্পতির সঙ্গে ছবি তুলেছেন বা কাছাকাছি ছিলেন, সেসব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ভক্তদের তালিকা তৈরি করে তাঁদের রাখা হয় কোয়ারেন্টিনে। অপেরা হাউস এনএসডাব্লিউ হেলথ এবং কুইন্সল্যান্ড হেলথ—এই দুটো প্রতিষ্ঠানের অধীনে রাখা হয়। জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।

করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর টম হ্যাঙ্কস ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন, তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর ঠান্ডা-জ্বর, গায়ে ব্যথা। এসব লক্ষণের পর তাঁরা করোনার জীবাণু আছে কি না, তা পরীক্ষা করান। আর লেখেন, ‘পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, আমরা উভয়েই করোনায় আক্রান্ত। প্রশ্ন হলো, এখন কী হবে? ডাক্তারের পরামর্শমতো চলতে হবে। আমাদের পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের মধ্যে রাখা হবে। একই সঙ্গে বাকি পৃথিবীর সুরক্ষার জন্য সবার থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা হবে। প্রথম দিনে এর চেয়ে আর বেশি কী বলব? আমাদের হালনাগাদ তথ্য জানাতে থাকব।’

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন