বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওয়াহিদ ইবনে রেজা লিখেছেন, ‘“স্পাইডারম্যান: নো ওয়ে হোম”-এ কাজ করছি শোনার পর এবার একটা খুব অদ্ভুত ব্যাপার হলো। অনেকে বলা শুরু করলেন, আমি নাকি বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত! বাংলাদেশে জন্ম ও মানুষ হওয়া আমার জন্য যথেষ্ট লজ্জার! প্রথমে ভাবছিলাম কিছু বলব, কিন্তু তখনই মনে পড়ল একটা ঘটনা। তখন নতুন নতুন মাথার চুল পড়ে যাচ্ছে। মনের দুঃখে আমি লম্বা দাড়ি রেখে ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। একটা পাগড়ি জোগাড় করে ফেললাম, বেগুনি রঙের চূর্ণী কাপড়ের পাগড়ি। ঢাকার রাস্তায় সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবির সঙ্গে লম্বা দাড়ি নিয়ে সেই পাগড়ি পরে গম্ভীর মুখে ঘুরে বেড়াতাম। বনানী এগারো নম্বরে একদিন পুলিশ আমার গাড়ি আটকাল। পুলিশ ভাই গাড়ির পেছনে আমাকে দেখে বেশ সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করলেন। তারপর গলা নামিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন, “ভাই কি দেশি?” আমি আরও গম্ভীর গলায় উত্তর দিলাম, “না, ফার্মের!”’

default-image

কাজ করা সিনেমাগুলোর পোস্টার ও বাংলাদেশি সবুজ পাসপোর্ট হাতে নিজের একটা ছবি পোস্ট করে ওই পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত না, প্রমাণ করার জন্য ভাবলাম আমার বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে একটা ছবি তুলি। এই সপ্তাহে আমার কানাডায় কাজের ৯ বছর পূর্তি হলো! ৯ বছরে “স্যুটসে”র সেই প্রথম ইন্টার্নশিপ থেকে শুরু করে এখন “নো ওয়ে হোম”, বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে জার্নিটা খারাপ হয়নি, কী বলেন?’

default-image

ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস ও অ্যানিমেশনে প্রযোজনা ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন ওয়াহিদ ইবনে রেজা। কাজ করেছেন ‘এক্সট্রাকশন’, ‘ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান: ডন অব জাস্টিস’, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার’, ‘নাইট অ্যাট দ্য মিউজিয়াম: সিক্রেট অব দ্য টুম’, ‘ফিউরিয়াস সেভেন’, ‘অ্যাংরি বার্ডস টু’, ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য গ্যালাক্সি ভলিউম টু’, ‘ডক্টর স্ট্রেঞ্জ’, ‘হোটেল ট্রানসিলভ্যানিয়া’, ‘ফিফটি শেডস অব গ্রে’র মতো ছবিতে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তৈরি করছেন স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন ছবি ‘সারভাইভিং সেভেন্টি ওয়ান’। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) প্রাক্তন শিক্ষার্থী ওয়াহিদ অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের নাটকে ও মডেল হয়েছেন বিজ্ঞাপনচিত্রে। ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর বেশ কয়েকটি কবিতা ও কৌতুকের বই।

হলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন