default-image

অবৈধ মাদক সেবন ও নিজ বাসায় অন্যদের মাদক সেবনের জায়গা দেওয়ায় ছয় মাস কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেলেন প্রখ্যাত অভিনেতা জ্যাকি চ্যানের ছেলে গায়ক ও অভিনেতা জেসি চ্যান।
গত বছরের আগস্টে বেইজিংয়ে নিজের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে জেসিকে আটক করে পুলিশ। সে সময় জেসির বাসা থেকে তাইওয়ানের চলচ্চিত্র তারকা কো কাইসহ আরও কয়েকজন আটক হন। মাদক পরীক্ষায় ধরা পড়ে, গাঁজা সেবন করেছেন জেসি ও কো কাই। এ ছাড়া জেসির অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ১০০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে পুলিশ। জেসি যে ধরনের অপরাধ করেছেন, তার সর্বোচ্চ সাজা তিন বছরের কারাদণ্ড। কিন্তু স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় তাঁকে কম সাজা দেওয়া হয়।
সাজা শেষ করে গত শুক্রবার সকালে মুক্তি পান জেসি। তিনি গতকাল শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ্যে সবার কাছে ক্ষমা চান। তিনি বলেন, ‘আমি যে ভুল করেছি, তা ক্ষমার অযোগ্য। তবে বিচারব্যবস্থা আমাকে সংশোধিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এখন জীবনের প্রতি আমার দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে গেছে। আমার মূল্যবোধেও পরিবর্তন এসেছে।’
জেসি আরও বলেন, ‘আমি খুবই লজ্জিত। আমি ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছি। আমি আমার ক্যারিয়ার ও পারিবারিক জীবন আবার নতুন করে শুরু করতে চাই। কিন্তু আমি জানি, বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করছে মিডিয়ার ওপর।’ এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে এএফপি।
জেসি জানিয়েছেন, আট বছর আগে নেদারল্যান্ডস ভ্রমণে গিয়ে প্রথম গাঁজা সেবন করেছিলেন তিনি। দুই বছর আগে থেকে নিয়মিত গাঁজা সেবন শুরু করেন তিনি।
ছেলে জেসির মাদক কেলেঙ্কারি জ্যাকি চ্যানকে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে ফেলে দেয়। কারণ, ২০০৯ সালে অ্যান্টি-ড্রাগ অ্যাম্বাসেডর হিসেবে ‘রাশ আওয়ার’খ্যাত প্রভাবশালী অভিনেতা, নির্মাতা ও প্রযোজক জ্যাকি চ্যানের নাম ঘোষণা করেছিল চায়নিজ পুলিশ। এ ছাড়া চীনের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক উপদেষ্টা প্যানেল চায়নিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসাল্টেটিভ কনফারেন্সের সদস্য তিনি।
জেসি আটক হওয়ার পর ছেলের জন্য জনসমক্ষে ক্ষমা চান জ্যাকি চ্যান। ছেলেকে নিয়ে লজ্জিত ও দুঃখিত বলেও জানান তিনি। তবে জেসির মাদক মামলাকে প্রভাবিত করতে পরিচিত কারও সাহায্য নেননি বলেই দাবি করেন জ্যাকি চ্যান।

বিজ্ঞাপন
হলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন