সপরিবারে করোনার সঙ্গে লড়ছেন রক
সপরিবারে করোনার সঙ্গে লড়ছেন রকইনস্টাগ্রাম
জনপ্রিয় রেসলার ‘দ্য রক’খ্যাত হলিউড তারকা ডোয়াইন জনসন জানান, তিনি, তাঁর স্ত্রী লরেন হাশিয়ান ও দুই মেয়ের কোভিড-১৯ পজিটিভ। খবরটি জানার পর ঘাবড়ে গিয়েছিলেন দীর্ঘদিন রেসলিংয়ের রিং–কাঁপানো এই যোদ্ধা।
default-image

করোনা ছাড় দেয়নি এককালের জনপ্রিয় রেসলার ‘দ্য রক’খ্যাত হলিউড তারকা ডোয়াইন জনসনকে। তাঁর বাড়িতেও হানা দিয়েছে করোনা। পরিবারের সবাই আক্রান্ত হয়েছেন কোভিড-১৯-এ। বুধবার ইনস্টাগ্রামে নিজেই এ খবর জানিয়েছেন তিনি। সেখানে ১১ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ করে এই অভিনেতা জানান, তিনি, তাঁর স্ত্রী লরেন হাশিয়ান ও দুই মেয়ের কোভিড-১৯ পজিটিভ। খবরটি জানার পর ঘাবড়ে গিয়েছিলেন দীর্ঘদিন রেসলিংয়ের রিং–কাঁপানো এই যোদ্ধা। এটিই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ঘটনা।

default-image

তবে আশার কথা, ইতিমধ্যে তাঁরা করোনাকে জয় করেছেন। ডোয়াইন জনসন জানান, তিনি, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানেরা এখন মোটামুটি সুস্থ। তাঁর দুই মেয়ের গলায় সামান্য ব্যথা ছাড়া তেমন কোনো সমস্যা নেই। সহজেই তাঁরা করোনাকে পরাজিত করেছেন। অবশ্য তাঁর স্ত্রীর জন্য কাজটি ততটা সহজ ছিল না। কিন্তু তাঁদের মতো সচেতন মানুষের বাড়িতে কীভাবে করোনা হানা দিল! সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন দ্য রক। তিনি জানিয়েছেন, ঘনিষ্ঠ এক বন্ধুর সংস্পর্শে গিয়েই তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। যদিও তাঁরাও অনেক সচেতন।

বিজ্ঞাপন


নিজের আক্রান্ত হওয়ার খবর দিয়েই থেমে থাকেননি ডোয়াইন জনসন। বরং ভক্তদেরও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। জানিয়েছেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পরের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও সচেতন করেছে। করোনা মোকাবিলার জন্য ভক্তদের কিছু পরামর্শও দিয়েছেন তিনি। মনে করিয়ে দিয়েছেন, মাস্ক পরা, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কথাও।

default-image

ডোয়াইন জনসন ওরফে ‘দ্য রক’ ১৯৯১ সালেও ছিলেন এক সাধারণ মার্কিন তরুণ। ইউনিভার্সিটি অব মায়ামিতে পড়ার সময় মায়ামি হারিকেনস ফুটবল টিমের হয়ে ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়নশিপ জেতেন। এর পাঁচ বছর পর বদলে যায় তাঁর জীবন।

১৯৯৬ থেকে ২০০৪ সালে ‘দ্য রক’ নামে ওয়ার্ল্ড রেসলিং ফেডারেশনে (ডব্লিউডব্লিউএফ, বর্তমানে ডব্লিউডব্লিউই) রেসলার হিসেবে তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। এরপর অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন।

default-image
‘দ্য মামি রিটার্নস’ (২০০১) দিয়ে চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও প্রধান অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ‘দ্য স্করপিয়ন কিং’ (২০০২) ছবিটির মাধ্যমে। এই ছবির জন্য তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন, যা যেকোনো অভিনয়শিল্পীর প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য রেকর্ড।

২০১১ সালে আবারও তিনি ফেরেন ডব্লিউডব্লিউইয়ের রিংয়ে। ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাঁকে দেখা গেছে রেসলিংয়ের রিংয়ে। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসেই রেসলিং থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন রেসলিংয়ে দশবারের এই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই ‘দ্য রক সেইজ...’ দীর্ঘদিন নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্ট সেলার তালিকার ১ নম্বরে ছিল। তাঁকে বলা হয় ‘দ্য মোস্ট ইলেকট্রিফায়িং ম্যান অব স্পোর্টস এন্টারটেইনমেন্ট ইন হিস্ট্রি’।

default-image

‘দ্য মামি রিটার্নস’ (২০০১) দিয়ে চলচ্চিত্রে তাঁর যাত্রা শুরু হলেও প্রধান অভিনয়শিল্পী হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ‘দ্য স্করপিয়ন কিং’ (২০০২) ছবিটির মাধ্যমে। এই ছবির জন্য তিনি প্রায় ৫০ কোটি টাকা পারিশ্রমিক নেন, যা যেকোনো অভিনয়শিল্পীর প্রথম চলচ্চিত্রের জন্য রেকর্ড। তবে তিনি সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পান ‘ফার্স্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ চলচ্চিত্র সিরিজের জন্য। এগুলো ছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন ‘সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘স্যান আন্ড্রেস’-এর মতো ব্লকব্লাস্টার হিট ছবিতে। ৪৭ বছর বয়সী এই তারকার নিজের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও আছে।

২০১৬ সালে পিপল ম্যাগাজিনের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময় পুরুষ ডোয়াইন ‘দ্য রক’ জনসন। সে বছর হলিউডের সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী অভিনেতাও তিনি। টাইম ম্যাগাজিনের ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ তারকা’র তালিকায় তিনি দুবার স্থান পেয়েছেন।
default-image

২০১৬ সালে পিপল ম্যাগাজিনের মতে, বিশ্বের সবচেয়ে আবেদনময় পুরুষ ডোয়াইন ‘দ্য রক’ জনসন। সে বছর হলিউডের সর্বোচ্চ অর্থ উপার্জনকারী অভিনেতাও তিনি। টাইম ম্যাগাজিনের ‘বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী ১০০ তারকা’র তালিকায় তিনি দুবার স্থান পেয়েছেন।

প্রথমবার ২০১৬ সালে ও পরে ২০১৯ সালে। ডোয়াইন জনসন ১৯৯৭ সালের ৩ মে ড্যানি গার্সিয়াকে বিয়ে করেন। পরে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। গত বছরের ১৮ আগস্ট তিনি আবারও বিয়ে করেন লরেন হাশিয়ানকে। জনসন তিন সন্তানের বাবা।

default-image
বিজ্ঞাপন
হলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন