সেরা পরিচালকের বেলায় গতবারের অস্কারজয়ী বং জুন হো যে ক্লোয়ি ঝাওয়ের নাম উচ্চারণ করবেন, তা যেন ভবিতব্যই ছিল। কেউ বিশেষ অবাক হয়নি। অবাক হননি খোদ ক্লোয়ি ঝাও–ও। উচ্ছ্বাসের বাড়াবাড়ি নেই। ৩৯ বছর বয়সী চীনা এই পরিচালক জানালেন, ছোটবেলা থেকেই তিনি গল্প শুনে বড় হয়েছেন। আর সেগুলো তাঁকে প্রভাবিত করেছে। কঠিন সময় পড়ি দিয়েই আজকের এই সফলতার দেখা মিলেছে। ক্লোয়ি ঝাও তাঁর অস্কার উৎসর্গ করলেন যেসব মানুষের ভেতরে ‘উদার’ মানুষ, আর যাঁরা অন্য মানুষের ভেতরেও সেই উদারতার দেখা পায়। মনোনয়ন পাওয়া অন্যান্য পরিচালকদেরও ধন্যবাদ জানাতে ভুললেন না তিনি। ক্লোয়ি জানান, জীবনে চলার পথে এমন অনেক সাদা মনের মানুষের দেখা পেয়েছেন। চুলে দুই বিনুনি করে সিনেমাটোগ্রাফার জীবনসঙ্গী জসুয়া জেমস রিচার্ডসকে নিয়ে অস্কারের রেড কার্পেটে দেখা দেন তিনি।

default-image

অস্কারের ৯৩ বছরের ইতিহাসে প্রথম এশীয় নারীর হাতে সেরা পরিচালকের পুরস্কার উঠল বিশ্ব চলচ্চিত্র উৎসব মাতানো ‘নোম্যাডল্যান্ড’ ছবিটির জন্য। এই ছবির সঙ্গে জড়িত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ক্লোয়ি ঝাও বলেছেন, ‘জীবনে এমন সিনেমা বানানোর অভিজ্ঞতা একবারই হয়।’ সেরা সিনেমা, সেরা অভিনেত্রী, সেরা পরিচালকসহ এই ছবি পেয়েছিল ছয় ছয়টি মনোনয়ন। ‘গোল্ডেন গ্লোব’, ‘বাফটা’-তেও সেরা পরিচালকের ট্রফি গিয়েছে তাঁর বাড়িতে। জীবনসঙ্গী জসুয়া, তিনটি মুরগি আর দুটি কুকুর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওঝাইতে ক্লোয়ি ঝাওয়ের বাস। তবে ৯৩ বছরের ইতিহাসের তুলনায় খুব বেশি দিন হয়নি নারী পরিচালকের অস্কার স্পর্শের। এর আগে ২০০৯ সালে ‘দ্য হার্ট লকার’ ছবিটি পরিচালনার সুবাদে প্রথম নারী পরিচালক হিসেবে অস্কার হাতে তুলেছিলেন ক্যাথরিন বিগলো।

default-image
বিজ্ঞাপন

ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ‘নোম্যাডল্যান্ড’–এর প্রদর্শিত হওয়ার পরই সাড়া পড়ে যায় এই ছবি নিয়ে। স্পটলাইটে আসেন ক্লোয়ি ঝাও। পরিচালক হিসেবে এটি তাঁর তিন নম্বর ছবি। এর আগে তাঁর পরিচালনায় ২০১৫ সালে ‘সংস মাই ব্রাদার টট মি’ ও ২০১৭ সালে ‘দ্য রাইডার’ মুক্তি পেয়েছিল। ২০২১ সালে মুক্তি পাবে তাঁর চতুর্থ ছবি, কেভিন ফ্রিজের প্রযোজনায় ‘মার্ভেলস’–এর সুপারহিরো ছবি ‘দ্য এটারনালস’।

‘নোম্যাডল্যান্ড’ সিনেমার গল্প ২০১১ সালের এক যাযাবরকে নিয়ে। হঠাৎ কোম্পানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজ হারায় ফার্ন। কী করবে, তা ভেবে না পেয়ে একটা ক্যারাভান নিয়ে বেরিয়ে পড়ে অজানার উদ্দেশে। কিছুকাল থেমে একটা চাকরিও করে। আবার এগোয়। কোথাও যেন মন বসে না। ওই ভ্যানগাড়ির ছোট্ট ঘুমানোর জায়গা ছাড়া ঘুমও আসে না। কেবল পথচলাতেই তার আনন্দ। ষাটোর্ধ্ব বিধবা নারী ফার্নের ভূমিকায় দেখা গেছে মার্কিন অভিনেত্রী ফ্রান্সিস ম্যাকডোরম্যান্ডকে। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে তিনি জিতেছেন অস্কার।

default-image

যাত্রার সঙ্গে সঙ্গে স্পষ্ট হয় উত্তর আমেরিকার সিয়েরা নেভাডার মরুভূমি অঞ্চলগুলোর রুক্ষতা আর জীবনসংগ্রামের টুকরো টুকরো গল্প। প্রামাণ্যচিত্রের আদলে বানানো এই ফিচার সিনেমায় রাস্তায় দেখা হওয়া চরিত্রদের অধিকাংশই বাস্তব। দেখা গেছে জনপ্রিয় ভিডিও ব্লগার, পরিচিত মুখ, উত্তর আমেরিকার ‘যাযাবরদের গুরু’ বব ওয়েলসকে।

default-image
হলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন