বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

অর্থসংকট আর ঋণের চাপে পিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়েই জনবিচ্ছিন্ন এক দ্বীপে শুরু হয় স্কুইড গেম।

default-image

দ্বীপে যাওয়ার আগে
গ্রামের বাড়ির উঠান বা স্কুলের মাঠে আঁকা কোর্ট। প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে একটা একটা করে ধাপ পেরিয়ে যাওয়া! না পারলেই মারা পড়া। দাঁড়িয়াবান্ধা খেলাটা একেক অঞ্চলে পরিচিত একেক নামে ও নিয়মে। দক্ষিণ কোরিয়ায় এ খেলার নাম স্কুইড গেম।
একই নামের ওয়েব সিরিজে নির্মাতা দর্শককে শৈশবে ফিরিয়ে নিতে আরও রেখেছেন মার্বেল, গ্রিন লাইট রেড লাইটের মতো খেলা। শৈশবে খেলায় টিকতে না পারলে আপনাকে মরতে হতো (কাল্পনিক অর্থে)। সিরিজে মারা হয় গুলি করে।
বাস্তবে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে টাকার জন্য মানুষ কত কিছুই না করে। অথচ এমন গল্পের সিরিজের ভাবনা যখন নির্মাতা হং দুং ইয়ক শেয়ার করেন, তখন ‘মাত্রাছাড়া কাল্পনিক’ এই দোহাই দিয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন অনেক প্রযোজক। তা–ও এক দশকের বেশি হয়ে গেছে। হতাশ হয়ে চিত্রনাট্য লেখাই বন্ধ করে দেন হং দুং। তখন মা আর দাদির সঙ্গে থাকতেন তিনি। হাতে টাকা না থাকায় বিক্রি করে দিয়েছিলেন সাধের ল্যাপটপ।
মাঝে হং দুং ইয়কের আইডিয়ার কাছাকাছি গল্পে ২০১৪ সালে জাপানে নির্মিত হয় ‘অ্যাজ দ্য গডস উইল’, ২০২০ সালে ‘অ্যালিস ইন বর্ডারল্যান্ড’, ব্রাজিলে ২০১৬ সালে ‘৩%’।

তবে অনেক আলোচনায় বলা হচ্ছে, হং দুং ইয়ক ‘স্কুইড গেম’–এর আইডিয়া পান জাপানিজ অ্যানিমেশন সিরিজ ‘কাইজি: আলটিমেট সারভাইভার’ (২০০৭-২০০৮) দেখে। এই ২০০৭-২০০৮ সালেই গোটা বিশ্বে দেখা দিয়েছিল অর্থনৈতিক মন্দা। ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন অসংখ্য মানুষ।

default-image

বিচ্ছিন্ন দ্বীপে
মোট ৪৫৬ জন খেলোয়াড়। একেকজনের একেক রকম সংকট। মিল শুধু একটাই, প্রত্যেকেরই একসঙ্গে অনেক টাকা চাই। টাকার অভাবে কারও মাথার টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে না, কেউ দেউলিয়া, কেউ ছোট ভাইয়ের প্রয়োজন মেটাতে পারছে না, কারও আবার টাকার অভাবে হচ্ছে না একটা ‘পারফেক্ট লাইফ’।

ঋণগ্রস্ত অসহায় এসব মানুষের মরণখেলার দর্শক কয়েকজন সম্পদশালী। মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এই দ্বীপে খেলা দেখতে আসবে তারা। সিরিজে তাদের পরিচয় ‘ভিআইপি’। প্রথম ধাপের কয়েকটি খেলায় ডিসকোয়ালিফাইড হয়ে ততক্ষণে মারা পড়েছে অনেক।

পুরস্কারের অর্থ দিয়ে নিজেদের সংকট কাটিয়ে অবস্থার উন্নতি করতে চাওয়া আরও কিছু মানুষ তখনো টিকে আছে। গ্যালারিতে বসে মৃত্যুর খেলা দেখতে দেখতে ভিআইপিদের উল্লাস বাস্তবের সমাজে আপনার অবস্থান নিয়ে ভাবাবে। অনিয়ম করে কিছু মানুষের সম্পদশালী হওয়া আর প্রতিনিয়ত আপনার টিকে থাকার সংগ্রাম সহজেই মিলিয়ে নিতে পারবেন।

default-image

সময়মতো ক্লিক
মুক্তির পর অল্প দিনের মধ্যেই রেকর্ড ভাঙে ‘স্কুইড গেম’। হয়ে ওঠে সবচেয়ে বেশি দেখা নেটফ্লিক্স সিরিজ। অবাস্তব একটা গল্প এত মানুষকে টানল কেন?
ব্রিটিশ দৈনিক ‘গার্ডিয়ান’ এক নিবন্ধে বলেছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের ১০ বছর পর মানুষ একটা সিরিজ দেখতে বসেছে, যার মূল বার্তা, ‘আমি কি কখনো এত ঋণ শোধ করতে পারব? মৃত্যুর সঙ্গে খেলা কি সহজ হবে না?’ সিরিজের গল্পকে আরও প্রাসঙ্গিক করেছে করোনাকাল। কাজ হারিয়ে বা সময়মতো বেতন না পেয়ে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এখনো ঘুমাতে যান বিশ্বের নানা প্রান্তের মানুষ। আর এ কারণেই সিরিজের চরিত্রগুলোর সঙ্গে নিজেকে মেলানো সহজ হয়, তা যতই অবাস্তব বা কাল্পনিক হোক। স্বপ্নে বা কল্পনায় টাকা পাওয়াতেও শান্তি আছে।

হলিউড থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন