পুলিশের পিছনে পুলিশ

কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুলকার সালমান। রোশান অ্যান্ডুস পরিচালিত স্যালুটে গল্প শুরু করতে কোনো সময় নেওয়া হয়নিছবি: টুইটার

নির্বাচন সামনে। এর মধ্যে ঘটেছে হত্যাকাণ্ড। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশের ওপর চাপ, দ্রুত মামলাটির সমাধান করার। কিন্তু কোনো জুতসই সূত্র মিলছে না। শেষমেশ সন্দেহবশত এমন একজনকেই হত্যাকারী বানানো হয়, যার সঙ্গে নিহত ব্যক্তির সামান্য মনোমালিন্য ছিল। নানা মহলের চাপে দ্রুতই সমাধান হয় মামলাটির।

চোখ-কান খোলা রাখলে গণমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই এমন প্রতিবেদন দেখা যায়। কিন্তু এভাবে একটি মামলার সমাধানের পরের ঘটনাগুলো কেমন হয়? ‘বিবেক’ বলতে মানুষের যে একটা বোধ আছে, তা পুলিশের পোশাকের আড়ালে কত দিন ঢাকা থাকে বা থাকতে পারে? সে গল্পই বলে ববি-সঞ্জয়ের চিত্রনাট্যের সিনেমা ‘স্যালুট’।

কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দুলকার সালমান। মালয়ালম ভাষায় ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে থ্রিলার সিনেমা নির্মাণের প্রবণতা বেশ। ভিসারানাই আর নায়াত্তু এ ক্ষেত্রে বড় উদাহরণ। তবে স্যালুট সিনেমাটি আলাদা করতে পারবেন এর গল্প বলার ঢঙের কারণে।

থানা-পুলিশকেন্দ্রিক থ্রিলার সব সময়ই আকর্ষণীয়। ‘স্যালুট’ তেমনই একটা সিনেমা। দেখতে পাবেন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভ-এ।

রোশান অ্যান্ডুস পরিচালিত স্যালুটে গল্প শুরু করতে কোনো সময় নেওয়া হয়নি। প্রায় দুই বছর ছুটিতে থাকার পর দুলকার সালমান (সাব-ইন্সপেক্টর অরবিন্দু করুণাকরণ) থানায় গিয়ে হত্যা মামলাটির ফাইলের খোঁজ করেন। এরপরই দেখানো হয় রাজনৈতিক নেতাদের চাপে একটি হত্যা মামলায় নির্দোষ ব্যক্তিকে কীভাবে ফাঁসানো হয়।

দ্রুত মামলা সমাধান করতে না পারলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কাউকে ফাঁসানোর চর্চার ব্যাখ্যাও আছে গল্পের শুরুতে। মামলাটি তদন্ত করেন অরবিন্দু করুণাকরণ, অজিত করুণাকরণসহ মোট পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তা। এর মধ্যে অজিত হলেন অরবিন্দুর আপন বড় ভাই।

ভাইয়ের আদর্শে আইনজীবীর পেশা ছেড়ে পুলিশে যোগ দেন অরবিন্দু। কিন্তু ভাইকে এভাবে একটি মামলা সমাধান করতে দেখে ধাক্কা খান। তখনই অজিত ছোট ভাই অরবিন্দুকে বোঝান গোটা পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সিস্টেমটাই এখন এমন। মামলার রহস্য সমাধানের এই দায়িত্ব তিনি পালন না করলে আরেকজন ঠিকই করবেন। ব্যর্থতার দায়ে তাঁকে বাকি কর্মজীবনে একই পদে থাকতে হবে। সুতরাং আদর্শ নিয়ে টিকে থাকা কঠিন।

ভাইয়ের আদর্শে আইনজীবীর পেশা ছেড়ে পুলিশে যোগ দেন অরবিন্দু চরিত্রে অভিনয় করা দুলকার সালমান
ছবি: টুইটার

এক সময় নতুন গল্প সাজিয়ে মামলার সমাধান করা হয়। ফাঁসানো হয় মুরালী নামের এক সাধারণ ব্যক্তিকে। বোনের বিয়ের আগের দিন গ্রেপ্তার করা হয় মুরালীকে। পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহারের শিকার হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের কী দশা হয়, সে গল্পও বলা হয়েছে ছোট করে।

ব্যতিক্রম শুধু দুলকার সালমানের বান্ধবীর ক্ষেত্রে। আর এই চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘ককটেল’ খ্যাত ডায়ানা পেন্টি। মালয়ালম ইন্ডাস্ট্রিতে তার অভিষেকটা খুব বেশি ভালো লাগেনি। সিনেমার মূল গল্পের মাঝে তার হঠাৎ করে চলে আসা, দুলকারের সঙ্গে জড়িয়ে যাওয়া, পরিবারকে সে ব্যাখ্যা দেওয়ার দৃশ্যগুলো কাহিনি আগানোর গতি ধীর করে দেয়। কিন্তু গল্পটাই এমন যে এসব দৃশ্যে অভিনয়ে ডায়ানার বিশেষ কিছু করার সুযোগও ছিল না।

সূত্রহীন হত্যাকাণ্ডের মামলা নতুন করে অনুসন্ধান করতে গিয়ে পুলিশেরই বাধার মুখে পড়তে হয় অরবিন্দুকে। অন্যদিকে মুরালী যে নির্দোষ, তা প্রমাণ করতে সত্যটা বের করা সবচেয়ে জরুরি। অপরাধবোধে জর্জরিত অরবিন্দু একই সিস্টেমের ভেতর থেকেই নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করেন। সিনেমার বাকি অংশে সে অনুসন্ধানই করতে দেখা যায় অরবিন্দুকে।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, সত্যটা বেরিয়ে এলে এ ঘটনায় ফেঁসে যাবেন অরবিন্দু নিজেও। কারণ, দ্রুত মামলা সমাধান করতে গিয়ে অন্যকে ফাঁসানোর ঘটনায় অরবিন্দুরও ভূমিকা ছিল। সঙ্গে বড় ভাই অজিত তো আছেনই। সত্য প্রকাশের পর ভুক্তভোগী মুরালীর পরিবারের দুর্দশা কেটে গেলেও তখন অরবিন্দু ও অজিতের পরিবারের সদস্যরা নতুন করে ভোগান্তিতে পড়বেন। এমন দ্বন্দ্ব তৈরি হওয়ার পর গল্পটা কোন দিকে এগোয়, তা নিজে দেখে নেওয়াই ভালো।

সিনেমায় এমন প্রেক্ষাপটে নাটকীয়তা ও অতিরঞ্জিত করার অনেক সুযোগ আছে। কিন্তু পরিচালক এর কোনোটারই আশ্রয় নেননি। থানা-পুলিশকেন্দ্রিক থ্রিলার সব সময়ই আকর্ষণীয়। ‘স্যালুট’ তেমনই একটা সিনেমা। দেখতে পাবেন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভ-এ।