পাঁচ দশকের বেশি সংগীতজীবনে রুনা লায়লা গেয়েছেন ১৮ ভাষায় গান।
পাঁচ দশকের বেশি সংগীতজীবনে রুনা লায়লা গেয়েছেন ১৮ ভাষায় গান।কোলাজ: আমিনুল ইসলাম
উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার আজ জন্মদিন। পাঁচ দশকের বেশি সংগীতজীবনে তিনি গেয়েছেন ১৮ ভাষায় গান। এবারই প্রথম জন্মদিনে থাকছে না কোনো আয়োজন। তবে তাঁর সুরে প্রকাশিত হচ্ছে নতুন একটি গান ‘এই দেখা শেষ দেখা’। গানটিসহ অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তাঁর সঙ্গে।

শুভ জন্মদিন।

ধন্যবাদ।

বিগত বছরের অভিজ্ঞতায় বলা যেতে পারে, এই দিনে আপনার বাড়িতে কোনো না কোনো আয়োজন থাকেই। এবার কী থাকছে?

এবার আয়োজনের কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা একটা দুঃসময় পার করছি। এদিকে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অনেকের কষ্ট বাড়ছে। এমন সময়ে জন্মদিন এনজয় করার কোনো মানেই হয় না। দুঃসময়ে সবার কাছে একটাই চাওয়া, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সুস্থ থাকি। ভালোভাবে কাজ করে যেতে পারি, এটাই হবে আমার জন্মদিনের বড় উপহার।

default-image

কখনো কি ভেবেছিলেন, জীবদ্দশায় এমন দিনের সাক্ষী হবেন?

এমন পৃথিবীর সাক্ষী হব, আমরা কেউই আমরা ভাবতে পারিনি। এর অবসান ঘটবে। আগের মতো অবস্থায় ফিরে যেতে না পারলেও অন্য রকম একটা সুন্দর আগামী হয়তো আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। তবে আমাদের সচেতন হতে হবে—নিজের সম্পর্কে, অন্যদের সম্পর্কেও। আশপাশের মানুষের কথাও চিন্তা করতে হবে। এই সময়ে সচেতন হয়ে যা করার, তা করতে হবে। সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, মাস্ক পরা, স্যানিটাইজ করা—মানতে হবে। আমার কারণে যাতে আরেকজন এই রোগে আক্রান্ত না হন, তাঁকে বাঁচিয়ে রাখাটা আমাদের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব সবাই যদি পালন করি, তাহলে রোগটা শেষ হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

জন্মদিন আসে, আবার চলে যায়। এই দিনটায় কী উপলব্ধি হয়?

default-image

হঠাৎ মনে হয় বয়স তো বাড়ছে। কিন্তু মনেপ্রাণে আমি আগের মতোই আছি। মনের বয়স কখনোই বাড়তে দিই না। সবকিছুতে আসলে মনের জোরটাই বেশি দরকার।

default-image

জন্মদিন উপলক্ষে আপনার সুরে কি নতুন গান প্রকাশিত হচ্ছে?

মোট চারটি গান প্রকাশিত হবে। প্রথম দিন গাজী ভাইয়ের (গাজী মাজহারুল আনোয়ার) লেখা লুইপার গাওয়া ‘এই দেখা শেষ দেখা’ প্রকাশিত হবে। এরপর তিন সপ্তাহে আঁখি আলমগীর, তানি লায়লা, হৈমন্তীর কণ্ঠে আরও তিনটি গান প্রকাশিত হবে। ওরা সবাই আমার সন্তানের মতো। সবাইকে সেভাবেই আদর করি। সবাই ভালো করুক, সফল হোক, আরও পরিচিতি পাক—এটাই আমার দোয়া। পরামর্শও আছে। সবার প্রতি চাওয়া, একাগ্রতা, নিষ্ঠায় গান শিখবে। গানের চর্চা করবে। নিজেদের আরও উন্নতি করার চেষ্টা করবে। তাহলেই ওরা অনেক দিন টিকে থাকতে পারবে।

সুরকার হিসেবে আপনার কয়েকটি গান প্রকাশিত হয়েছে। সামনে নিয়মিত পাওয়া যাবে কি?

default-image

এই গানগুলো করার ক্ষেত্রে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ধ্রুব মিউজিক আমাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ধ্রুব গুহ বলেছেন, আমার (রুনা লায়লা) যা ভালো লাগে, যেভাবে চাই, সেভাবে যেন সব করি। প্রত্যেকটা শিল্পী আমাকে সহযোগিতা করেছে। আগে যেমন আমরা মহড়া করে গান রেকর্ড করতাম, এই গানগুলোও সেভাবে তৈরি হয়েছে। গীতিকার, সুরকার, সংগীত পরিচালক ও শিল্পীরা একসঙ্গে বসে গানটি তৈরি করেছি। এই সমন্বিত প্রচেষ্টা সবাই বেশ উপভোগ করেছে বলে মনে হয়। প্রতিটা শিল্পী প্রচুর খেটেছেও। গানগুলো প্রকাশের পর সবাই যে চেষ্টা করেছে, তার প্রমাণ মিলবে। আমাকে তো পাবেই। আমি আরেকটা পরিকল্পনা করছি, তবে তা এখনই বলতে চাইছি না। এই গানগুলো প্রকাশিত হোক, দেশের পরিস্থিতিও স্বাভাবিক হোক। তারপর আরেকটা কাজে হাত দেব। পরিকল্পনাও অনেক দূর এগিয়েছে।

এখন আপনি নবীন শিল্পীদের নিয়ে কাজ করছেন। একসময় আপনিও নবীন ছিলেন। অনেক বড় শিল্পীর সান্নিধ্য পেয়েছেন। সে সময়টার কথা মনে পড়ে কি?

সব সময় তাঁদের কথা মনে পড়ে। আমি তো পাকিস্তানে গান শুরু করি। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত সেখানকার টেলিভিশন ও সিনেমায় কাজ করেছি। ওই সময় অনেক বড় মাপের শিল্পীর সান্নিধ্য পেয়েছি। আমার ভাগ্য অনেক ভালো যে ওঁদের সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি। সে সময় অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে আমাদের দেশের শবনম আপাও ছিলেন। গানের শিল্পীদের মধ্যে মেহেদি হাসান, আহমেদ রুশদী, মালা বেগম—সবাই অনেক অভিজ্ঞ ছিলেন। আমি ছিলাম তাঁদের তুলনায় নবীন। অনেক কিছু শিখেছি। প্রত্যেকে আমাকে আদর করতেন। আমি আমার সেই অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চাই। সামান্য দিয়েও যদি তাঁদের এগিয়ে যাওয়াটা সহজ হয়, তাহলে অবশ্যই আমি তা করব।

default-image

আপনার জীবনে অনেকগুলো টার্নিং পয়েন্ট আছে। যে বয়সে আপনি উপনীত হয়েছেন, এই বয়সে তাঁদের নিয়ে বলার সময় এসেছে। তাঁদের কয়েকজনের নাম যদি বলতেন।

আমার ক্যারিয়ারের পেছনে আমার মা–বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি। বড় বোন অনেক বেশি অনুপ্রেরণা দিত। সহযোগিতাও করেছে। ভাইও তা–ই করেছে। সবার অনুপ্রেরণায় আমি এগিয়েছি। ওরাই আমার টার্নিং পয়েন্ট। আমি খুবই ভাগ্যবতী, গানে প্রতিষ্ঠা পেতে আমাকে কোনো স্ট্রাগল করতে হয়নি। এই লাইনে এসে সাধারণত অনেককে অনেক কষ্ট করতে হয়, আমার তা হয়নি। আমি ক্ল্যাসিক্যাল শিখেছি, ওস্তাদ ছিলেন হাবিব উদ্দিন আহমেদ, আবদুল কাদের; প্লেব্যাকে সুযোগ করে দিয়েছিলেন মনজুর হোসেন—তাঁরাই আমাকে শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

বিজ্ঞাপন

আপনার গাওয়া গানগুলো মানুষকে আনন্দ দেয়, প্রশান্তি দেয়। বাংলাদেশের সংগীতচর্চা সার্বিকভাবে এই জাতিকে কতটা প্রশান্তি এনে দিতে পেরেছে বলে মনে করেন?

default-image

আমরা শিল্পীরা তো চেষ্টা করি, গানের মাধ্যমে সবাইকে আনন্দ দিতে। গানের মাধ্যমে আমরা মানুষের সুখ–দুঃখে সঙ্গে থাকি, মানুষের মন ছুঁয়ে যাই। একটা ঘটনার কথা বলব, তখন আমার বয়স ১৩ কি ১৪। বছর দুয়েক হয় গান গাইছি। একটা ছেলে মেইল পাঠায়। সে লিখেছিল, ‘আমার বাবা মারা গেছে কিছুদিন আগে। খুব হতাশায় ছিলাম। আপনার একটা গান বারবার শুনেছি। এই গানটা আমাকে সাহস দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে। বাবার চলে যাওয়ার দুঃখটা কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছি।’ এটা বিরাট ব্যাপার। গান এমনই জিনিস, এটা যদি মানুষের মন ছুঁয়ে যেতে পারে, তাহলে জীবন সুন্দর করে দিতে পারে। আমি ছাড়াও আমাদের দেশের অসংখ্য শিল্পী অনেক অসাধারণ সব গান উপহার দিয়েছেন। আমি আশাবাদী, এ প্রজন্মের শিল্পীরাও আরও অসাধারণ গান দিয়ে যাবে। তাদের কাছে প্রত্যাশা, দেশকে ভালোবেসে দেশের মানুষের জন্য তারা গাইবে।

অনেকেই বলে থাকেন, গান অনেক প্রকাশিত হচ্ছে কিন্তু সেভাবে জনপ্রিয় বা কালজয়ী হচ্ছে না। গান জনপ্রিয় বা কালজয়ী হওয়ার সময় কি তাহলে চলে গেছে?

কোনোভাবেই আমার মনে হয় না, গান জনপ্রিয় বা কালোত্তীর্ণ হওয়ার সময় চলে গেছে। হয়তো কমে গেছে। এখনো বলছি, বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম নিয়ে ভীষণভাবে আশাবাদী। তবে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসতে। সত্যিকারের মেধাবী শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতা করব। আমি যে ধরনের গান তৈরি করেছি, সব কটিই অন্য ধারার গান। কিন্তু প্রতিষ্ঠান খুশি মনেই রেকর্ড করেছে এবং প্রকাশ করছে। এ রকম আরও ১০টা প্রতিষ্ঠান যদি এগিয়ে আসে সংগীতাঙ্গনের দৃশ্যপট বদলে যাবে।

default-image

বাংলাদেশ ও বিশ্বসংগীতে আপনার পদচারণ অনেক বেশি। পাশের দেশ ভারত ও পাকিস্তানের অনেক শিল্পীকে আপনার নাম শুনলেই শ্রদ্ধায় নত হতে দেখেছি। আপনার কাছে জানতে চাই, বিশ্বসংগীতের তুলনায় আমাদের সংগীতের অবস্থান কোথায়?

এখানে একটা বিষয় আছে, যেহেতু আমরা শুধু বাংলা ভাষায় গান করি, সেহেতু আমরা বাংলা ভাষাভাষীদের কাছে বেশি পরিচিত। আমার শুরুটাই হয়েছিল উর্দু, হিন্দি, পাঞ্জাবি ও সিন্ধি ভাষায় গান গাওয়ার মধ্য দিয়ে। ১৮ ভাষায় গান গাইতে পারি। তাই হয়তো আমার গ্রহণযোগ্যতা একটু বেশি বলেই মনে হয়। আমি ভারতে গেলে হিন্দি, পাকিস্তানে গেলে উর্দুতে গাইতে পারছি। আসলে ভাষাটা অনেকের জন্য বাধা হয়ে যায়। বিশ্বের সবাই তো বাংলা ভাষা বোঝে না। গানের সুরটা হয়তো বোঝে কিন্তু কথা তো অনেকেই বোঝে না, যার কারণে ভালো শিল্পীদের অনেকের প্রচারণা হয় না। আমাদের দেশে কিন্তু অনেক ভালো ভালো শিল্পী ছিলেন এবং আছেও। ফেরদৌসী আপাও অনেক ভাষায় গান করেছেন। আঞ্জুমান আরা বেগম আপাও করেছেন। ফরিদা ইয়াসমীন, সাবিনা ইয়াসমীন করেছেন। সবারই বাইরের দেশে পরিচিতিও আছে। আমরা পিছিয়ে নেই, শুধু ভাষার দখলটা আয়ত্ত করতে পারলেই সবচেয়ে ভালো হয়। তবে আমি যখন মুম্বাই, দিল্লি ও পাকিস্তানে যখনই গানের অনুষ্ঠান করি, বাংলা গানের পাশাপাশি ওই দেশের ভাষার গান গাই। তবে প্রতিটা অনুষ্ঠান দেশাত্মবোধক গান দিয়েই আরম্ভ করি।

নতুন প্রজন্মের অনেকে আপনার সান্নিধ্য পেয়েছে। আপনি নতুনদের গান শোনেন, উৎসাহও দেন। জানতে চাই, নতুনদের মধ্যে বিশ্বসংগীতে নিজেদের মেলে ধরতে পারেন, এমন শিল্পী কি এ প্রজন্মে আছে?

default-image

আমার তো মনে হয়, এ প্রজন্মের সব শিল্পীই খুব মেধাবী। ওদের একটু সুযোগ দরকার। সুযোগ পেলেই তারা অনেক কিছু করতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। সুযোগ পেতে হলে ওদের পরিশ্রমও করতে হবে। কিন্তু কাউকে না কাউকে তো সুযোগটাও তৈরি করে দিতে হবে। আমার সামর্থ্যে যতটা সম্ভব, ওদের এগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। আশা করছি, অন্যরাও এগিয়ে আসবেন।

মেধা সম্পদ নিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশে একটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু পৃথিবীর সব শ্রুতিনন্দন গান তো সবারই গাওয়ার অধিকার আছে, নাকি? তাহলে আমরা এতটা যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখাচ্ছি কেন?

default-image

গান গাওয়ার অধিকার সবারই আছে। কিন্তু ব্যবসায়িকভাবে যখন কেউ গায়, তখনই আপত্তিটা আসে। পুরোনো গান নতুন করে প্রকাশের আগে অবশ্যই শিল্পী, গীতিকার ও সুরকারের কাছ থেকে অনুমতি নিতেই হবে। আমাকেও এ প্রজন্মের অনেকে জিজ্ঞাসা করে, ‘মেম, আপনার গাওয়া গান গাইতে চাই।’ সবাইকে বলেছি, আমার গান গাও, কোনো সমস্যা নেই। শুধু গীতিকার ও সুরকারের অনুমতি নিয়ে নাও। এখন কোনো প্রতিষ্ঠান নতুন করে কাউকে দিয়ে গাওয়াবে, টাকা আয় করবে, তা তো হতে পারে না। আমাদের শিল্পী, গীতিকার ও সুরকারের পাওনা। না জিজ্ঞাসা করে যখনই অবৈধ উপায়ে করে, তখনই বিপত্তি বাঁধে।

default-image

আপনার সমসাময়িক দেশের আরেক বরেণ্য শিল্পী সাবিনা ইয়াসমীন সম্প্রতি সুরকার-সংগীত পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। বিষয়টি আপনার কাছে কেমন লেগেছে?

ভালো তো। খুব ভালো। আমি তো দেখি নতুন প্রজন্মের অনেক শিল্পীরাও গাওয়ার পাশাপাশি সংগীত পরিচালনা করে। গানের জগতে সাবিনার অভিজ্ঞতা তো অনেক। সে করতেই পারে। আরও করলে আরও ভালো।


আপনাদের দুজনকে ভবিষ্যতে এক গানে দেখা যাবে?

ভবিষ্যতের কথা তো এখন বলতে পারব না।

বাংলাদেশ ও বিশ্ব আপনাকে শিল্পী হিসেবে না পেলে কীভাবে পেত?

আমাকে শিল্পী ছাড়া আর কোনোরূপেই পেত না। আমার জন্মই হয়েছে গানের জন্য। গান ছাড়া আমি আর কিছুই পারি না। শিল্পী, শিল্পী এবং শিল্পী—এর বাইরে আর কিছুই নই।

default-image


আপনাকে আমরা বিশ্বকাপ ক্রিকেট মাঠে খেলা দেখতে দেখেছি। ক্রিকেট বুঝি আপনার অনেক প্রিয়?

ক্রিকেট আমি টেলিভিশনেই দেখি। অনেক ছোটবেলায় আব্বার সঙ্গে এক–দুবার মাঠে গিয়েছি। যখনই বিশ্বকাপের খেলা, তা–ও আবার বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের লড়াই, তখন আমি আবার লন্ডনে। ভাবলাম, যেভাবেই হোক, সেদিন মাঠে থাকবই। যত টাকাই লাগুক, খেলার টিকিট আমার চাই-ই। এরপর অবশ্য ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি পাপন ভাইয়ের সঙ্গে আলাপ হয়। তিনি টিকিটের ব্যবস্থা করে দিলেন। আমার মেয়ে তানি লায়লা, তাঁর বর তারিকসহ খেলা দেখতে যাই। খেলাটা আবার লন্ডনের লর্ডসে, তাই সুযোগটা মিস করতে চাইনি।

বিজ্ঞাপন

ক্রিকেট ছাড়া আপনি আর কোনো খেলা পছন্দ করেন?

default-image

লন টেনিস আমি খুব এনজয় করি। উইম্বলডন আমি প্রায়ই দেখি। ইদানীংকালে অবশ্য আগ্রহটা কমে গেছে, অনেক খেলোয়াড়কে চিনি না তো।

নিজে টেনিস খেলতেন?

নিজে একটা সময় সোনারগাঁও হোটেলে প্র্যাকটিস করতাম। ও রকমভাবে খেলিনি। স্কুলে থাকতে বাস্কেটবল খেলতাম।

default-image

একদম শেষ প্রশ্ন। একটা কথা প্রচলিত আছে, এক বনে দুই বাঘ থাকতে পারে না। আপনারা দুই অঙ্গনের শ্রেষ্ঠ দুজন মানুষ। কীভাবে এতটা সময় পার করলেন। রহস্য কী?

সিক্রেট হচ্ছে, আমরা কেউ কারও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করি না। দুজনের কাজ নিয়ে দুজন পরামর্শ করি। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা খুবই জরুরি এবং বিশ্বাসও। এই কয়েকটা বিষয় থাকলে যেকোনো সম্পর্ক সুন্দর হবেই। আমরা দুজন খুব ভালো বন্ধুও। যখনই সময় পাই, নিজেরা অনেক গল্প করি, আড্ডা দিই, সিনেমা দেখি। আমরা দুজনেই খুব ফ্যামিলি ওরিয়েন্টেড। দুজনের মধ্যে সুন্দর বোঝাপড়া আছে। একজনের আরেকজনের প্রতি সম্মানটা সব সময় দিই, করি।

default-image
মন্তব্য পড়ুন 0