default-image

রাত জেগে শাস্ত্রীয় সংগীত শোনার সময় হলো। শুদ্ধ সংগীতের ক্ষেত্রে ভালো লাগাটাই মূল কথা। সবকিছুই বুঝতে হবে, এমন তো নয়। তাই ভালো লাগার টানে ২০১২ সাল থেকে রাজধানীর বনানী আর্মি স্টেডিয়ামে হাজির হচ্ছেন হাজারো সংগীতপ্রেমী। ইতিমধ্যে সবাই জেনে গেছেন এ বছরের উৎসবের বিস্তারিত তথ্য। নিশ্চয়ই নিবন্ধনও করে ফেলেছেন আগ্রহীরা। প্রতিবারের মতো একঝাঁক শিল্পী পাঁচ রাত শোনাবেন তাঁদের যন্ত্র ও কণ্ঠসংগীত। থাকবে চোখধাঁধানো, মন ভরানো মণিপুরি, ভরতনাট্যম, কত্থক ও ওডিশি নাচের পরিবেশনা। এবার বাংলাদেশের শিল্পীদের সংখ্যা বেশি। বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে থাকবে বেঙ্গলের পরম্পরা সংগীতালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা। সংগীতপ্রেমীদের জন্য যুক্ত করতে চাই নতুন কিছু তথ্য, যা চোখ এড়িয়ে গেছে বা জানা হয়নি।
প্রথম আসছেন যাঁরা

default-image

প্রথমবারের মতো এ দেশে সংগীত পরিবেশন করতে আসছেন প্রায় ১৭ জন বিদেশি শিল্পী। চলুন জেনে নিই তাঁদের কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত পরিচয়।
প্রভা আত্রে কিরানা ঘরানার অন্যতম অগ্রজ গায়ক। খেয়াল, ঠুমরি, দাদরা, গজল ও নাট্যসংগীতে সমান পারঙ্গম। পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ, কালিদাস সম্মাননা, সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কার, ঠাকুর আকাদেমি রত্ন পদকসহ পেয়েছেন অনেক সম্মাননা। লক্ষ্মীনারায়ণ সুব্রামানিয়াম আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বেহালাশিল্পী। দেশীয় ধ্রুপদ সংগীত ছাড়াও অর্কেস্ট্রা, ব্যালে ও চলচ্চিত্রের জন্য সংগীত রচনা ও পরিচালনা করে তিনি হয়েছেন খ্যাতিমান। পেয়েছেন পদ্মশ্রী, পদ্মভূষণ সম্মাননা। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্যও মনোনয়ন পেয়েছিলেন। বিক্রম ঘোষ ভারতের বিখ্যাত তবলাশিল্পী। ধ্রুপদি, ফিউশন, রক, নিউ-এজ, চলচ্চিত্রসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ও রীতিতে বাজাতে পছন্দ করেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন বঙ্গভূষণ ও সংগীত মহাসম্মান খেতাব। রঞ্জনি ও গায়ত্রী দুই বোন, প্রতিষ্ঠিত কর্ণাটকি কণ্ঠশিল্পী ও বেহালাবাদক জুটি। একক ও যুগল—উভয় পরিবেশনাতেই তাঁরা মনোমুগ্ধকর। পণ্ডিত বালমুরালি কৃষ্ণ, টি বিশ্বনাথনসহ আরও বিশিষ্ট শিল্পীদের সঙ্গে এক মঞ্চে বাজিয়েছেন তাঁরা। ভূষিত হয়েছেন নানা পদক ও সম্মাননায়। মাধবী মুদগাল ওডিশি নৃত্যধারার খ্যাতিমান শিল্পী। তাঁর বাবা অধ্যাপক বিনয়চন্দ্র মুদগাল প্রতিষ্ঠা করেছেন নৃত্য ও সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গান্ধর্ব মহাবিদ্যালয়। লাভ করেছেন পদ্মশ্রী সম্মাননা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে কলকাতার আইটিসি সংগীত রিসার্চ একাডেমিতে শেখাচ্ছেন তিনি।
আরুশি মুদগাল ওডিশি নৃত্যধারার একজন প্রতিভাবান তরুণ শিল্পী। ফুফু ও গুরু মাধবীর কাছে শিখেছেন। গুরু কেলুচরণ মহাপাত্র ও বিদুষী লীলা স্যামসানের কাছেও নিয়েছেন প্রশিক্ষণ।
দেশের উল্লেখযোগ্য শিল্পী

default-image

উৎসবে অংশ নেবেন বাংলাদেশের ১৬৫ জন শিল্পী। উদ্বোধনী পর্বে নৃত্যশিল্পী শর্মিলা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গানে মণিপুরি, ভরতনাট্যম, ওডিশি ও কত্থক নাচ করবেন প্রায় ৬০ জন শিল্পী। চতুর্থ দিনে থাকবে মুনমুন আহমদ ও তাঁর দলের কত্থক নৃত্য। দ্বিতীয় দিন প্রিয়াঙ্কা গোপের একক কণ্ঠের খেয়াল, শেষ দিন তাঁরই নির্দেশনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা। দ্বিতীয় দিন মোহাম্মদ শোয়েবের নির্দেশনায় তাঁর শিক্ষার্থীরা পরিবেশন করবেন পরীক্ষামূলক রাগসংগীত। এ ছাড়া উৎসবের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও পঞ্চম দিনে তবলা, সরোদ ও সেতারে যন্ত্রসংগীত পরিবেশন করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিক্ষার্থীরা। উৎসবের কনিষ্ঠতম মুখ এই প্রতিষ্ঠানের সাত বছরের সেতারশিল্পী ইসরাত ফুলঝুরি খান।
যাঁদের খবর জানতে চেয়েছেন পাঠক
গত বছরগুলোর মতো এবারও বাজাবেন প্রবাদপ্রতিম বাঁশিিল্পী পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়া। শোনা যাবে পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার মোহনীয় সন্তুরের সুর, কণ্ঠসংগীত ও বাদ্যের নানা পরিবেশনা নিয়ে হাজির হবেন পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী, পণ্ডিত উলহাস কশলকর, ওস্তাদ রশিদ খাঁ, পণ্ডিত কুশল দাস, পণ্ডিত তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার ও পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকার।

বিজ্ঞাপন
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন