default-image

সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার তহবিল সংগ্রহের জন্য গাইবেন তিন সংগীতশিল্পী—সৈয়দ আব্দুল হাদী, সাবিনা ইয়াসমীন ও মিতালী মুখার্জি। কাল রোববার সিঙ্গাপুরের জালান বুকিত মেরাহর গেটওয়ে থিয়েটারে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটায় গাইবেন তাঁরা। ‘এন্ড্রু কিশোরের জন্য ভালোবাসা’ শিরোনামের এ আয়োজনের যৌথভাবে পৃষ্ঠপোষকতায় আছে সিঙ্গাপুর চেম্বার অব কমার্স ও বাংলাদেশ সোসাইটি সিঙ্গাপুর। প্রথম আলোকে এমনটাই জানিয়েছেন অনুষ্ঠানটির বাংলাদেশ অংশের সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর সাঈদ। সাবিনা ইয়াসমীন এরই মধ্যে সিঙ্গাপুর পৌঁছেছেন। আজ শনিবার পৌঁছানোর কথা রয়েছে সৈয়দ আব্দুল হাদী ও মিতালী মুখার্জির।

সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, ‘এটা শিল্পীর প্রতি শিল্পীর সহমর্মিতার বিষয়। একজন শিল্পীর দুঃসময়ে যদি অন্য শিল্পীরা পাশে না দাঁড়ান, তাহলে কেমন হয়। এটা তেমন বিশেষ কিছুই না—একটা দায়িত্ববোধ বলা যেতে পারে। এন্ড্রু কিশোরের বয়স তো এমন কিছু হয়নি, সুস্থ হয়ে আবার গানের জগতে ফিরে আসুক—এটাই চাওয়া।’ কনসার্ট শেষ করে ১১ ফেব্রুয়ারি দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এরই মধ্যে এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। এরপরও তহবিল সংগ্রহের এ আয়োজন কেন, জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর সাঈদ বলেন, ‘অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা দুই মাস আগের। তখনই ভেন্যু ভাড়া নেওয়া থেকে শুরু করে যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করা হয়। অনেকে টিকিট কিনে নেন। তাই দর্শক ও আয়োজকদের কথা চিন্তা করেই আয়োজনটি করা হয়। তা ছাড়া প্রধানমন্ত্রী কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসার যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছেন। এর বাইরেও খরচ আছে। এ অনুষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তহবিল সেই কাজে আসবে।’

default-image

এন্ড্রু কিশোর বর্তমানে ‘নন-হজকিন লিম্ফোমা’ নামক ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত। শরীরে নানা ধরনের জটিলতা নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে দেশ ছেড়েছিলেন। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁর শরীরে নন-হজকিন লিম্ফোমা ধরা পড়ে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক লিম সুন থাইয়ের অধীনে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। গত তিন মাস একনাগাড়ে তাঁর চিকিৎসা চলে।

সংগীতজীবনের শুরুতে আবদুল আজিজ বাচ্চুর অধীনে প্রাথমিকভাবে সংগীতচর্চা শুরু করেন এন্ড্রু কিশোর। চলচ্চিত্রে তাঁর প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হয় ১৯৭৭ সালে আলম খান সুরারোপিত ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানের মধ্য দিয়ে। এরপর তাঁর গাওয়া অনেক গান জনপ্রিয় হয়। বাংলা চলচ্চিত্রের গানে অবদান রাখার জন্য তিনি কয়েকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0