বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি হয়ে গেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার শতবর্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ঢাকার হাতিরঝিল অ্যাম্ফিথিয়েটারে হলো ১৬ দিনব্যাপী কনসার্ট। বাংলাদেশের বিজয়ের ৫০ বছর উদ্‌যাপনে সংসদ ভবন চত্বরেও ছিল দুই দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সেখানে গান করছেন দেশের প্রায় সব শিল্পী। এ ছাড়া ঢাকার অন্য সব অনুষ্ঠানে তরুণ, সম্ভাবনাময় ও নামকরা সব শিল্পী যেমন গেয়েছেন, তেমনই গান করেছেন ব্যান্ডের শিল্পীরাও। অনেক দিন পর একই মঞ্চে গান পরিবেশন করেছেন এমন ব্যান্ড ও তারকা শিল্পীরা, যা অনেক দিন পর আনন্দ দিয়েছে সংগীতপ্রেমী তরুণদের।

default-image

শিল্পীদের ফেসবুক ওয়ালে চোখ বোলালে দেখা যায়, কেউ বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে, কেউ বিমানের আসন থেকে ছবি পোস্ট করছেন। কেউ কেউ চেকইনে লিখেছেন, ‘অন দ্য ওয়ে টু কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী, বরিশাল’। ঢাকার বাইরের কনসার্টে গান গাইতে যাচ্ছেন তাঁরা। যাত্রাপথে রাস্তার পাশে চা পানের বিরতির ছবিও দেখা গেছে শিল্পীদের ওয়ালে। অনিশ্চিত একটা সময় শেষে সবাই যেন স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন। শ্রোতাদের সামনাসামনি গাওয়ার সুযোগ পেয়ে অনেকেই যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। অনিশ্চয়তা কেটে আয়ের পথও সুগম হয়েছে, এটাও তাঁদের স্বস্তি দিয়েছে। যাঁরা এখনো শুরু করেননি, তাঁরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিগগির মঞ্চে ওঠার। ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিসানুল আহসান বলেন, ‘আমরা ৯ বন্ধু গত কয়েক দিন ঢাকায় যতগুলো কনসার্ট হয়েছে, সব কটিতে গিয়েছি। খুবই আনন্দ-উল্লাস করেছি। চিৎকার করে প্রিয় শিল্পীর সঙ্গে গলা মিলিয়েছি। কত দিন পর কনসার্ট, ভাবতেও ভালো লাগে!’

করোনার ভয়াবহতায় অনেকে এই অঙ্গন থেকে সরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। তবে গত এক মাসের চিত্র বলছে, অনেকেই সিদ্ধান্ত বদলেছেন। আয়োজক প্রতিষ্ঠানের কেউ কেউ বলছেন, যাঁরা অলরেডি পেশা বদল করেছেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনা উচিত। এই অঙ্গনকে এগিয়ে নিতে সবাইকে নিয়ে কাজ করতে হবে। তাঁদের মতে, করোনার এই সময়ে নতুন কোনো শিল্পী ও কলাকুশলী তৈরি হননি। তাই দক্ষ ও পরীক্ষিত শিল্পীদের নিয়েই এগোতে হবে। ইদানীং দেশে যেভাবে ইভেন্ট বেড়েছে, তাতে আগের অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন ইভেন্ট ব্যবস্থাপকেরা। মেলোডি এন্টারটেইনমেন্টের কর্ণধার ওমর মির্জা বলেন, ‘অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে স্টেজ শো বেড়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী—সব মিলিয়ে প্রচুর অনুষ্ঠান। এত অনুষ্ঠান যে অনেক শিল্পী শিডিউল মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।’ তবে তিনি এ–ও বলেন, ‘কনসার্টে সবাই যেন সাবধানতা অবলম্বন করি, যাতে আমাদের ভুলের কারণে আবার আমরা আগের অবস্থায় ফিরে না যাই।’

default-image

কনসার্টের বড় আয়োজক ব্লুজ কমিউনিকেশনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরহাদুল ইসলাম বলেন, ‘এর মধ্যে শুরু হওয়া কনসার্টগুলো খেয়াল করলে দেখা যাবে, উপচে পড়া ভিড়। এই অঙ্গনের যে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে যেভাবে শুরু হচ্ছে, আবার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব।’

কনসার্ট শুরু হয়ে গেলেও আয়োজক, শিল্পী ও শ্রোতাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সবাই। কনসার্টে অবশ্যই সবাইকে মাস্ক ব্যবহারের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন তাঁরা।

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন