বিজ্ঞাপন

প্রথমবারের মতো গান লেখা নিয়ে কবরীরও উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। তিনি বললেন, ‘নিজের প্রেমের অভিজ্ঞতা, ছবিতে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা, অসংখ্য গানে ঠোঁট মেলানোর অভিজ্ঞতার সঙ্গে আবেগ মিশিয়ে গানটি লিখেছি। সাবিনা সুর–সংগীত করার পর এত সুন্দর হয়েছে, মনে হচ্ছে আমিই গাই! কোনাল যে দরদ দিয়ে গাইবে, এটা আগে থেকেই আন্দাজ করেছিলাম। শেষ পর্যন্ত খুব ভালো হয়েছে। আমাদের ভীষণ ভালো লেগেছে।’

কবরীর লেখা ও সাবিনা ইয়াসমীনের সুর-সংগীতে গাইতে পারা এখন পর্যন্ত সংগীতজীবনের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে দেখছেন কোনাল। রেকর্ডিংয়ের আগের দিন থেকে তিনি ভীষণ নার্ভাস হচ্ছিলেন। কোনাল বলেন, ‘সেরাকণ্ঠ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বের আগের রাতে যেমন নার্ভাস হচ্ছিলাম, ঠিকই একই অনুভূতি হচ্ছিল। রাতেই সাবিনা ম্যামকে ফোন করে বলেছিও, আমি নার্ভাস। তিনি অভয় দিয়ে বলেন, “আরে পাগল আমি তো আছি! তুমি তোমার মতো গাইবে।”

default-image

স্টুডিওতে আসার পরে প্রতিটি লাইনে তিনি ধরে ধরে শিখিয়ে দিয়েছেন। আমার মনে হচ্ছে, করবী আপার লেখা গান ও সাবিনা ম্যামের সংগীত পরিচালনায় একটা ইতিহাস তৈরি হলো! সেই ইতিহাসের অংশ আমি হতে পারলাম। আমি ভীষণ সৌভাগ্যবান। এত বড় আয়োজনের অংশ করে নেওয়ার জন্য করবী আপা ও সাবিনা ম্যামকে ধন্যবাদ।’

গান তৈরির সময়কার কথা মনে করে কবরী বললেন ‘তুমি সত্যি করে বলো, বলো তো/ যে কথা আঁখিতে মনেতে ভাবিতে/ আমাকে সে কথা বলো’ কথাগুলো মাথায় ঘুরছিল। চরণগুলো গুছিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে করে পাঠিয়ে দেন সাবিনা ইয়াসমীনের কাছে। সুরের পিঠে চরার পর কথাগুলো ভালোই লাগল সাবিনার। তৈরি হয়ে গেল গান। এ গানের জন্য সাবিনার কাছ থেকে ১০ নম্বরের মধ্যে ৯ পেয়েছেন কবরী।

default-image

পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে গানের জগতে বিচরণ সাবিনা ইয়াসমীনের। এবারই প্রথম সংগীত পরিচালনা করছেন তিনি। এ প্রসঙ্গে সাবিনা বলেন, ‘চমৎকার কথার গান পেয়েছি। যেমন চেয়েছি, গানের কথাগুলো তেমনই।’ নতুন কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভালোই লাগছে। যদিও আমার জন্য বিষয়টি একেবারে নতুন। গীতিকারের সঙ্গে বসে সুর নিয়ে কাজ করা, দু-এক লাইন করে লিখছেন—পুরো প্রক্রিয়া বেশ উপভোগ করেছি। এর মধ্যে তো চমকে দিলেন কবরী। ছবির একটি গান তিনিও লিখলেন। বেশ ভালো লিখেছেন। একবারে সুরের মিটারে বসে গেছে। সারা জীবন এত গানে কণ্ঠ মিলিয়েছেন, অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতা থেকে দারুণ একটা গান লিখেছেন।’

default-image
পুরো প্রক্রিয়া বেশ উপভোগ করেছি। এর মধ্যে তো চমকে দিলেন কবরী। ছবির একটি গান তিনিও লিখলেন। বেশ ভালো লিখেছেন। একবারে সুরের মিটারে বসে গেছে। সারা জীবন এত গানে কণ্ঠ মিলিয়েছেন, অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। সেই অভিজ্ঞতা থেকে দারুণ একটা গান লিখেছেন।’
সাবিনা ইয়াসমিন

সংগীত পরিচালক হিসেবে পরিচালক কবরীর কাছ থেকে বেশ স্বাধীনতাও পাচ্ছেন বলে জানালেন সাবিনা ইয়াসমীন। তিনি বললেন, ‘গানের ক্ষেত্রে আমার ভাবনাই চূড়ান্ত। জীবনে অসংখ্য গুণী সুরকার ও সংগীত পরিচালকের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা আমাকে এই কাজে বেশ সহায়তা করেছে।’

default-image

সাবিনা ইয়াসমীন ও কবরী চার দশকের বন্ধু। সাবিনার গাওয়া অসংখ্য গানে সিনেমার পর্দায় ঠোঁট মেলাতে দেখা গেছে কবরীকে। এবার সেই কবরীর পরিচালনা করা ছবিতে সাবিনা ইয়াসমীন হলেন সংগীত পরিচালক। আগে অনেকবার সংগীত পরিচালনার প্রস্তাব পেলেও কখনোই রাজি হননি সাবিনা ইয়াসমীন। কিন্তু বন্ধু কবরীর অনুরোধ ফেলতে পারেননি। ‘এই তুমি সেই তুমি’ ছবির অন্য দুটি গান লিখেছেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার ও মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান।

default-image

সরকারি অনুদানের ছবির শুটিং শেষের দিকে। পরিচালনার পাশাপাশি ছবির কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন কবরী। ছবিতে অভিনয় করেছেন নিশাত সালওয়া, রায়হান রিয়াদ প্রমুখ।

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন