২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল চলে গেছেন লাকী আখান্দ্
২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল চলে গেছেন লাকী আখান্দ্

সেদিন খুব বৃষ্টি হয়েছিল। ২০১৭ সালের ২১ এপ্রিল। সকাল থেকেই বৃষ্টি। এর ভেতরেই লাশবাহী গাড়িতে তাঁকে নেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। তাঁর সুর করা বহুল জনপ্রিয় গান ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে’ স্মরণ করে বেদনার্ত কণ্ঠে কেউ কেউ বলেছেন, এমন দিনেই চলে যেতে হলো লাকীকে! বৃষ্টিভেজা দুপুরেই রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের সবুজ মাটিতে চিরঘুমে চলে যান মুক্তিযোদ্ধা, সুরকার, সংগীত পরিচালক লাকী আখান্দ্। শেষ হয় বাংলা গানের একটা অধ্যায়।

কিন্তু দেহান্তর মানেই মানুষের নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া নয়। তাঁর সৃষ্টি ও কর্ম মহাকালকে পরাজিত করে কালোত্তীর্ণ হয়ে ওঠে। আক্ষরিক অর্থে মৃত্যুকে জয় করার উপায় না থাকলেও এভাবেই মৃতুঞ্জয়ী হয়ে ওঠেন কেউ কেউ। গানের মানুষ লাকী আখান্দ্ ছিলেন তেমনই একজন। আছে তাঁর সৃষ্টি করা অদ্ভুত সব সুর।

default-image
বিজ্ঞাপন

আজ সকাল থেকেই ফেসবুকে নানাজনের ওয়ালে তাঁর ছবি। তাঁকে নিয়ে নানা কথা লিখেছেন অনেকে। আজ বুধবার বহুজনের স্মৃতিতে তিনি ফিরে এসেছেন। তাঁর অনেক অনুরাগী মনে করেন, বাংলা গানের নতুন পথের দিশারি ছিলেন তিনি। তাঁকে স্মরণ করে আজ আবার জেনে নেওয়া যাক তাঁর জীবনের গল্প। যে গল্প হয়তো অনেকের অজানা।

default-image

সুরের ভুবনে ছিলেন শৈশব থেকে মৃত্যু পর্যন্ত
পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায় গেলে এখনো লাকী, হ্যাপিদের নাম শোনা যায় গানের মানুষ হিসেবে। মাঠের পাশে তাঁদের বাসা। এক সংগীতানুরাগী পরিবারে জন্ম লাকী আখান্দের। তিন ভাই জলি, হ্যাপি ও লাকীর সংগীতের প্রতি অনুরাগ পারিবারিকভাবেই। পাঁচ বছর বয়সে বাবা এ কে আবদুল হক আখান্দের হাত ধরে সংগীতশিক্ষায় হাতেখড়ি তাঁর। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘বাবার কাছ থেকে আমাদের গানের প্রতি ভালোবাসার শুরু। আমাদের বাবা এ কে আবদুল হক গ্রেট মিউজিশিয়ান ছিলেন। তিনি ব্রিটিশ আর্মিতে লেফটেন্যান্ট ছিলেন। আর্মি থেকে চলে আসার পর তাঁর গানের প্রতি ভালোবাসা জন্মে। তিনি গানের একেবারে পাগল ছিলেন। সন্ধ্যা সাতটায় হারমোনিয়াম নিয়ে বসতেন। ঠুমরি, এটা-ওটা গাইতে গাইতে রাত তিনটা বেজে যেত। এগুলো শুনেই তো আমরা বড় হয়েছি। তবে বাবার কাছ থেকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আমি কিছু শিখিনি। এভাবেই শিখেছি।’

১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত টেলিভিশন ও রেডিওতে শিশুশিল্পী হিসেবে সংগীতবিষয়ক অনুষ্ঠানে অংশ নেন লাকী। ১৩ বছর বয়সে আধুনিক সংগীতে পাকিস্তান আর্ট কাউন্সিলের পুরস্কার পান। ১৪ বছর বয়সে এইচএমভি পাকিস্তান কোম্পানির সুরকার হিসেবে লাকী আখান্দের নাম তালিকাভুক্ত হয়। ১৯৭১ সালে ১৬ বছর বয়সে এইচএমভি ইন্ডিয়ায় সুরকার হিসেবে নিযুক্ত হন তিনি।

default-image

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীতশিল্পীর ভূমিকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে যোগ দেন এই কণ্ঠযোদ্ধা। সেখানে তাঁর গানের মধ্যে ছিল ‘জন্মভূমি বাংলা মাগো একটি কথা শুধাই তোমারে’, ‘ওই চেয়ে দেখো পুব আকাশ ফিকে হলো, ভোর হলো, ভোর হলো পথের আঁধার আর নাই’, ‘আমরা গেরিলা, আমরা গেরিলা মুজিবর, মুজিবর, মুজিবর’ ইত্যাদি । ডিসেম্বরে বিজয়ের পরে দেশে ফিরে বাংলাদেশ বেতারে যোগ দেন। পরিচালক (সংগীত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন চাকরিজীবনের শেষ পর্যন্ত।

শিল্পীর সহোদর ক্ষণজন্মা হ্যাপি আখান্দের সঙ্গে ছিল তাঁর আত্মার সম্পর্ক। ১৯৮৭ সালে ছোট ভাই হ্যাপি আখান্দের অকালমৃত্যু লাকীর সংগীতজীবনকেও থমকে দেয়। এই প্রতিবেদকের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি বলেছিলেন, ‘বাবার কাছ থেকে যা জেনেছি, হ্যাপিকে শিখিয়েছি। হ্যাপিকে আমি অনেক দুঃখ দিয়েছি। তখন আমাদের অনেক অভাব ছিল, দুঃখ-যন্ত্রণা ছিল। তবে সংসারে যদি অভাব না থাকত, আমাদের ভেতরে যদি কষ্ট না থাকত, তাহলে আমাদের ভেতরে মিউজিক ঢুকত না।’

বিজ্ঞাপন

ভাইয়ের মৃত্যুর পর দীর্ঘকাল তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। অনেক পরে আবার গানে ফেরেন তিনি। ১৯৮৪ সালে সারগামের ব্যানারে লাকী আখান্দের প্রথম একক অ্যালবাম ‘লাকী আখান্দ’ প্রকাশিত হয়। তিনি ব্যান্ড হ্যাপি টাচের সদস্য ছিলেন। ওই সময়ে তাঁর উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে ছিল ‘এই নীল মণিহার’, ‘আমায় ডেকো না’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘মামনিয়া, ‘বিতৃষ্ণা জীবনে আমার’, ‘কী করে বললে তুমি’, ‘লিখতে পারি না কোনো গান’, ‘ভালোবেসে চলে যেয়ো না’ ইত্যাদি।

default-image

তিনবার নাম বদলেছেন লাকী আখান্দ্
জন্মের পর তাঁর নাম রাখা হয়েছিল এ টি আমিনুল হক। পরে মা নাম বদলে এ টি এম আমিনুল হাসান করেছিলেন। ম্যাট্রিকের সার্টিফিকেটেও এই নাম আছে। তবে যুদ্ধের সময় ভারতে গিয়ে তিনি ছদ্মনাম রাখেন—লাকী আনাম। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, নাম পাল্টানোর কারণ হিসেবে তিনি দেশে পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবেছিলেন। কারণ, মা-বাবা দেশে থাকেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে তাঁর গান বাজে। পাকিস্তানি আর্মিরা কোনোভাবে আসল পরিচয় জানলে দেশে পরিবারের সদস্যদের মেরে ফেলতে পারে। পরে স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে পূর্বপুরুষের পদবি নিয়ে নিজের নাম রাখলেন লাকী আখান্দ্।

তিনি ছিলেন অন্যদের চেয়ে আলাদা

ঠুমরির ওপর ছেলের কোনো কাজ নেই, এমন অনুযোগ ছিল লাকী আখান্দের মা নুরজাহান বেগমের। মায়ের ইচ্ছায় নিজেরই লেখা ‘ভুলতে পারিনি তোমায়, তুমি কে বলো না’ গীতিকবিতাটিকে ঠুমরি ধাঁচে সুর করে নিজেই গাইলেন লাকী। চমৎকার সুরারোপের জন্য মুগ্ধ হয়ে মা নুরজাহান বেগম পুরস্কার হিসেবে ছেলের হাতে তুলে দেন ১০ হাজার টাকা। আধুনিক, ব্যান্ড সংগীতে অনন্য লাকী আখান্দের প্রতিভা ছিল বিচিত্র। তিনি ছিলেন সময়ের চেয়ে এগিয়ে। শুধু এগিয়েই না, তাঁর সময়ে তিনি ছিলেন অন্যদের চেয়ে আলাদা।

default-image

সুরকার হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিলেন। গানের বাণীকে গুরুত্ব দিয়ে তৈরি করেছেন সুর। অভিন্ন সুর অথচ ভিন্ন ভিন্ন সংগীত আয়োজনে গাওয়া হয়েছে একই গান। এই নিরীক্ষা মন জয় করেছে সবার, শ্রোতারা পেয়েছেন নতুনত্বের স্বাদ। সুরকে বৈচিত্র্যপূর্ণ করতে এ দেশে হামিংয়ের সফল ব্যবহারে সামনের সারির একজন লাকী আখান্দ্। পাশাপাশি পানির গ্লাস, চিরুনি, দেশলাইয়ের বক্সের মতো নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রীর গায়ে টোকা দিয়ে অভিনব অথচ শ্রুতিমধুর ছন্দ সৃষ্টির কৌশলের (শেকার) সফল প্রয়োগের অগ্রপথিক তিনি।

‘আবার এল যে সন্ধ্যা’, ‘এই নীল মণিহার’, ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’, ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে’, ‘তুমি কি দেখেছ পাহাড়ি ঝরনা’, ‘তুমি ডাকলে কাছে আসতাম সে তো জানতেই’ এমন সব গান শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরদিনের জন্য ঠাঁই নিয়েছে বাণী, সুর ও আবহের মিশ্রণে।

বাণী ও সুরের বন্ধনকে বৈচিত্র্যময় ও সমৃদ্ধ করেছে হামিং ও শেকার। তাঁর সুর করা গানে ভিন্ন ধারার শ্রুতিমধুর বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার হয়েছে অনিবার্যভাবে, তবে গানের বাণী হারিয়ে যায়নি সুরের প্রাধান্যে।

default-image

দুটি গানের কথা আলাদাভাবে বলা যায়। ‘যেখানে সীমান্ত তোমার’ গানটি সুরকার লাকী আখান্দ্ যেভাবে গেয়েছেন, সেই একই গান কণ্ঠশিল্পী কুমার বিশ্বজিতের কণ্ঠে ধরা দিয়েছে ভিন্নভাবে, ভিন্ন সংগীত পরিচালনায়। দুভাবেই পরিবেশিত গানটি শ্রোতাদের হৃদয়ে চিরদিনের জন্য গেঁথে আছে। একই ঘটনা ‘মামুনিয়া’ ও ‘বিড়ালের ছানা’ গান দুটিতে। সুরকার নিজের কণ্ঠে গেয়েছেন যে সংগীত আয়োজনে, সুর অবিকৃত রেখে গায়ক ফেরদৌস ওয়াহিদকে দিয়ে গানটি গাইয়েছেন ভিন্ন আঙ্গিকে।

বিজ্ঞাপন

সামিনা চৌধুরীর কণ্ঠে ‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে রাতের নির্জনে’, জেমসের কণ্ঠে ‘লিখতে পারি না কোনো গান আজ তুমি ছাড়া’, আইয়ুব বাচ্চুর ‘কী করে বললে তুমি’, লাকী আখন্দের নিজের কণ্ঠে ‘আমায় ডেকো না ফেরানো যাবে না’ কিংবা ছোট ভাই হ্যাপি আখান্দকে নিয়ে দ্বৈত কণ্ঠে গাওয়া ‘স্বাধীনতা তোমাকে নিয়ে গান লিখেছি’ বাংলাদেশের আধুনিক গানের ইতিহাসে ভিন্ন এক মাইলফলক হয়ে আছে।

default-image

ফোক ফিউশনের সঙ্গে পাশ্চাত্য সুরের মেলবন্ধন তাঁর সৃষ্টির মূল অবলম্বন। বিশেষ করে স্প্যানিশ সুর মূর্ছনার প্রতি লাকী আখান্দের আগ্রহ দেখা গেছে।

তিনি বলেছিলেন, ‘শুরু থেকেই স্পেন ও গ্রিসের মিউজিক আমাকে স্পর্শ করে। এগুলোই আমার গানে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে। কোনো শিক্ষক পাইনি। তবে নিজে নিজে শেখার চেষ্টা করেছি।’
এটা সত্যি যে লাকী আখান্দের সুরে, সংগীতে পাশ্চাত্য ও আধুনিক সুরের প্রভাব ছিল। তাই বলে তাঁর মৌলিক প্রতিভাকে ম্লান করতে পারেনি কখনো। বরং ধ্রুপদি ও ঠুমরির সুরে তৈরি করেছেন অন্তত দুটি গান, যা মন কেড়েছে সংগীতবোদ্ধাদের।

default-image

কাওসার আহমেদ চৌধুরীর কথায় গজল ও ক্ল্যাসিক্যাল সুরের ওপর তৈরি করা ‘আজ এই বৃষ্টির কান্না দেখে মনে পড়ল তোমায়’ গানটি নিয়াজ মোহাম্মদ চৌধুরীর কণ্ঠে সেভাবে জনপ্রিয় হয়েছে, তাতে প্রমাণিত হয়, লাকী আখান্দ্ বহুমাত্রিক সুর ও সংগীতের মানুষ।

ভিন্ন ধারার সুরে নিরীক্ষাধর্মী সংগীতায়োজনে আগ্রহী বলে লাকী আখান্দ্ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন এস এম হেদায়েত, গোলাম মোরশেদ কিংবা কাওসার আহমেদ চৌধুরীর মতো ভিন্নধারার গীতিকারদের সঙ্গে কাজ করতে। এর মধ্যে কাওসার আহমেদ চৌধুরীর কলমে উঠে আসা ঝরঝরে সহজবোধ্য আধুনিক রোমান্টিক গীতিকবিতা লাকীর সুরে পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা।

default-image

এইচএমভিতে লাকী আখান্দ্
একটি গল্প না বললেই নয়। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর মে মাসে লাকী আখান্দ্ কলকাতায় চলে গেলেন। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা করলেন সমর দাসের সঙ্গে। সমর দাস তাঁকে বললেন, ‘এখন এখানে সুরকার লাগবে না। তুমি চলে যাও! আমরা মন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং করে তারপর তোমাদের জন্য কিছু করব।’ ‘আমি তো টাকাপয়সা কিছুই নিয়ে আসিনি! আমি কি রাস্তায় থাকব?’ অবাক হয়ে বলেছিলেন লাকী আখান্দ্। উত্তর ছিল, ‘এখন যাও, পরে আমরা ব্যবস্থা করব!’ শ্যামল মিত্রের ঠিকানা জোগাড় করে গিয়েছিলেন আকাশবাণীতে। শ্যামল মিত্র তাঁর কথা শুনে বললেন, ‘আপনি আমার এখানে এসেছেন কেন? সরাসরি এইচএমভিতে গেলেই তো পারেন!’ খুবই মন খারাপ হয়ে গেল লাকী আখান্দের। শ্যামল মিত্রের চোখে চোখ রেখে বললেন, ‘আমি আপনার গান গেয়ে বড় হয়েছি। আপনি আমার সবকিছু। আপনি যদি এভাবে কথা বলেন, তাহলে আমি একা একাই চলে যাব।’

শ্যামল মিত্র নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। ১৫-১৬ বছর বয়সী ছেলেটির হাতে তুলে দিলেন একটি চিরকুট। তাতে লিখলেন, ‘ওকে দিয়ে কিছু সম্ভব হলে করবেন!’

শ্যামল মিত্র চিঠিটা তুলে দিতে বললেন প্রতিষ্ঠানের সন্তোষ সেনগুপ্তের হাতে। লাকী আখান্দ্ চিঠিটা দিলেন। সন্তোষ সেনগুপ্ত তা দেখে বললেন, ‘বসুন।’ তারপর চা–বিস্কুট এল। ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার দিকে একটা ব্রেক হলো। সে সময় হাতের কাছে একটা হারমোনিয়াম দেখে যেন পাগল হয়ে গেলেন লাকী আখান্দ্। চারদিক ভুলে একমনে বাজাতে লাগলেন হারমোনিয়াম এবং একের পর এক গাইতে লাগলেন গান।

default-image

সুরকার ও গীতিকার অভিজিৎ ব্যানার্জি (হেমন্তের কণ্ঠে যাঁর বিখ্যাত গান ‘সবাই চলে গেছে শুধু একটি মাধবী তুমি’ ও ‘আমিও নদীর মতো হারিয়ে যাব’) লাকী আখান্দের সাক্ষাৎকার নিলেন। শিল্পীরাও লাকীর গান শুনতে ভিড় করেছেন ওই ঘরে। এ সময় হাসতে হাসতে সন্তোষ সেনগুপ্ত সেখানে হাজির হলেন। বললেন, ‘তোমার জন্য শিল্পী ঠিক করে ফেলেছি। বনশ্রী সেনগুপ্ত আর গোরাচাঁদ মুখার্জি দুটো করে তোমার সুরে গান গাইবেন!’ এইচএমভিতে এভাবেই ঢুকে গেলেন এই তরুণ। হাওড়া সার্কিট হাউসের একচিলতে ঘরে থাকার ব্যবস্থাও হয়ে গেল লাকী আখান্দের।

‘যে বয়সে মানুষ শেখে, সেই বয়সে তিনি সংগীত নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন। অন্যকে শেখাতে শুরু করেছিলেন, কীভাবে সুরের সঙ্গে যন্ত্রের সম্মিলন ঘটাতে হয়। কী করে মানুষের হৃদয় স্পর্শ করা গান তৈরি করতে হয়, সেই দক্ষতা তিনি ওই বয়সেই অর্জন করেছিলেন। আমাদের দুর্ভাগ্য, দীর্ঘদিন এই সৃজনশীল শিল্পীর সৃষ্টিকর্ম থেকে আমরা বঞ্চিত ছিলাম। তাঁর কাছ থেকে বাংলাদেশ যা পেতে পারত, এর অনেকটাই অপূর্ণ রয়ে গেল। তবে তিনি যতটুকু সৃষ্টি করেছেন, সেটুকু কম নয়। লাকী আখান্দ্ বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের শিল্পীদের কণ্ঠে এবং লাখ লাখ শ্রোতার হৃদয়ে।

default-image

লাকী আখান্দ্ স্মরণে এভাবেই বলেছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংসদ ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।
আজকের দিনটি সে কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে, লাকী আখান্দ্ বেঁচে থাকবেন বাংলাদেশের শিল্পীদের কণ্ঠে এবং লাখ লাখ শ্রোতার হৃদয়ে। পাড়া, মহল্লা বা অভিজাত তারকা হোটেলের মিলনায়তনে, এমন কোনো অনুষ্ঠান হয় না, যেখানে তাঁর গান গাওয়া হয় না, তাঁর সুর বাজে না। বেশির ভাগ আসর শুরু হয় ‘আবার এল যে সন্ধ্যা’ গান দিয়ে। এভাবে ‘আবার এল যে সন্ধ্যা’, ‘নীল মণিহার’ বা ‘কবিতা পড়ার প্রহরে’ তিনি বেঁচে থাকবেন যুগের পর যুগ।

default-image
মন্তব্য করুন