default-image

বুধবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতের প্রখ্যাত ধ্রুপদি সংগীতশিল্পী, পদ্মভূষণ পণ্ডিত দেবব্রত চৌধুরীর শারীরিক পরিস্থিতির কথা জানিয়ে সহায়তা চেয়েছিলেন পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, ‘পদ্মভূষণ পণ্ডিত দেবু চৌধুরীর অবস্থা সংকটজনক। কেউ কি দিল্লির কোনো হাসপাতালে একটা বেডের ব্যবস্থা কিংবা একটা অক্সিজেন সিলিন্ডারের ব্যবস্থা করতে পারবেন?’ বহু মানুষই সৃজিতের পোস্টে মন্তব্য করে খোঁজ দেওয়ার চেষ্টা করেন। অক্সিজেন মিলেছিল, হাসপাতালেও ভর্তি করানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি, পৃথিবীর বাতাসে শেষনিশ্বাস ফেললেন পণ্ডিত দেবু চৌধুরী। তাঁর প্রকৃত নাম দেবব্রত চৌধুরী, দেবু চৌধুরী নামেই পরিচিত ছিলেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

করোনা মহামারিকালে প্রতিবেশী দেশ ভারত ভয়াবহ সংকটের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতের বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনে বারবার করোনা হানা দিচ্ছে। প্রায়ই শোনা যায়, নানা অঞ্চলের তারকা, সংস্কৃতি অঙ্গনের মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। সেই তালিকায় যোগ হয়েছে শাস্ত্রীয় সংগীতের উজ্জ্বল এক নক্ষত্র। শনিবার সকালে চলে গেলেন দেবব্রত চৌধুরী। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।

default-image

ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় দিল্লির একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল অশীতিপর পণ্ডিত দেবব্রত চৌধুরীকে। তবে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যাতেও ভুগছিলেন এই শিল্পী। প্রতিদিনই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। শিল্পীর শরীরে অক্সিজেন স্যাচুরেশন ক্রমে কমতে থাকে। শুক্রবার বিকেলের পর থেকে দেবব্রত চৌধুরীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। অবশেষে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়।

শিল্পীপুত্র প্রতীক চৌধুরী ফেসবুক পোস্টে দেবব্রত চৌধুরীর মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাবা দেবব্রত চৌধুরী আর বেঁচে নেই। কোভিড নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি, তাঁর ডিমেনশিয়াও ছিল। আইসিইউতে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে ছিলেন বাবা। চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ও সকলের প্রার্থনা সত্ত্বেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। ভারতীয় সংগীতজগৎ ও সেতারের দুনিয়ায় অপূরণীয় ক্ষতি।’

default-image

সেতারবাদকের পাশাপাশি দেবব্রত চৌধুরী একজন শিক্ষাবিদ ও সম্পাদকও ছিলেন। সেনিয়া ঘরানায় সেতার বাজাতেন পণ্ডিত দেবব্রত চৌধুরী। ১৯৩৫ সালে বর্তমান বাংলাদেশের ময়মনসিংহে জন্ম দেবু চৌধুরীর। খুব অল্প বয়সেই সেতার বাজানোর প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু দেবু চৌধুরীর। মাত্র ১৮ বছর বয়সে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে প্রথমবার তাঁর অনুষ্ঠান সম্প্রচারিত হয়।

বিজ্ঞাপন

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কৃতী ছাত্র দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানকার মিউজিক বিভাগের প্রধান ছিলেন তিনি। সেতারবাদাক উস্তাদ মুস্তাক আলী খানের এই গুণী ছাত্র গত বছরই নিজের গুরুর নামে দিল্লিতে একটি মিউজিক স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন। দেশ-বিদেশের নানান জায়গায় ভারতীয় ধ্রুপদি সংগীতের মাহাত্ম্য পৌঁছে দিয়েছেন ৮৫ বছর বয়সী এই সেতারবাদক। মার্কিন মুলুকে চব্বিশ ঘণ্টায় ২৪টি সিডির জন্য রেকর্ডিং সেরে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন তিনি। রবিশঙ্করের সমসমায়িক হয়েও সেতারপ্রেমীদের মনে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। সংগীতজগতে তাঁর অসামান্য অবদানের জন্য পদ্মভূষণ, পদ্মশ্রী ও সংগীত নাটক আকাদেমি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন এই মহান শিল্পী। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি সম্মান অর্জন করেছেন।

এর আগে গত ২৫ এপ্রিল রোববার দিল্লিতে মারা গেছেন সমকালীন খ্যাতনামা শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী পদ্মভূষণ পণ্ডিত রাজন মিশ্র। ৭০ বছরের এই শিল্পীর মৃত্যুতে ভেঙে যায় ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের দিকপাল হিসেবে চিহ্নিত রাজন-সাজন জুটি।

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন