ব্যক্তিগত জীবনের অনূভুতির গল্প নিয়ে বই লিখেছেন অভিনয়শিল্পী ও গায়ক তাহসান খান। তাঁর জীবনের অনেক অপ্রকাশিত ঘটনা রয়েছে বইটিতে। ইতিমধ্যে পাঠকদের প্রশংসা পাচ্ছে বইটি। গত বছর লকডাউনে বইটি লেখার কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। আজ ১৪ এপ্রিল পয়লা বৈশাখ থেকে আবার শুরু হয়েছে লকডাউনের কড়াকড়ি। এবারও নতুন বই লেখার প্রস্তুতির মধ্য দিয়েই দিনটা কাটাবেন এই গায়ক।

default-image

করোনার কারণে আপতত নাটকের সব শুটিং স্থগিত। তাই তাহসানের বেশির ভাগ সময়ই কাটছে বাসায়। এবার পয়লা বৈশাখেও নেই আলাদা কোনো আয়োজন। প্রতিদিনের মতোই দিনটি কাটবে। এই মুহূর্তে তিনি দেশের পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত। তাহসান বলেন, ‘এবার বৈশাখে একদমই কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশের করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে। এই সময় ঘরে থাকা জরুরি। রোজা রাখব, এবারের লকডাউনেও বাসায় লেখালেখিটা করব। আমার “অনূভুতির অভিধান” বইয়ের পরে নতুন বই লেখার কাজ শুরু করব।’

বিজ্ঞাপন

এ বছর বইমেলায় প্রকাশিত নিজের লেখা ‘অনূভুতির অভিধান’ বইটি নিয়ে দারুণ খুশি এই গায়ক ও অভিনয়শিল্পী। বইটি নিয়ে দর্শক প্রতিক্রিয়া খুব ভালো বলেও জানালেন তিনি। এই বইয়ে উঠে এসেছে অনুশোচনা, আস্থা, অনুপ্রেরণা, দ্বিধা, কৌতূহল, বিস্ময়, আতঙ্ক, অহংকার, সহমর্মিতা, অপমানসহ ২০টি অনূভুতির গল্প। যে গল্পগুলো একান্তই তাঁর জীবনে ঘটা নানা ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত। তাঁর শৈশব, পড়াশোনা, কর্মজীবন, বিবাহবিচ্ছেদ থেকে শুরু করে অনেক বিষয় স্থান পেয়েছে বইটিতে। ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঘটনার সাবলীল উপস্থাপনা নিয়ে পাঠক প্রশংসা করেছেন।

default-image

সাবেক স্ত্রী মিথিলার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর কিছু মানুষের কর্মকাণ্ডে মানসিকভাবে কষ্ট পেয়েছিলেন তাহসান। সেই বিচ্ছেদ ছিল মানসিক পীড়া সহ্যের এক চরম পরীক্ষা। সেই অনুভূতির গল্প তিনি লিখেছেন ‘অপমান’ চ্যাপ্টারে। সেখানে তাহসান লিখেছেন, ‘বিচ্ছেদ মানেই দোষারোপের প্রতিযোগিতা, সেই কাজটা যে আমি করব না, তা শুরু থেকেই জানতাম। আর সে কারণেই মুখ বুজে গল্পগুলো হজম করা। কিছু গল্পে আমি খলনায়ক আর কিছু গল্পে আমার প্রাক্তন। পেপার পত্রিকা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কত সৃজনশীল লেখকের আবির্ভাব। আমি শুধু নীরব।’

default-image

‘অনুভূতির অভিধান’ লেখাটা তাহসানের জন্য চ্যালেঞ্জের ছিল। তিনি দেশের একজন পরিচিত মুখ। অনেকেই মনে করবেন, দর্শক, শ্রোতা যাঁরা আছেন, তাঁরাই শুধু বইটি কিনবেন। অনেকেই তাঁকে গালিগালাজ করবেন। এমন নেতিবাচক কথা ভেবেই তিনি অনেক বছর আগেই গল্প–উপন্যাসের বই লিখতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেন। গত বছর লকডাউনে তিনি সময়টা কাজে লাগান। তাহসান বলেন, ‘এখানে আমার অনেক গল্প আছে, যা কোনো সাক্ষাৎকারে বলা হয়নি। সেগুলোই আমি লিখে প্রকাশ করেছি। যাঁদের বই পড়ার অভ্যাস আছে, তাঁদের ভালো লাগবে। আমার বইটি পড়ে যদি কারও মধ্যে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, তাহলেই আমার সার্থকতা।’

default-image

তাহসান একসময় করপোরেট চাকরি ছেড়ে ঝুঁকি নিয়ে গান করেছিলেন। সেটা ছিল তাঁর জীবনের সেরা সিদ্ধান্ত। শ্রোতারা তাঁর গান পছন্দ করেছিলেন। অভিনয়কেও সাদরে গ্রহণ করেছেন। সৃজনশীল কাজ তাঁকে সব সময়ই টানে। সব কাজের পাশাপাশি নিয়মিত বই লিখে যেতে চান। করোনা পরিস্থিতি বুঝেই আবার শুটিংয়ে ফেরার সিদ্ধান্ত নেবেন। আপাতত ঘরেই থাকবেন।

default-image
বিজ্ঞাপন
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন