default-image

প্রকাশিত হয়েছে শিল্পী অণিমা রায়ের কণ্ঠে আরেকটি গান। অতুলপ্রসাদ সেনের ‘বঁধুয়া নিদ নাহি আঁখি পাতে’ শিরোনামের গানটির সংগীতায়োজন করেছেন কলকাতার প্রখ্যাত সংগীত পরিচালক প্রত্যুষ বন্দ্যোপাধ্যায়। ইয়ামিন ইলানের নির্দেশনায় গানটির মিউজিক ভিডিও নির্মাণ করা হয় মানিকগঞ্জের জমিদারবাড়িতে।

নতুন গান প্রকাশ প্রসঙ্গে সংগীতশিল্পী অণিমা রায় বলেন, ‘পাঁচ কবির বিভিন্ন গান আমি মঞ্চে নিয়মিত গাই। এ ছাড়া একাধিক টিভি চ্যানেলেও গেয়ে থাকি। সেখান থেকে প্রায়ই অনুরোধ আসে আমার কণ্ঠে এসব গানের কোনো রেকর্ড আছে কি না। সেই থেকেই বিষয়টির তাগিদ অনুভব করি। একজন শিল্পী হিসেবে আকুতি থাকে, ভালো কিছু গান কণ্ঠে ধারণ করার। ধ্রুব মিউজিক স্টেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তারা নিয়মিতভাবে গানের পৃষ্ঠপোষকতা করে আসছে।’

বিজ্ঞাপন

গানটি প্রসঙ্গে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ধ্রুব গুহ বলেন, ‘আমরা সব সময় বাণিজ্যিক গানের পাশাপাশি যাঁরা এ ধরনের মূলধারার গানের চর্চা করে থাকেন, তাঁদের নিয়ে কাজ করে আসছি। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অণিমা রায় খুব ভালো গান করেন। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা করার দায়িত্ব আমাদেরই। আশা করি আমাদের এই প্রয়াস সবার ভালো লাগবে।’

default-image

অণিমার দুটো স্কুল। সুরবিহার সংগীত আর অঙ্কন পাঠশালা। করোনায় দুটোকেই জুম ডটকমের মাধ্যমে নিয়ে আসেন অনলাইনে। এখন কেবল ঢাকা নয়, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, রাজশাহী, সিলেট থেকেও ছাত্ররা যোগ দিচ্ছে এই অনলাইন কোর্সে। অণিমার এই স্কুলে এখন পাঁচজন মার্কিন ছাত্রও আছে। তাদের সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে রাতে ক্লাস নেওয়া হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশি বাচ্চাদের দিনে অনলাইন স্কুল থাকায় তারা যথারীতি বিকেলের দিকে নাচ, গান, ছবি আঁকা, গিটার, কি-বোর্ড শেখে। অণিমার ভাষায়, ‘বাচ্চারা তো এমনিতেই মোবাইল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ভালোবাসে। ওরা ব্যাপারটাতে খুবই আগ্রহী। সবাই বেশ মজা করেই ক্লাস করছে।’

শুরুতে অণিমা অনলাইন স্কুলের বিষয়ে অতটা আগ্রহ দেখাননি। কিন্তু তাঁর স্কুলের শিক্ষকদের কীভাবে চলবে? এটি ভেবেই শুরু করলেন। আর এখন তো এই অনলাইন পাঠশালা বেশ চলছে। সঙ্গে সংসারের সব কাজও নিজ হাতে করতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যস্ততায় কেটে যাচ্ছে অণিমার দিন, অণিমার রাত। তবে সামগ্রিকভাবে জাতিগত বিষণ্নতা বা শিল্পীর বৈশ্বিক হতাশা যে তাঁকে স্পর্শ করেনি, তা নয়।

default-image

রবীন্দ্রনাথের ১৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে গত বছরের মে মাসে ‘আগুনের পরশমণি’ গানটি একেবারে ভিন্নভাবে নিয়ে এসেছেন তিনি। মিউজিক ভিডিওতে দেখা গেছে, লকডাউনে ইতালি ও বাংলাদেশের ফাঁকা শহর আর রাস্তা। সংগীতায়োজন করেন দেবজ্যোতি মিশ্র। গানটি সম্পর্কে অণিমা রায় বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথকে ধারণ করেই বেঁচে আছি। করোনায় বিশ্বের সব ধর্মের, সব কর্মের মানুষের আর্তি একটি বিন্দুতে মিলেছে—শূন্যতা আর বিয়োগের অবসান! রবীন্দ্রনাথ তো তাঁর কাজের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষকে ছুঁতে চেয়েছেন। তিনি সব সময়ের, সব মানুষের। তাই রবীন্দ্রনাথের জন্মদিবসে মানব মনের হাহাকারের এই ধ্বনিকে আমি প্রকাশ করতে চেয়েছি আমার রবীন্দ্র আরাধনায়।’

বিজ্ঞাপন
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন