বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

গত মঙ্গলবার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইতে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৪। ৬ মাস ধরেই কিডনির অসুখে ভুগছিলেন শিবকুমার শর্মা। ডায়ালাইসিস চলছিল। বুধবার বিকেলে মুম্বাইয়ের পবন হংস শ্মশানে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয় শিবকুমারের।

default-image

‘এই ছবিই আমাদের দেশ। এই আমাদের দেশের ছবি।’ ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার ‘জ্বলছে সন্তুর-সম্রাটের নশ্বর দেহ, যুগাবসান দেখছেন একা সুলতান’ শীর্ষক একটি সংবাদের শুরুটা করেছে এ দুটি বাক্য দিয়ে। ছবিতে দেখা গেল ভারতের জাতীয় পতাকায় মোড়া শিবকুমারের দেহ। কাঁধে নিয়ে এগিয়ে চলছেন তবলার কিংবদন্তি জাকির হুসেন। এ সংবাদটি মূলত শিবকুমারের শেষকৃত্য নিয়ে হলেও পুরো সংবাদেই এসেছে ওস্তাদ জাকির হুসেনের আর শিবকুমারের সম্পর্কের রসায়ন। একসময়ে যে জুটির সংগতে দর্শক-শ্রোতা মুগ্ধ হয়েছেন, শিবকুমারের অন্তিম যাত্রাতেও হাজির যেন জাকির প্রকৃত বন্ধুর কর্তব্য পালন করলেন। আরেক ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, ‘এই ছবি ভারতের ভিন্ন রাজ্যে চলতে থাকা হিন্দু-মুসলিম বিভেদনীতির যোগ্য জবাব।’

তাঁদের ভাষায়, বিবিধের মধ্যে এই মহান মিলন-ই তো আসল ভারত। শিল্প যেমন কাঁটাতার, সীমান্ত, জাত-বর্ণবিদ্বেষের ঊর্ধ্বে। শিল্পীদের ক্ষেত্রেও যে সে কথা প্রযোজ্য, তা আবারও প্রমাণ করল শিবকুমারের অন্তিমযাত্রায় জাকিরের কর্তব্য পালনের ছবি।

default-image

বুধবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত ছেলে রাহুলের বাড়িতে শায়িত ছিল সংগীতজ্ঞের মরদেহ। সেখানেই শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অনুরাগীরা। সেখানেই সন্তুর–সম্রাটকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন জয়া-অমিতাভ বচ্চন, জাভেদ আখতার, শাবানা আজমী, সংগীত পরিচালক জুটি যতীন-ললিত, থেকে শুরু করে আরও অনেকে। ছিলেন ‘শিব-হরি’ জুটির হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়াও। তবে সব ছাপিয়ে এদিন সবার আগ্রহের বিষয় হয় তবলা ওস্তাদ জাকির হুসেনের উপস্থিতি।
শিবকুমার শর্মা ১৯৩৮ সালের ১৩ জানুয়ারি ভারতের জম্মুতে জন্মগ্রহণ করেন। সংগীতের আবেশেই বড় হয়ে ওঠেন তিনি। বাবা উমা দত্ত শর্মা ছিলেন একজন প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী। মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই শিবকুমার শর্মা তাঁর বাবার কাছ থেকে সংগীত ও তবলার প্রশিক্ষণ নেওয়া শুরু করেন। দিনে দিনে শিবকুমারের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে সারা দুনিয়ায়। তাঁর জাদুকরি স্পর্শে প্রায় অচেনা শততন্ত্রী বীণাই হয়ে ওঠে বহুল পরিচিত ও জনপ্রিয় বাদ্যযন্ত্র ‘সন্তুর’। জম্মু ও কাশ্মীরের সেই ছোট্ট বাদ্যযন্ত্রটি নিয়েই তিনি বিশ্বের শাস্ত্রীয় সংগীত দুনিয়ায় ঘটিয়েছেন সুর লহরির শ্রুতিমধুর বিপ্লব।

default-image

কিংবদন্তি বাঁশিবাদক পণ্ডিত হরিপ্রসাদ চৌরাসিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে বলিউডে সিলসিলা, লামহে, চাঁদনি, ডরসহ একাধিক ছবির সংগীত পরিচালক হিসেবে কালজয়ী সুর সৃজন করেছেন। দুজনের এ জুটি বিখ্যাত হয়ে যায় ‘শিব-হরি’ নামে। এই দুজনের সঙ্গে যোগ হন গিটারিস্ট বৃজভূষণ কাবরা। তিনজন মিলে ১৯৬৭ সালে প্রকাশ করেন কনসেপ্ট অ্যালবাম কল অব দ্য ভ্যালি। বিশ্বজুড়ে দারুণ প্রশংসিত হয় এই অ্যালবাম।
বাংলাদেশেও পণ্ডিত শিবকুমার শর্মার বহু অনুরাগী রয়েছেন। ঢাকায় বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসবের ২০১২ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত ছয়টি আসরেই তিনি অংশ নিয়েছেন। তাঁর অতুলনীয় বাদনে শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন পণ্ডিত শিবকুমার শর্মা। ঢাকার শ্রোতাদের সারা রাত জেগে উচ্চাঙ্গসংগীত শ্রবণে তিনিও মুগ্ধ ছিলেন। বাদনের শুরুতে বারবার এ কথা বলে শ্রোতাদের প্রশংসা করতেন।

default-image
গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন