বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
default-image

পুষ্প বলেন, ‘অনেক আগে মায়ের পেটে একটা অপারেশন হয়েছিল। অপারেশনের সেই জায়গাটা হঠাৎ করেই ফুলে উঠেছে। প্রচণ্ড ব্যথায় অজ্ঞানের মতো হয়ে যান। তিন দিন ধরেই তাঁর শারীরিক অবস্থা ভালো না। এর মধ্যেই গান গাওয়ার আমন্ত্রণ পান। কিন্তু অনুষ্ঠানস্থলে গিয়েও মা গাইতে পারলেন না। বেশ কয়েকবার চেষ্টা করলেন, কিন্তু কোনো লাভ হলো না। স্টেজেই উঠতে পারলেন না। মায়ের মনটাই খারাপ হয়ে গেল। পরে বাধ্য হয়েই আমি মায়ের “বুড়ি হইলাম তোর কারণে”, “আমার লাউয়ের পিছে লাগছে বৈরাগী” এই দুটি গান গেয়েছি।’ কোথায়ও আমন্ত্রিত হয়ে গেছেন, অথচ গান করেননি, এমনটি কাঙালিনী সুফিয়ার জীবনে আগে হয়নি। ভক্তদের অনুরোধে প্রতিবারই তাঁকে আরও গান গাইতে হয়েছে। এবার আর ভক্তদের মন রাখতে পারলেন না। মন খারাপ করেই রাত ১১টার পরে বাসায় ফেরেন সুফিয়া।

default-image

আমাদের অনুরোধে মা কাঙালিনী সুফিয়াকে ফোনে ধরিয়ে দিলেন পুষ্প। দুর্বল কণ্ঠে ভাঙা ভাঙা গলায় এই বাউলশিল্পী বললেন, ‘হ্যালো, আমি অসুস্থ। সেদিন শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে গান গাইতে পারি নাই। ভেতরে ভেতরে অনেক কষ্ট পাইতেছিলাম। আর কি গান গাইতে পারুম না। আপনি কই থেকে বলছেন?’ কাঙালিনী সুফিয়াকে তিনবার বলা হলো ‘প্রথম আলো থেকে কথা বলছি’ কিন্তু তিনি ফোনের কথাগুলো তেমন শুনতে পেলেন না। তিনি এখন কানেও কম শোনেন।

পরে পুষ্প বলেন, ‘মা এমনিতে টুকটাক কথা বলতে পারেন। কিন্তু আগে যেমন ইচ্ছা হলেই দোতারাসহ বা খালি গলায় গান গাইতেন, সেটা আর পারেন না। আগে মন চাইলেই বাসায় গান ধরতেন। সেটাও অনেক দিন ধরে বন্ধ। এমনিতেই বয়স বাড়ছে। তার ওপর দীর্ঘদিন ধরে কিডনি, হার্ট ও মস্তিষ্কের গুরুতর কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সেগুলোর ওষুধ নিয়মিত কিনতে না পেরে তাঁর শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। চিকিৎসাও দিতে পারছি না। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, ভালো চিকিৎসা হলে আবারও হয়তো তিনি গান গাইতে পারবেন। চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। কিন্তু এভাবে চিকিৎসা ছাড়া চললে মা আর গান গাইতে পারবেন না। এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করে আছি।’

default-image

কাঙালিনী সুফিয়ার জন্ম ১৯৬১ সালে। প্রকৃত নাম টুনি হালদার। ‘কোনবা পথে নিতাইগঞ্জ যাই’, ‘বুড়ি হইলাম তোর কারণে’, ‘নারীর কাছে কেউ যায় না’, ‘আমার ভাটি গাঙের নাইয়া’সহ বেশ কিছু জনপ্রিয় গানের তিনি শিল্পী। গ্রামের অনুষ্ঠানে গান গেয়ে ১৪ বছর বয়সে মানুষের নজর কাড়েন। একসময় বাংলাদেশ টেলিভিশনেরও নিয়মিত শিল্পী ছিলেন। তাঁর গানের গুরু গৌর মহন্ত ও দেবেন খ্যাপা। হালিম বয়াতির কাছেও গান শিখেছিলেন তিনি। এ পর্যন্ত ৩০টি জাতীয় ও ১০টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন এই শিল্পী।

গান থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন