স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী বিপুল ভট্টাচার্য্যের আজ দ্বিতীয় প্রয়াণ দিবস। তাঁকে আজ স্মরণ করছেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের আরেক শিল্পী ডালিয়া নওশীন
default-image

আমি বলছি ১৯৭১ সালের এপ্রিল-মে মাসের কথা। কলকাতার ১৪৪ ধর্মতলা স্ট্রিটে একটি স্কোয়াড গঠন করলেন সন্জীদা খাতুন ও ওয়াহিদুল হক। নাম ‘মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’। সেখানে প্রথম দিকে আমরা ১০-১২ জন শিল্পী ছিলাম। পরে অবশ্য একটা সময় স্কোয়াডের সদস্যসংখ্যা ১৫০ ছাড়িয়ে যায়। শুরুর দিক থেকে আমাদের সঙ্গে ছিল বিপুল। তবলাশিল্পী দেবুদার সঙ্গে ওর খুব ভাব ছিল। কথায় কথায় ঝগড়া লাগত, আবার বনিবনাও হয়ে যেত জলদি। আমরা সবাই কাছাকাছি বয়সের ছিলাম। বিপুলের উদ্যম ছিল বলার মতো। বিপুলের গান গাওয়ার দারুণ জোশ ছিল। তার গান আমাদের সবার রক্ত গরম করে রাখত। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও আমরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ ছিলাম। বিপুলের কখনো কিছু বলার থাকলে তা আমাকে কিংবা শাহীন (শাহীন সামাদ) আপাকে বলত। আমরাও আমাদের কথা বিপুলকে বলতাম। বিপুল খুব খেতে ভালোবাসত। আমরা বেড়াতে গেলেই ওর বউকে দিয়ে ও নানা কিছু রান্না করাত। এমনকি বিপুল যখন ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছিল, তখনো সে এমনই ছিল। তবে বিপুলের মনের গভীরে খুব আক্ষেপ, ক্ষোভ আর কষ্ট ছিল। সে যেভাবে গানকে গাইত, সাধনা করত, গানকে ভালোবাসত, শিল্পী হিসেবে সে সেভাবে মূল্যায়ন পায়নি। এই কষ্ট তার জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তাকে যন্ত্রণা দিয়েছে। অনুলিখিত

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0