নভেম্বরে বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব

বিজ্ঞাপন
default-image

অনেকের মতে, গত তিন বছর ধরে আয়োজিত ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব’ শিল্পী ও দর্শকের অংশগ্রহণের বিচারে এরই মধ্যে এই উপমহাদেশে তথা বিশ্বে সবচেয়ে বড় পরিসরের উচ্চাঙ্গসংগীত আসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আগামী ২৭ নভেম্বর থেকে ঢাকায় চতুর্থবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ‘বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব বাংলাদেশ’। এ বছরও উৎসব পাঁচ দিনের। ২৭ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এ উৎসব। এবারের উৎসব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান চিত্রকর শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর স্মৃতির প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে।
আজ দুপুরে রাজধানীর একটি তারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এবারের উৎসবের বিস্তারিত জানান হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী। আরও বক্তব্য দেন বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সভাপতি আবুল খায়ের, ব্র্যাক ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, রবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, স্কয়ার টয়লেট্রিজের বাজারজাতকরণ বিভাগের প্রধান মালিক মোহাম্মদ সাঈদ, মাছরাঙা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ফাহিম মোনায়েম।
সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, এবারের উৎসবে যোগ দিতে বাংলাদেশে আসছেন প্রবাদপ্রতিম শিল্পী ওস্তাদ জাকির হোসেন। তিনি একক তবলা বাদন পরিবেশন করবেন। এবারের অন্য নতুন শিল্পীরা হচ্ছেন বাঁশিশিল্পী জয়াপ্রদা রামমূর্তি। প্রথমবারের মতো আসছেন খ্যাতিমান কর্ণাটকি কণ্ঠশিল্পী পদ্মবিভূষণ বালমুরালীকৃষ্ণ। তিনি এবারের প্রবীণতম শিল্পী। তাঁর সঙ্গে বাঁশিতে যুগলবন্দী বাজাবেন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড নমিনি শিল্পী রনু মজুমদার। উৎসবে প্রথমবারের মতো আরও আসছেন জনপ্রিয় খেয়ালিয়া শুভা মুডগাল ও শ্রুতি সাদোলিকার ও ধ্রুপদিয়া ওয়াসিফউদ্দিন ডাগর। এন রাজমের নেতৃত্বে আসছেন কর্ণাটকি ধারার তিন প্রজন্মের বেহালা শিল্পী। কুচিপুডি নৃত্য পরিবেশন করবেন বিশিষ্ট দম্পতি রাজা ও রাধা রেড্ডি। উৎসবে নতুন যন্ত্র হিসেবে থাকছে সরস্বতী বীণা। পরিবেশন করবেন জয়ন্তী কুমারেশ। প্রায় বিলুপ্ত এসরাজ বাজিয়ে শোনাবেন শুভায়ু সেন মজুমদার।
দুই বছর আগে এই উৎসবে গেয়েছিলেন অস্কার মনোনয়নপ্রাপ্ত শিল্পী বম্বে জয়শ্রী। তিনি এবারও আসবেন। ভরতনাট্যম পরিবেশন করেছিলেন আলারমেল ভালি। এবার গণেশ ও তাঁর ভাই কুমারেশ কর্ণাটকি বেহালায় যুগলবন্দী বাজাবেন। কড়াইকুডি মানি বিশ্বের অন্যতম মৃদঙ্গশিল্পী হিসেবে স্বীকৃত। গত বছর বাজিয়ে সকলের প্রশংসা অর্জন করেন। তিনি ও তাঁর দল এ বছরও ঢাকায় বাজাবেন।
বিগত বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও প্রথিতযশা শিল্পী পণ্ডিত হরি প্রসাদ চৌরাসিয়া, শিবকুমার শর্মা, পণ্ডিত চক্রবর্তী, সুরেশ তালওয়ালকার, উল্লাস কশলকার, তেজেন্দ্রনারায়ণ মজুমদার ও ওস্তাদ রশিদ খান অংশ নেবেন। জনপ্রিয় শিল্পী রাহুল শর্মা ও কৌশিকী চক্রবর্তীসহ উদয় ভাওয়ালকার ও সামিহান কশলকারও এবার থাকবেন।
অনুষ্ঠানের সর্বকনিষ্ঠ দুজন শিল্পী ফাহমিদা নাজনীন ও মোহাম্মদ ভুবন। তাঁরা দুজনেই বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের দলীয় তবলা পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করবেন।
উৎসবে বাংলাদেশি শিল্পীদের তালিকায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংগীত বিভাগের অসিত রায়ের পরিচালনায় সংগীত বিভাগ আটজনের একটি দলীয় পরিবেশনা উপস্থাপন করবে। বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী ও সংগঠক মিনু বিল্লাহর পরিচালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের ২২ জন নৃত্যশিল্পী। ওয়ার্দা রিহাবের পরিচালনায় মণিপুরী দলীয় নৃত্য পরিবেশন করবেন ৩০ জন নৃত্যশিল্পী।
অনিমেষ বিজয় চৌধুরীর পরিচালনায় সিলেটের আটজন শিল্পী পরিবেশন করবেন ধামার। সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, দলীয় পরিবেশনা সফল করার লক্ষ্যে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন এ মাস থেকেই তাঁদের বিশেষ প্রশিক্ষণ ও অনুশীলনের ব্যবস্থা করেছে। এককভাবে মঞ্চে আসবেন বিশিষ্ট সরোদশিল্পী ইউসুফ খান। দলীয় তালবাদ্য পরিবেশন করবেন বেঙ্গল পরম্পরা সংগীতালয়ের শিশুশিল্পী মোহাম্মদ ভুবন, ফাহমিদা নাজনীন, সুপান্থ মজুমদার ও পঞ্চম স্যানাল।
বেঙ্গল ফাউন্ডেশন আয়োজিত বেঙ্গল উচ্চাঙ্গসংগীত উৎসব বাংলাদেশ ২০১৫-এর নিবেদক স্কয়ার গ্রুপ। আয়োজনে সহযোগিতা করছে ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড। টেলিকম সহযোগী হিসেবে আছে রবি আজিয়াটা লিমিটেড। সম্প্রচার সহযোগী হিসেবে রয়েছে মাছরাঙা টেলিভিশন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন